Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ

"বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও, আমি কাউকে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চাইনে। " — প্রমথ চৌধুরী

"বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও, আমি কাউকে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চাইনে। প্রথমত এইজন্য যে, সাহিত্যচর্চা শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হলেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তার কোনো সুসম্পর্ক নেই।"প্রমথ চৌধুরীসহজ ভাষায় বক্তব্যের অর্থ

প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, বই পড়া মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শখ। কিন্তু তিনি কাউকে সরাসরি বই পড়ার পরামর্শ দিতে চান না। কারণ, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সাহিত্যচর্চা ও আনন্দের সঙ্গে পড়ার অভ্যাসের যথেষ্ট সম্পর্ক নেই।

শিক্ষার্থীরা অনেক সময় জ্ঞান অর্জন বা আনন্দের জন্য বই পড়ে না; বরং পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য পড়ে। ফলে বই পড়া তাদের কাছে আনন্দের বিষয় না হয়ে বাধ্যতামূলক কাজ হয়ে দাঁড়ায়।

লেখকের মূল বক্তব্য

প্রমথ চৌধুরীর কথার মধ্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

১. বই পড়া একটি উৎকৃষ্ট শখ
বই মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, চিন্তাশক্তি বিকশিত করে, কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে এবং মনকে উদার করে।

২. শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা
যে শিক্ষা শিক্ষার্থীর মধ্যে স্বাধীন চিন্তা, সাহিত্যবোধ ও আনন্দের পাঠাভ্যাস তৈরি করতে পারে না, সেই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রকৃত সাহিত্যচর্চার সুসম্পর্ক তৈরি হয় না।

৩. পরীক্ষামুখী পড়াশোনার সমালোচনা
শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পড়লে শিক্ষার্থী বইয়ের আনন্দ ও জ্ঞানের গভীরতা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আনন্দের জন্য বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় এর গুরুত্ব

আজও উক্তিটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শিক্ষার্থীদের শুধু “বই পড়ো” বললেই পাঠাভ্যাস তৈরি হবে না। বরং তাদের এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে—

বই পড়া হবে আনন্দের, কৌতূহলের এবং নিজের মতো করে জানার একটি মাধ্যম।

তাই বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার, বই পড়ার নির্দিষ্ট সময়, পাঠচক্র, বই নিয়ে আলোচনা, গল্প বলা, বই পর্যালোচনা এবং বই বিনিময় চালু করা যেতে পারে।

একটি সুন্দর উপসংহার

“পরীক্ষার জন্য বই পড়া শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার্থী বানায়, আর আনন্দ ও জ্ঞানের জন্য বই পড়া তাকে প্রকৃত শিক্ষার্থী ও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।”

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্য আজকের শিক্ষকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