সহকারী অধ্যাপক
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৪ অপরাহ্ণ
পাখির ডানায় কুদরতের গান (সূরা আল-মুলক : ১৯ নম্বর আয়াতের আলোকে) -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
পাখির ডানায় কুদরতের গান
(সূরা আল-মুলক : ১৯ নম্বর আয়াতের আলোকে)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
নীল আকাশের নীলিমাতে, মেঘের ভেলায় ভেসে,
পাখিরা সব ডানা মেলে উড়ে আপন দেশে।
কখনো তারা ডানা মেলে, কখনো নেয় গুটিয়ে,
কী অপরূপ সৃষ্টির খেলা—চলো দেখি মন খুলে।
মাথার ওপর উড়ে পাখি, নীল গগনের কোলে,
কখনো তারা ঝাঁকে ঝাঁকে, কখনো একা চলে।
ডানা মেলে বাতাস কেটে দূর দিগন্ত পানে,
সৃষ্টির মাঝে রবের কুদরত প্রকাশিত হয় প্রাণে।
কে দিয়েছে ডানার শক্তি? কে দিয়েছে প্রাণ?
কে সাজিয়েছে দেহের গঠন? কে দিয়েছেন জ্ঞান?
কে শিখিয়েছে আকাশপথে উড়তে নির্ভয়?
সবই তো সেই মহান রবের কুদরত ও পরিচয়।
ডানা মেলে পাখি যখন আকাশপানে যায়,
মুমিনের হৃদয় তখন রবের কথা গায়।
নীরব পাখির উড্ডয়নও দেয় যে ঈমান-জ্ঞান—
সৃষ্টির মাঝে চিনে নাও তোমার রব রহমান।
কুরআন বলে—“তারা কি দেখে না পাখিদেরই উড়ে,
ডানা মেলে, ডানা গুটায়, আকাশপথে ঘুরে?
রহমান ছাড়া কে-ই বা তাদের রাখে আকাশ মাঝে?
নিশ্চয় তিনি সবই দেখেন—গোপন-প্রকাশ্যে।”
আকাশজুড়ে পাখির ওড়া নিছক খেলা নয়,
এর ভেতরে শিক্ষা আছে, চিন্তার বিষয় হয়।
চোখের সামনে দৃশ্য হলেও গভীর তার জ্ঞান,
সৃষ্টির মাঝে প্রকাশিত হয় মহান আল্লাহর নিদর্শন।
পাখির ডানা ছোট্ট হলেও উড়ে আকাশপানে,
স্রষ্টার দেওয়া সামর্থ্য নিয়ে আপন বিধানে।
বাতাস কেটে ছুটে চলে, ফিরে আসে ঘরে,
রবের দেওয়া নিয়ম মেনে জীবনপথে ঘোরে।
কেউ তাকে দেয়নি মানচিত্র, দেয়নি কোনো পথ,
তবু সে ঠিক চিনে নেয় তার যাত্রাপথ।
কে দিয়েছে এই সহজ জ্ঞান? কে দিয়েছেন দিশা?
