Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সতর্কবাণী শুনে জাগো (—সূরা আল-মুলক ১৭–১৮ নম্বর আয়াতের আলোকে—) - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                        সতর্কবাণী শুনে জাগো

(—সূরা আল-মুলক ১৭১৮ নম্বর আয়াতের আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

আকাশের নীলে চেয়ে দেখো, কার অশেষ ক্ষমতা,
সৃষ্টি জুড়ে ছড়িয়ে আছে তাঁরই রাজ-সমতা।
পাহাড়, সাগর, চাঁদ সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র সারি,
সবই তাঁরই হুকুম মানে, তাঁরই শক্তি ভারী।

মানুষ কেন এত নির্ভয়, ভুলে যায় প্রভুকে?
কিসের জোরে পাপের পথে বাড়ায় নিজের দম্ভকে?
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, প্রাসাদসবই ক্ষণিক ছায়া,
আল্লাহ চাইলে মুহূর্তে তা হারায় সবই মায়া।

কুরআনের এই সতর্কবাণী হৃদয় দিয়ে শোনো,
অহংকারের ঘোর অন্ধকার ছেড়ে সত্য চেনো।
যিনি আসমানে কর্তৃত্বশীল, সর্বশক্তিমান তিনি,
তাঁরই হুকুমে বিশ্বজগৎতিনি এক, তাঁরই ঋণী।

**“তোমরা কি তবে নিরাপদ?”—প্রশ্ন আসে কানে,
শাস্তি এলে কোথায় যাবে নিজের শক্তির টানে?”
কংকরবর্ষী ঝঞ্ঝা যদি নেমে আসে হঠাৎ,
মানব-গড়া নিরাপত্তা কি রক্ষা করবে তৎক্ষণা?

তাই তো আগে সাবধান হও, শাস্তি আসার আগে,
ফিরে এসো রবের পথে, সত্যের পবিত্র রাগে।
গুনাহ ছেড়ে তাওবা করো, মুছে ফেলো কালিমা,
আল্লাহর রহমত বিস্তৃতশেষ হয় না সীমা।

যে সতর্কতা আসে কুরআন রাসূলের বাণী,
তা তো বান্দার মঙ্গল চায়, সত্যের পথের টানি।
সতর্কবাণী শত্রু নয়, রহমতেরই ডাক,
ঘুমন্ত হৃদয় জাগিয়ে তোলে, দূর করে সব ফাঁক।

নবী-রাসূল এসেছেন তাই মানুষকে বোঝাতে,
তাওহিদেরই পথে ডেকে সত্যের আলো দেখাতে।
বলেছেন তাঁরারব এক আল্লাহ, নেই তাঁর কোনো শরিক,
তাঁরই কাছে নত হও প্রাণ, তিনিই মহান মালিক।

কেউ যদি সেই সত্য শুনেও অহংকারে হাসে,
নিজের শক্তির মিথ্যা গর্বে অবাধ্যতায় ভাসে,
তবে তাকে ইতিহাস বলেসাবধান হও ভাই,
সত্যকে যারা অস্বীকার করে, নিরাপত্তা তাদের নাই।

আদ জাতি ছিল শক্তিশালী, গর্ব ছিল তাদের,
উঁচু দেহ আর প্রবল শক্তিদম্ভ ছিল অন্তরে।
সত্য যখন এলো তাদের কাছে নবীর আহ্বানে,
অহংকারে মুখ ফিরিয়ে নিল নিজেদের জ্ঞানে।

সামূদেরও স্মরণ করো, শিক্ষা নাও ইতিহাসে,
নবীর ডাকে সাড়া না দিয়ে গিয়েছিল তারা সর্বনাশে।
সত্যের পথে বাধা দিয়ে অহংকারে মেতে,
নিজের হাতে ডেকে এনেছিল বিপদকে যে তাতে।

লূত জাতির কাহিনি শোনো, শিক্ষা নাও মন দিয়ে,
সীমালঙ্ঘন কত ভয়ংকরদেখো ইতিহাস নিয়ে।
পাপকে যখন স্বাভাবিক করে, সত্যকে দেয় ঠেলে,
মানুষ তখন নিজেই নামে ধ্বংসের পথের মেলে।

হস্তীবাহিনীর কথাও আছে কুরআনেরই পাতায়,
কাবা ঘরের ক্ষতি করতে এগিয়ে গেল তারা হেলায়।
বাহিনী ছিল বিশাল তাদের, শক্তি ছিল অনেক,
আল্লাহর সামনে সবই হলো ক্ষুদ্র, অসহায়, তুচ্ছ।

