Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

হাভার্ডের ল্যাবে জীবনের নতুন নকশা।

হাভার্ডের ল্যাবে জীবনের নতুন নকশা

কোটি কোটি বছর ধরে প্রকৃতি জীবনের যে আদিম ভাষা তৈরি করেছে, তা একটি কঠোর ব্যাকরণে বাঁধা। আদিম পৃথিবীর উত্তপ্ত মহাসাগরে প্রাণের প্রথম স্ফুরণ থেকে শুরু করে আজকের যেকোনো জীব একই নিয়মে চলছে। জীবজগতের প্রতিটি প্রাণীর দেহকোষ প্রোটিন তৈরির জন্য মাত্র ২০টি প্রাকৃতিক অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ৬৪টি জেনেটিক কোডনের ওপর নির্ভর করে। এই ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড হলো জীবনের বর্ণমালা, যা দিয়ে পৃথিবীর সব প্রোটিনের রূপরেখা লেখা হয়।


কোষের ভেতরে প্রোটিন তৈরির মূল কারখানাটিকে আমরা বলি রাইবোজোম। সৃষ্টির শুরু থেকেই এটি বেশ রক্ষণশীল আচরণ করে আসছে। জীববিজ্ঞানে এতদিন ধারণা করা হতো, রাইবোজোম কেবল সেই টি-আরএনএ অণুগুলোই গ্রহণ করবে, যাদের শেষে থ্রি-প্রাইম সিসিএ (3' CCA) নামে একটি নির্দিষ্ট সিকোয়েন্স যুক্ত থাকে। এটি মূলত কোষের একটি ছাড়পত্র হিসেবে কাজ করে। অন্য কোনো সিকোয়েন্স থাকলে রাইবোজোম তা ত্রুটিপূর্ণ বলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দিত।


যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানীরা ভেবেছেন, শত শত কোটি বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা জীবনের এই আণবিক সীমানা হয়তো পরম এবং অলঙ্ঘনীয়। প্রকৃতি যেন তার এই নকশায় কোনো ধরনের মানুষের হস্তক্ষেপ বা পরিবর্তন সহ্য করতে প্রস্তুত নয়। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সীমানা পেরিয়ে নতুন অক্ষর যোগ করে কৃত্রিম প্রোটিন বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু জীবন্ত কোষে এত বড় পরিবর্তন আনার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল কোষের টিকে থাকা। কারণ, জিনোমে বড় কোনো রদবদল করলে কোষ সাধারণত মারা যায়।

মন্তব্য করুন