রবের দেওয়া স্বভাবজাত জ্ঞান—সৃষ্টির মাঝে তা-ই লেখা।
ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পাখি জাগে,
খাদ্যের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে আপন মনের টানে।
দূর আকাশে ঘুরে বেড়ায়, খোঁজে খাদ্যকণা,
রিজিকদাতা আল্লাহ—এ বিশ্বাস তার অজানা নয় যেন।
পাখি বসে থাকে না শুধু খাদ্য আসার আশায়,
চেষ্টা করে, উড়ে বেড়ায়, ফিরে আসে বাসায়।
মানুষেরও শিক্ষা আছে এই পাখিরই মাঝে—
চেষ্টা করো, রবের ওপর ভরসা রাখো কাজে।
তাওয়াক্কুল মানে নয় তো কর্ম ছেড়ে দেওয়া,
তাওয়াক্কুল হলো রবের ওপর ভরসা রেখে নেওয়া
বৈধ পথে প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা ও সাধনা,
ফলাফলের মালিক আল্লাহ—এই বিশ্বাসে চলা।
কৃষক যখন বীজ বোনে, শ্রম দেয় আপন প্রাণে,
আশা রাখে ফসল হবে আল্লাহরই দানে।
শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা করে মনোযোগে,
সফলতার আশা রাখে আল্লাহরই অনুগ্রহে।
ব্যবসায়ী বৈধ পথে চলে, কর্মী করে কাজ,
সত্যবাদী মানুষ গড়ে দায়িত্বে রাখে লাজ।
চেষ্টা করে মানুষ যত, ততই তার সাধ,
তবু শেষ সফলতা আসে আল্লাহরই প্রসাদ।
পাখির মতো আমরাও তো দুর্বল ক্ষণিক প্রাণ,
আজকে আছি, কালকে নেই—এটাই জীবনের বিধান।
যে শক্তিতে গর্ব করি, তা-ও তাঁরই দান,
জীবন-মৃত্যু তাঁরই হাতে—তিনি মহান রহমান।
মানুষ তুমি জ্ঞান পেয়ে কখনো ভুলো না তাঁকে,
সম্পদ পেয়ে অহংকারে দূরে সরে থেকো না তাঁকে।
তোমার চোখে দেখার শক্তি, কানে শোনার জ্ঞান,
হৃদয়ে ভাবার সামর্থ্য—সবই তাঁর দান।
তুমি বলো—“আমার ঘর, আমার ধন, আমার মান,”
ভেবে দেখো, কে দিয়েছে জীবন, কে দিয়েছেন প্রাণ?
কে দিয়েছে শ্বাসের গতি, কে দিয়েছে জ্ঞান?
সবকিছুরই দাতা যিনি—সেই মহান রহমান।
আকাশে পাখি উড়ে চলে, নিচে থাকে ধরিত্রী,
মাঝখানে যে বাতাস বয়ে—সেটিও তাঁর সৃষ্টি।
সূর্য ওঠে পূর্ব আকাশে, আলো ছড়ায় চারি,
রাতের বুকে চাঁদটি হাসে, নক্ষত্র দেয় ঝারি।
মেঘ আসে আর বৃষ্টি নামে, সিক্ত হয় ধরা,
নদী বয়ে যায় সাগরপানে, প্রাণে জাগে ধারা।
ফুলের মাঝে রঙের বাহার, ফলে মধুর স্বাদ,
সবকিছুতেই ফুটে ওঠে স্রষ্টার অপার দান।
পাহাড় দাঁড়ায় স্থির হয়ে, সাগর ওঠে নামে,
দিন-রাত চলে নিয়ম মেনে তাঁরই হুকুমে।
ক্ষুদ্র পিঁপড়ের জীবন থেকে নক্ষত্রের মহাকাশ—
সবকিছুতেই আল্লাহর জ্ঞান, কুদরত ও প্রকাশ।
পাখির ডানায় ভারসাম্য আর পালকের বিন্যাস,
দেহের গঠন, চলার কৌশল—অপূর্ব তার প্রকাশ।
মানুষ যত গবেষণা করে, যতই করে জ্ঞান,
ততই যেন স্পষ্ট হয় স্রষ্টার নিপুণ দান।
বিজ্ঞান বলে কীভাবে পাখি আকাশপথে যায়,
মুমিন ভাবে—এই নিয়ম কে সৃষ্টি করে যায়?
নিয়ম, শক্তি, বাতাস, ডানা—সবই তাঁর বিধান,
জ্ঞান বাড়ুক, ঈমান বাড়ুক—এই হোক মুমিনের জ্ঞান।
সৃষ্টিকে দেখে স্রষ্টাকে যে ভুলে যায় বারবার,
সে তো শুধু বাহির দেখে, বোঝে না অন্তরসার।
মুমিন যখন পাখি দেখে, ভাবে অন্তরে—
“সুবহানাল্লাহ! কী অপূর্ব সৃষ্টি তোমারই করে!”
