সহকারী শিক্ষক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ স্বাধীন সুলতান দাউদ শাহ কররানী
দিল্লির মুঘলদের দাসত্ব করার চেয়ে বীরের মতো মরে যাওয়া সর্বশেষ স্বাধীন সুলতান দাউদ শাহ কররানী
- দাউদ খান কররানী ছিলেন কররানী রাজবংশের এবং স্বাধীন শাহী বাংলার সর্বশেষ সুলতান, যিনি তাঁর ভাই বায়েজিদ কররানীর মৃত্যুর পর ১৫৭৩ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর পিতা সুলায়মান কররানী মোগলদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও, তরুণ ও তেজোদ্দীপ্ত দাউদ খান সিংহাসনে বসেই দিল্লির সম্রাট আকবরের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করেন এবং নিজের নামে খুতবা পাঠ ও স্বাধীন মুদ্রা জারি করে বাংলার পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। মোগল আগ্রাসন থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে তিনি প্রায় ৪০,০০০ অশ্বারোহী, ১,৪০,০০০ পদাতিক ও ৩,৬০০ যুদ্ধ হাতি নিয়ে এক বিশাল সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন এবং মোগলদের জমানিয়া দুর্গ আক্রমণ করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তাঁর এই স্বাধীনচেতা মনোভাবের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে সম্রাট আকবর মোগল সেনাপতি মুনিম খানকে বাংলা অভিযানে পাঠান, যার ফলে ১৫৭৪ সালে পাটনার অবরোধ এবং ১৫৭৫ সালে ঐতিহাসিক তুকারয়ের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তুকারয়ের যুদ্ধে আফগানদের বীরত্বপূর্ণ লড়াই সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝির কারণে দাউদ খান পরাজিত হন এবং সাময়িকভাবে কতকের চুক্তি করে উড়িষ্যায় আশ্রয় নেন। কিন্তু বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি দ্রুতই চুক্তি ভঙ্গ করে পুনরায় মোগলদের তাড়িয়ে গৌড় ও উত্তর বাংলা দখল করে নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই মোগল বাহিনীর সাথে তাঁর চূড়ান্ত রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে দাউদ খান এবং তাঁর বীর যোদ্ধারা মরণপণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত ও বন্দি হন। যুদ্ধক্ষেত্রেই মোগলদের নির্দেশে এই তেজস্বী সুলতানকে শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাঁর এই নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলার ৩২৪ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমলের চূড়ান্ত অবসান ঘটে, যার ফলে বাংলা সরাসরি মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়।
৭
৭ মন্তব্য