সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
বদলে যাচ্ছে বিশ্বের মানচিত্র
বদলে যাচ্ছে বিশ্বের মানচিত্র
পৃথিবীর যে মানচিত্র আমরা সাধারণত দেখে থাকি, সেটি মূলত প্রায় পাঁচশ বছর আগে তৈরি করা একটি মানচিত্রের ওপর ভিত্তি করে। এই মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রকৃত আয়তন সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশকে বাস্তবের তুলনায় অনেক ছোট দেখানো হয়।
এ কারণে আফ্রিকার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আরও বাস্তবসম্মত একটি বিশ্বমানচিত্র ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। এবার সেই উদ্যোগে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ নতুন একটি মানচিত্র প্রক্ষেপণ ব্যবহারের পক্ষে প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটে ‘সমান পৃথিবী’ নামের নতুন মানচিত্র প্রক্ষেপণকে সমর্থন করে ১৬৪টি দেশ। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়। আফ্রিকার দেশগুলোর উদ্যোগে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে বাহামাসহ আফ্রিকান, ভারতীয় ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ সমর্থন জানায়।
বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত বিশ্বমানচিত্রটি তৈরি করেছিলেন ইউরোপীয় মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর। ১৫৬৯ সালে তৈরি তাঁর ‘মারকেটর প্রক্ষেপণ’ মূলত সমুদ্রপথে নৌযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে এই মানচিত্রে বিষুবরেখা থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, দেশ ও মহাদেশের আয়তনের বিকৃতি তত বেশি হয়।
ফলে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আকারের মনে হয়, যদিও বাস্তবে আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
নতুন ‘সমান পৃথিবী’ মানচিত্রে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক সঠিক চিত্র তুলে ধরা হবে। এতে আফ্রিকা ও বিষুবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রকৃত বিশালতা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।
তবে জাতিসংঘের এই প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা, গণমাধ্যম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল মানচিত্রে পৃথিবীর দেশ ও মহাদেশগুলোর আয়তনকে আরও বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপনে উৎসাহিত করা।
৪
৪ মন্তব্য