পাখির বাসা ছোট্ট হলেও কত সুন্দর তার,
ছানাদের সে আগলে রাখে মমতা অপরিসীম তার।
খাদ্য এনে মুখে তুলে দেয়, যত্ন করে প্রাণে,
সৃষ্টির মাঝেও রহমতের ছাপ দেখা যায় তাতে।
মানুষ পেয়েছে বুদ্ধি, বিবেক, দায়িত্ব মহান,
তাই তার কর্তব্য বেশি—মনে রাখো এ জ্ঞান।
বাবা-মায়ের প্রতি সদয়, সন্তানের প্রতি দয়া,
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার রক্ষা করা।
প্রতিবেশীর হক আদায়, আত্মীয়ের সম্মান,
দুর্বলের পাশে দাঁড়ানো—এও ইসলামের দান।
মানুষ যদি মানুষ হয়ে মানুষের পাশে রয়,
তবে সমাজে শান্তি আসে, দূর হয় সব ক্ষয়।
পাখি আল্লাহর সৃষ্টি, মানুষও তাঁর বান্দা,
তাই সৃষ্টির প্রতি হও দয়ালু, হয়ো না নির্দয় কাণ্ডা।
অকারণে প্রাণী হত্যা, বাসা ভাঙা নয়,
দয়ার পথে চলা মুমিনের সুন্দর পরিচয়।
যে রব পাখির জন্য খাদ্য রাখেন পথে,
তিনি জানেন বান্দার প্রয়োজন কোন মুহূর্তে।
তবু বান্দার দায়িত্ব আছে চেষ্টা করে যাওয়া,
হালাল পথে রিজিক খোঁজা, হারাম থেকে বাঁচা।
হালাল রিজিক অল্প হলেও তাতে থাকে বরকত,
হারাম সম্পদ যতই হোক, তাতে নেই কল্যাণ।
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সৎ পথে চলি,
দুনিয়ার লাভের চেয়ে আখিরাতকে বড় বলি।
আল্লাহ বলেন—তিনি সবকিছু দেখেন,
গোপন কথা, প্রকাশ্য কাজ—সবই তিনি দেখেন।
রাতের আঁধার, দিনের আলো—কোথাও নেই আড়াল,
তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয় কোনো কর্মের ভার।
মানুষের চোখ এড়িয়ে যদি অন্যায় করি গোপনে,
আল্লাহর দৃষ্টি থেকে কি লুকানো যায় কোনো ক্ষণে?
এই বিশ্বাসে মুমিন থাকে সততারই পথে,
ভয় করে রবের অসন্তোষ, অন্যায় কাজ হতে।
তাই গোপনে যেমন সৎ, প্রকাশ্যেও তেমন,
কথায়-কাজে সত্যবাদী—এটাই হোক জীবন।
আমানত রাখি আমানত, প্রতারণা করি না,
অন্যের হক নষ্ট করে সুখের স্বপ্ন দেখি না।
কারণ রব সব দেখেন, সব জানেন তিনি,
অন্তরের গোপন কথাও অজানা নয় তাঁরই।
