Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

অরোরা রুপকথার আলো নাকি বিজ্ঞানের খেলা

ছোটবেলায় আমরা সবাই কমবেশি টম অ্যান্ড জেরি দেখেছি। এর একটা পর্বের কথা হয়তো অনেকের মনে আছে। টম আর জেরি উত্তর মেরুর বরফে এস্কিমো সেজে থাকে। টমের ধাওয়া খেয়ে জেরি উঠে যায় পাহাড়ের চূড়ায়। সেখানে গিয়ে সে দেখে এক অদ্ভুত দৃশ্য। রাতের আকাশজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে সবুজ, লাল আর নীল রঙের আলোর ঢেউ। জেরি সেই আলো দিয়ে টমকে ভয় দেখায়।

আজ অনেক বছর পর ছোটবেলার সেই দৃশ্য মনে করলে প্রশ্ন জাগে, আকাশের ওই আলোগুলো আসলে কী ছিল? সেগুলো কি শুধুই কার্টুনের কল্পনা, নাকি বাস্তবেও এমন কিছুর অস্তিত্ব আছে? উত্তর—হ্যাঁ, বাস্তবে সত্যিই এমন আলোর অস্তিত্ব আছে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই চমৎকার ঘটনার নাম অরোরা। বাংলায় একে বলে মেরুজ্যোতি। পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে সচরাচর এটি দেখা যায়। এ কারণেই এর নামের সঙ্গে মেরুর সম্পর্ক।

নর্দার্ন লাইটস
নর্দার্ন লাইটসছবি: ফ্র্যাঙ্ক ওলসেন/গেটি ইমেজে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো, আলাস্কা ও কানাডার মতো উত্তর মেরু অঞ্চলের দেশগুলোকে বলে নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিস। আর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার কাছাকাছি দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বলে সাউদার্ন লাইটস বা অরোরা অস্ট্রোলেস।

নামটির উৎস বেশ কাব্যিক। রোমানদের প্রভাতের দেবী অরোরার নাম থেকে এটি এসেছে। বোরিয়ালিস শব্দটি এসেছে গ্রিক পুরাণের উত্তরের বায়ুর দেবতা বোরিয়াস থেকে। আর অস্ট্রালিস শব্দটির অর্থ দক্ষিণ। অবশ্য এই নামগুলো আধুনিক কালে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের দেওয়া। তারও বহু আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীরা অরোরাকে আগুনের সঙ্গে তুলনা করত। তারা একে আকাশের আগুন বলে মনে করত।

মন্তব্য করুন