আল্লাহ যখন রক্ষা করেন পবিত্র সেই ঘর,
মানবশক্তি থামাতে পারে না তাঁর কোনো হুকুম পর।
যে রবের ইশারায় আকাশ, বাতাস, মেঘ চলে,
তাঁরই হুকুমে দুর্বল পাখি শক্তিশালীকে টলে।

তাই শক্তি পেলে বিনয় শেখো, সম্পদ পেলে দাও,
ক্ষমতা পেলে ন্যায়ের পথে মানুষের হক বাঁচাও।
জ্ঞান পেলে অহংকার নয়, সত্যের পথে চলো,
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো।

আজ তুমি ধনীকাল কী হবে, জানো কি তা ভাই?
আজ তুমি শক্তিশালীকাল সেই শক্তি নাই।
আজ যে প্রাসাদ, কাল তা হতে পারে পরের ঘর,
আজ যে জীবন, কালই হতে পারে শেষ প্রহর।

মৃত্যু আসে রাজা-প্রজা সবার দ্বারে এক,
তার সামনে ধন-সম্পদ, ক্ষমতাসবই ফাঁক।
কবরের পথে একাই যেতে হবে শেষমেশ,
সঙ্গে যাবে ঈমান-আমলআর কিছুই নয় শেষ।

তাই দুনিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে করো না অহংকার,
আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও নেই চূড়ান্ত অধিকার।
ঘর যদি হয় দুর্গসম, তবু নিরাপদ নও,
রবের বিধান মেনে চলো, তাঁরই ওপর ভরসা রাখো।

ঝড় এলে মানুষ বোঝে নিজের শক্তির সীমা,
বন্যা এলে বোঝে মানুষ প্রকৃতিরই মহিমা।
ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে শক্ত ইমারতের ভিত,
তখন মানুষ বুঝতে শেখেকত ক্ষুদ্র তার অস্তিত্ব।

তবে কোনো বিপদ দেখে তাড়াহুড়ো করে বলো না,
এটি অমুকের শাস্তি”— কথা নিশ্চিত করো না।
কেন কীভাবে পরীক্ষা আসেআল্লাহ ভালো জানেন,
মুমিন নিজের ভুলের দিকে ফিরে তাকাক প্রাণে।

বিপদ এলে প্রশ্ন করো—“আমি কি রবকে ভুলেছি?”
পাপের পথে চলতে গিয়ে হৃদয় কি শুকিয়েছি?”
মানুষের কোনো অধিকার কি করেছি আমি নষ্ট?”
অন্যায় করে নিজের হৃদয় করেছি কি কলুষিত?”

আত্মজিজ্ঞাসা মানুষকে সত্যের পথে আনে,
অশ্রুসিক্ত তাওবা জাগায় পাপীর অন্তঃপ্রাণে।
তাওবার দরজা খোলা আছেফিরে এসো আজ,
রবের রহমত ছায়া হয়ে করবে তোমায় রাজ।

আল্লাহ বলেননিরাশ হয়ো না রহমত থেকে,
ফিরে এসো তাওবার পথে, পাপের অন্ধকার থেকে।
যে বান্দা সত্য হৃদয় নিয়ে ফিরে আসে তাঁর দ্বারে,
রবের রহমত তাকে ঘিরে নেয় ভালোবাসার ধারে।

কত গুনাহ করেছে মানুষ জীবনেরই পথে,
তবু যদি ফিরে আসে সে অনুতপ্ত হৃদয় হতে,
রবের রহমত বিস্তৃতআশা রেখো প্রাণে,
তাওবার অশ্রু মুছে দেয় কালো পাপের দাগখানে।

তবে তাওবা শুধু মুখের কিছু কথার নাম নয়,
সত্যিকারের ফিরে আসাএটাই তাওবার পরিচয়।
পাপ ছেড়ে দাও, ভুলের জন্য অনুতপ্ত হও,
মানুষের হক নষ্ট করলে ফিরিয়ে দিয়ে দাও।

যার প্রতি জুলুম করেছ, তার কাছে ক্ষমা চাও,
অন্যায়ভাবে যা নিয়েছ, তা যথাস্থানে ফেরাও।
মিথ্যার পথ পরিহার করে সত্যের পথে চলো,
আমানতদার হও, ন্যায়ের আলো হৃদয়ে জ্বালো।