তাঁর দৃষ্টি সর্বত্র—তাঁর জ্ঞান সীমাহীন,
তাঁরই কাছে ফিরতে হবে—এ সত্য চিরদিন।
আজ যে পাখি আকাশজুড়ে উড়ে স্বাধীন মনে,
একদিন সে-ও থেমে যাবে নির্ধারিত ক্ষণে।
মানুষও একদিন যাবে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে,
কেউই থাকবে না চিরকাল পৃথিবীর বুকে পড়ে।
মৃত্যু যখন এসে যাবে নির্ধারিত দ্বারে,
ধন-সম্পদ, পদ-মর্যাদা থাকবে না যে সাথে।
সাথে যাবে ঈমান, আমল, নেক কাজের ফল,
তাই তো আজই জীবন গড়ি কুরআনের অনুকূল।
দুনিয়া ক্ষণিকের সফর, আখিরাত চিরস্থায়ী,
সফল সে-ই, যে রবের পথে জীবনটাকে সাজায়।
পাখির ডানা আমাদের আজ স্মরণ করুক তাই—
দুনিয়ার মোহে হারিয়ে গিয়ে রবকে ভুলে যেও না ভাই।
বিপদ এলে ভেঙে পড়ো না, নিরাশ হয়ো না,
আল্লাহর রহমত থেকে কখনো দূরে যেয়ো না।
দোয়া করো, চেষ্টা করো, ধৈর্য ধরে থাকো,
রবের ওপর ভরসা রেখে সত্যের পথে হাঁটো।
যে আল্লাহ আকাশপথে পাখিকে রাখেন ধরে,
তিনি বান্দার অবস্থা জানেন অন্তরে।
তিনি দুঃখ দেখেন, জানেন অশ্রু, জানেন আহ্বান,
তাই মুমিনের শেষ আশ্রয়—পরম দয়ালু রহমান।
তবে দোয়ার সঙ্গে আমল, ধৈর্যের সঙ্গে চেষ্টা,
আল্লাহর ওপর নির্ভরতা—মুমিনেরই বৈশিষ্ট্য।
হাত গুটিয়ে বসে থাকা তাওয়াক্কুল নয়,
সৎ পথে চেষ্টা করাই মুমিনের পরিচয়।
আকাশপানে তাকাও তুমি, দেখো পাখির দল,
তাদের মাঝে খুঁজে নাও কুদরতেরই ফল।
ডানা মেলে উড়ে তারা, গগনজুড়ে গান,
তাদের নীরব উড্ডয়নে রবেরই ঘোষণা মহান।
“আমি আছি, আমি দেখি, আমি সবই জানি,
আমার হুকুম মেনেই চলে সৃষ্টির প্রতিটি প্রাণী।”
পাখির ভাষা আমরা শুনি না—তবু যেন তার গান,
আমাদের অন্তর জাগিয়ে বলে—মহান আল্লাহ রহমান।
হে মানুষ, চোখ মেলে দেখো চারপাশের ধরণী,
কোথায় নেই স্রষ্টার নিদর্শন—বলতে পারো তুমি?
পাতার শিরা, ফুলের গন্ধ, শিশিরভেজা ঘাস,
সবকিছুতেই রবের কুদরত—অপরূপ তার প্রকাশ।
ক্ষুদ্র বীজে বৃক্ষ থাকে, ছোট্ট বীজে বন,
ক্ষুদ্র ভ্রূণে মানুষ গড়ে—কী বিস্ময়কর সৃজন!
