প্রধান শিক্ষক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ণ
এক বছর ধরে ঝুলে আছে প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা
এক বছর ধরে ঝুলে আছে প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট নিরসনে এক বছর আগে এক হাজার ১২২টি পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে আবেদন করেছিল প্রায় সাত লাখ চাকরিপ্রার্থী। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) পরীক্ষার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি আইনি জটিলতায় আটকে যায়। সম্প্রতি সেই আইনি বাধা দূর হলেও পিএসসি এখনো পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করতে পারেনি। চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় হতাশ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পরও পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ না করায় তাদের প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। পিএসসি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ২ হাজার ১৬৯টি শূন্য পদ পূরণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে পরবর্তীতে বিধিমালা সংশোধন করে মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান তৈরি করা হয়। ফলে সরাসরি নিয়োগের জন্য নির্ধারিত পদের সংখ্যা কমে ১ হাজার ১২২টিতে দাঁড়ায়।কবে নাগাদ নিয়োগ পরীক্ষা হবে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়োগ পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। পিএসসি তাদের সুবিধা অনুযায়ী পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা ঢাকা কেন্দ্রে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি মূলত রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই ১ হাজার ১২২ পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লাখ প্রার্থী। সে হিসাবে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে লড়বেন ৬২৪ জন। বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর এই পরীক্ষা পুরোপুরি ঢাকায় আয়োজনের কথা রয়েছে। এত বড় পরিসরের পরীক্ষা এক দিনে আয়োজনও একটি বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ৯০ নম্বরের লিখিত এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রার্থীদের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজার ৪৫৭টি অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৫৯টি পদে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৪
২১ মন্তব্য