Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:২৫ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানো কৌশল

শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানো কৌশল এমন হওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থী শুধু মুখস্থ না করে বিষয়টি বুঝতে, প্রয়োগ করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে। বিশেষ করে বাংলা বিষয়ের ক্ষেত্রে নিচের কৌশলগুলো কার্যকর।

শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানো কৌশল

১. শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পদ্ধতি:
শিক্ষক শুধু বক্তা না হয়ে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দেবেন। প্রশ্ন করা, মতামত দেওয়া ও আলোচনায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবেন।

২. পূর্বজ্ঞান যাচাই:
নতুন বিষয় শুরু করার আগে শিক্ষার্থীদের পূর্বের জ্ঞান যাচাই করতে ছোট প্রশ্ন, কুইজ বা আলোচনা করা হবে।

৩. প্রশ্নোত্তর ও আলোচনা:
পাঠের বিষয়বস্তু নিয়ে সহজ থেকে জটিল প্রশ্ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভাষায় উত্তর দিতে এবং যুক্তি দিয়ে মতামত প্রকাশ করতে উৎসাহিত করা হবে।

৪. দলীয় ও জোড়ায় কাজ:                                                                                      
শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে সমস্যা সমাধান, পাঠ বিশ্লেষণ, উপস্থাপন ও আলোচনা করতে দেওয়া হবে। এতে সহযোগিতামূলক শিখন বৃদ্ধি পাবে।

৫. বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগ:
পাঠের বিষয়কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন, সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে যুক্ত করে বোঝানো হবে। এতে শেখা বিষয় দীর্ঘস্থায়ী হবে।

৬. মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল উপকরণ ব্যবহার:
PowerPoint, ছবি, ভিডিও, অডিও, অনলাইন কুইজ ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণ ব্যবহার করে পাঠকে আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করা হবে।

৭. সৃজনশীল ও সমস্যা-ভিত্তিক শিখন:
শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য মনে রাখতে না দিয়ে কোনো সমস্যা বিশ্লেষণ, কারণ নির্ণয়, সমাধান প্রস্তাব এবং সৃজনশীলভাবে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

৮. বিভিন্ন সক্ষমতার শিক্ষার্থীর প্রতি নজর:
সব শিক্ষার্থীর শেখার গতি এক নয়। তাই দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং কাজ দেওয়া হবে।

৯. নিয়মিত মূল্যায়ন ও তাৎক্ষণিক feedback:
শ্রেণিকাজ, বাড়ির কাজ, মৌখিক প্রশ্ন, ছোট পরীক্ষা ও কুইজের মাধ্যমে নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। ভুলের কারণ বুঝিয়ে দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

১০. শিক্ষার্থীর আত্মশিখন ও আত্মমূল্যায়ন:
শিক্ষার্থীদের নিজের শেখার অগ্রগতি যাচাই করতে উৎসাহিত করা হবে
কী শিখেছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং কীভাবে উন্নতি করা যায় তা নিজেরাই নির্ধারণ করবে।

সংক্ষেপে

“শিক্ষক হবেন সহায়ক ও পথপ্রদর্শক, আর শিক্ষার্থী হবে শিখনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।”
তাই শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিকতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ, দলীয় কাজ, প্রযুক্তির ব্যবহার, বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগ, সৃজনশীলতা এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিখন আরও কার্যকর ও আনন্দদায়ক হবে।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