পাখির ডানায় উড্ডয়ন, মাছের জলে সাঁতার,
সবই বলে—স্রষ্টার কুদরত অপরিসীম, অপার।
তাই সৃষ্টিকে দেখে যেন স্রষ্টাকে না ভুলি,
নিয়ামতের শুকরিয়া দিয়ে হৃদয়খানি তুলি।
সিজদাতে নত হোক কপাল, মুখে থাকুক জিকির,
আল্লাহর আনুগত্যেই হোক জীবনের তাবির।
তাঁরই কাছে চাইব আমরা ঈমানের আলো,
তাঁরই পথে চলব আমরা—এ জীবন হবে ভালো।
তাঁরই বিধান মানব আমরা, ছাড়ব অন্যায় কাজ,
তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন হোক জীবনেরই সাজ।
হে আল্লাহ, আমাদের দাও কুরআনের জ্ঞান,
সুন্নাহর পথে চলার দাও শক্তি ও ঈমান।
সৃষ্টির মাঝে তোমার কুদরত দেখতে দাও চোখ,
অহংকারের অন্ধকার থেকে রাখো আমাদের লোক।
হে আল্লাহ, গুনাহ থেকে রাখো আমাদের দূর,
তাওবা করার তাওফিক দাও, অন্তর করো নূর।
হালাল পথে রিজিক দাও, হারাম থেকে বাঁচাও,
দুঃখ-কষ্টে সবর দাও, বিপদে পাশে থাকো।
যেদিন দুনিয়া ছেড়ে যাব, শেষ হবে এ প্রাণ,
সেদিন যেন ঈমান থাকে অটুট ও অম্লান।
কবর, হাশর, হিসাবের দিনে দাও নিরাপত্তা,
তোমার রহমতে দিও জান্নাতের চিরস্থায়ী শান্তি।
পাখির ডানায় লেখা যেন এক মহৎ আহ্বান—
“ভুলো না তোমার স্রষ্টাকে, তিনি পরম রহমান।”
আকাশপথে পাখির উড্ডয়ন হোক ঈমানের গান,
সৃষ্টির মাঝে চিনে নিই মহান আল্লাহর নিদর্শন।
ডানা মেলে পাখি উড়ে—তাঁরই দেওয়া শক্তি,
ডানা গুটায়—তাঁরই সৃষ্টি নিয়মের ভক্তি।
আকাশে তার অবস্থানও তাঁরই বিধান,
সবকিছু দেখেন যিনি—তিনি মহান রহমান।
পাখি উড়ে, মেঘ ভাসে, বাতাস বয়ে যায়,
সূর্য ওঠে, রাত নামে, চাঁদ আকাশে হাসে রয়।
নিয়ম মেনে বিশ্বজগৎ চলছে অবিরাম,
সবকিছুরই মালিক যিনি—তিনি পরম মহান।
তাই আজ থেকে পাখি দেখলে থেমে একটু ভাবি,
কার কুদরতে আকাশজুড়ে উড়ে পাখির দল সবই?
কার রহমতে জীবন চলে, কার দানে রিজিক?
কার জ্ঞানে সুশৃঙ্খল এই সৃষ্টি-জগতের ঠিক?
উত্তর এক—আল্লাহ মহান, এক ও অদ্বিতীয়,
তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি সর্বশক্তিমান।
তাঁরই ইবাদত, তাঁরই আনুগত্য, তাঁরই প্রতি ভরসা,
তাঁরই পথে জীবন গড়া—মুমিনের শ্রেষ্ঠ আশা।
আকাশের পাখি শেখাক আমাদের বিনয়,
নিয়ামতের শুকরিয়া আর সত্যের পরিচয়।
তাওহিদের দৃঢ় বিশ্বাসে আলোকিত হোক প্রাণ,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে স্মরণ হোক—রহমান, পরম রহমান।
সমাপ্তি
পাখির ডানায় কুদরত দেখি, আকাশে দেখি জ্ঞান,
বাতাস বয়ে মনে করায়—মহান আল্লাহ রহমান।
ডানা মেলে পাখি যখন ছুটে নীল আকাশে,
মুমিন হৃদয় রবকে স্মরে ভালোবাসার আশে।
সৃষ্টি দেখে স্রষ্টাকে যে চিনে নেয় অন্তর,
তার জীবন হয় ঈমানময়, তার পথ হয় সুন্দর।
তাই কুরআনের আহ্বান বুকে করি ধারণ—
সৃষ্টির মাঝে চিনে নিই পরম করুণাময় রহমান।
ডানা মেলে পাখি বলে—আল্লাহ মহান,
আকাশ জুড়ে তাঁরই কুদরত, তাঁরই বিধান।
সবকিছুরই সম্যক দ্রষ্টা, সবকিছুর প্রাণ—
আমাদের রব, আমাদের মালিক—
পরম করুণাময় রহমান।
৪
৪ মন্তব্য