সালাত দিয়ে জীবন গড়ো, কুরআন দিয়ে মন,
জিকিরে রাখো জীবন্ত হৃদয়, সুন্দর করো ক্ষণ।
হালাল পথে রিজিক খোঁজো, হারাম থেকে দূরে,
সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দাও পরিবার ঘরে।

সন্তানকে দাও ঈমান শিক্ষা, আদব শিষ্টাচার,
সত্যবাদিতা, দয়া, ন্যায়এসব হোক অলংকার।
শিক্ষক হলে জ্ঞান দাও আর চরিত্র গড়ো সাথে,
শিক্ষার্থী হলে বিনয় রাখো জ্ঞানের প্রতিটি পাতে।

ক্ষমতাবান হলে মনে রেখো ক্ষমতা এক আমানত,
দুর্বলের হক রক্ষা করাই শাসনের মহৎ রীত।
অন্যায় করে শক্তি দেখানো বীরত্ব কখনো নয়,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকা মুমিনেরই পরিচয়।

ধনবান হলে দরিদ্রের হক ভুলে যেয়ো না,
নিজের সুখে অসহায়ের কান্না শুনেও থেকো না।
আল্লাহ যেটুকু দিয়েছেন, শুকরিয়া দিয়ে ভোগো,
অভাবীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার আলো জ্বালো।

জ্ঞানী হলে জ্ঞানের গর্ব হৃদয়ে রেখো না,
অজ্ঞান মানুষকে দেখে কখনো তুচ্ছ করো না।
জ্ঞান যদি বিনয় না আনে, জ্ঞান তবে অসম্পূর্ণ,
আল্লাহভীতি যার নেইতার জ্ঞানও নয় পরিপূর্ণ।

কুরআনের সতর্কবাণী তাই হৃদয়ের আয়না,
নিজের ভেতর দেখো কত ভুলেরই ছায়া।
অন্যের দোষ খুঁজে বেড়িয়ে লাভ কী বলো ভাই?
নিজের নফস সংশোধনের চেয়ে বড় কাজ আর নাই।

ফলে জানতে পারবে কেমন ছিল সতর্কবাণী”—
এই কথাটি কাঁপিয়ে দিক গাফেল মানুষের প্রাণই।
শাস্তি এসে সত্য জানা কোনো লাভের নয়,
সুযোগ থাকতে সত্য মানাই বুদ্ধিমানের পরিচয়।

মৃত্যুর পরে অনুতাপে আর সময় কি ফিরে?
কর্মের খাতা বন্ধ হয়ে যায় জীবন যখন থামে।
আজ যে সুযোগকাল সে সুযোগ নাও থাকতে পারে,
তাই আজই ফিরে এসো আল্লাহর রহমতের দ্বারে।

পূর্ববর্তীরা সত্যকে যখন করেছিল অস্বীকার,
তাদের ওপর এসেছিল রবের কঠিন প্রতিকার।
কুরআন তাই অতীত বলে বর্তমানকে ডাকে
শিক্ষা নাও, অহংকার ছাড়ো, সত্যের পথে থাকো।

ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন সতর্কতার ভাষা,
সত্যের পথে যারা থাকে, তাদের হৃদয়ে আশা।
অন্যায় যত শক্তিশালী হোক, স্থায়ী নয় তা জানো,
আল্লাহর ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখো।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণিক শুধু, আখিরাত অনন্ত,
আজকের আমল গড়বে তোমার আগামী জীবনকথা।
তাই পাপের সুখ ক্ষণিক হলে কেন তার পিছে ছুটো?
চিরস্থায়ী কল্যাণ ছেড়ে ক্ষণিক মোহে কেন ভুলো?

জান্নাত চাওতাকওয়া ধরো, সত্য পথে রও,
জাহান্নাম থেকে বাঁচতে গুনাহ থেকে সরে যাও।
আল্লাহর ভয় হৃদয়ে রাখো, রহমতের আশা,
এই দুই ডানায় উড়ে চলে মুমিনের ভালোবাসা।

হে মানুষ, আজও সময় আছেঘুমিয়ে থেকো না,
সতর্কবাণী শুনে শুনে গাফেল হয়ে থেকো না।
আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখো সৃষ্টির মহিমা,
স্রষ্টার সামনে নত হওএটাই জীবনের সীমা।

যে রব মেঘে বৃষ্টি দেন, বাতাস করেন প্রবাহ,
যে রব রাতের আঁধার শেষে আনেন দিনের প্রভাত,
যে রব জীবন দেন মানুষে, আবার মৃত্যু দেন,
তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে কথা মনে রেখো যেন।

তিনি চাইলে শান্তি দেন, তিনি চাইলে পরীক্ষা,
তাঁর হুকুমেই সুখ-দুঃখ, জীবন-মৃত্যুর রেখা।
তাই বিপদে ধৈর্য ধরো, সুখে শুকরিয়া দাও,
প্রতিটি অবস্থায় রবের দিকে ফিরে চাও।

অহংকার নয়বিনয় হোক,
অবাধ্যতা নয়আনুগত্য হোক,
গাফেলতা নয়সচেতনতা হোক,
গুনাহ নয়তাওবার পথ হোক।

জুলুম নয়ন্যায় হোক,
বিদ্বেষ নয়ভ্রাতৃত্ব হোক,
মিথ্যা নয়সত্য হোক,
অন্ধকার নয়হিদায়াত হোক।

জীবন হোক কুরআনের আলোয়,
চরিত্র হোক সুন্নাহর ছায়ায়,
হৃদয় থাকুক রবের ভয়ে,
আশা থাকুক তাঁরই দয়ায়।

মনে রেখোপ্রভুর সতর্কবাণী
উপহাস করার বিষয় নয়,
বাণী হলো মুক্তির ডাক,
বাণী কোনো নিষ্ঠুর ভয় নয়।

যে শুনে ফিরে আসে রবের পথে,
সে- জয়ী দুনিয়া-আখিরাতে।
যে সত্য জেনেও মুখ ফিরিয়ে যায়,
সে নিজের ক্ষতিই নিজে বাড়ায়।

তাই এসো সবাই, হাত তুলি আজ,
রবের কাছে করি মিনতি সাজ
হে আল্লাহ, আমাদের অন্তর দাও নূর,
গুনাহের পথ করো আমাদের থেকে দূর।

অহংকার থেকে রক্ষা করো,
অবাধ্যতা থেকে রক্ষা করো,
মিথ্যা, জুলুম, পাপের কালো
ছায়া থেকে রক্ষা করো।

সতর্কবাণী শুনে যেন
হৃদয় আমাদের জেগে ওঠে,
তাওবার পথে অশ্রু ঝরে,
ঈমান যেন দৃঢ় হয় প্রাণেতে।

মৃত্যু যখন আসবে কাছে,
ঈমান রেখো অন্তরে,
শেষ নিশ্বাসে তাওহিদেরই
কালিমা রেখো কণ্ঠে।

কবর, হাশর, মিজান, সিরাত
সবকিছুরই দিন আসবে,
আমল নিয়ে বান্দা সেদিন
রবের সামনে দাঁড়াবে।

দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন
হোক আখিরাতের পাথেয়,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের জীবনের লক্ষ্য হয়ে।

হে পরম রব, তুমি দয়াময়,
তুমি ক্ষমাশীল, মহান,
তোমার রহমতের ছায়াতলে
রাখো আমাদের প্রাণ।

সতর্কবাণী শুনে যারা
সত্যের পথে ফিরে যায়,
তাদের দলে রেখো আমাদের
মিনতি যেন কবুল হয় আজ।

হে মানুষ, তাই জেগে ওঠোসময় যে অতি ক্ষণ,
আজই গড়ো ঈমানভরা সুন্দর একটি জীবন।
শাস্তি আসার আগে এসো, রবের পথে ফিরে,
সত্যের আলো জ্বালাও হৃদয়, পাপের আঁধার চিরে।

আকাশ, বাতাস, সাগর, পাহাড়সবই তাঁর নিদর্শন,
তাঁরই হুকুমে চলছে সবে, তাঁরই হাতে জীবন।
তাঁরই কাছে নত হও প্রাণ, তাঁরই বিধান মানো,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় জীবনখানি সাজাও।

সতর্কবাণী শুনে জাগো,
অহংকারের ঘুম ভাঙাও;
রবের পথে ফিরে এসে
জীবনটাকে সুন্দর গড়ো।

পাপ ছেড়ে তাওবা করো,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলো;
দুনিয়ার ক্ষণিক মোহ ছেড়ে
আখিরাতের পাথেয় গড়ো।

যে সতর্কবাণী মানে,
সে- বাঁচার পথটি জানে;
আল্লাহরই আনুগত্যে
মুক্তি মেলে দুই জাহানে।

হে আল্লাহ, আমাদের তুমি
সত্য পথে অটল রেখো;
তোমার ভয় রহমতের আশা
হৃদয়জুড়ে নির্মল রেখো।

আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