Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

একজন পাল মশাই ও জুগল দাদু

একজন পাল মশাই ও জুগল দাদু!


খুব ছোটবেলা থেকেই জুগল দাদুকে দেখে দেখে বড় হয়েছি। তিনি আমাদের গ্রামের মানুষ নন—অন্য গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু দীর্ঘদিনের আসা-যাওয়ায় তিনি যেন আমাদের গ্রামেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন।

বয়স এখন প্রায় একশ ছুঁই ছুঁই। অথচ জীবনের দীর্ঘ একটা সময় তিনি আমাদের গ্রামে মাটির পাত্র বিক্রি করে কাটিয়েছেন। পেশায় তিনি একজন পাল—মাটির সঙ্গে যাঁর জীবন, জীবিকার সঙ্গে যাঁর মিশে আছে বাংলার এক প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য।

কত বছর ধরে তাঁকে দেখেছি! মাথায় কিংবা হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, সরা—গ্রামের পথে ধীর পায়ে হেঁটে আসছেন। তাঁর কণ্ঠের ডাক, চলার ভঙ্গি, মাটির পাত্রের সেই পরিচিত গন্ধ—সবকিছুই যেন শৈশবের কোনো এক পুরোনো ছবির অংশ।

তখন বুঝিনি, এই মানুষটিই একদিন আমার স্মৃতির এত বড় একটি অধ্যায় হয়ে উঠবেন।

জুগল দাদুকে ঘিরে রয়েছে হাজারো স্মৃতি। সময় বদলেছে, মাটির পাত্রের ব্যবহার কমেছে, গ্রামের জীবনও বদলে গেছে। অনেক পরিচিত মুখ হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। কিন্তু জুগল দাদুর কথা মনে পড়লেই শৈশবের সেই দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

একজন মানুষ শুধু তাঁর পেশা দিয়ে পরিচিত হন না; তিনি হয়ে ওঠেন একটি সময়ের প্রতিনিধি, একটি সংস্কৃতির বাহক, একটি প্রজন্মের স্মৃতি।

আমাদের জুগল দাদুও তেমনই একজন মানুষ।

প্রায় একশ বছরের জীবনের সাক্ষী তিনি। তাঁর জীবনের গল্পের সঙ্গে মিশে আছে মাটির গল্প, মানুষের গল্প, গ্রামের গল্প এবং আমাদের শৈশবের গল্প।

হ্যাঁ, তিনি আমাদের জুগল দাদু—একজন পাল মশাই, অথচ আমাদের স্মৃতির এক আপন মানুষ।

সময়ের স্রোতে হয়তো অনেক কিছু হারিয়ে যাবে, কিন্তু জুগল দাদুর সেই মাটির হাঁড়ি-পাতিলের ডাক আর শৈশবের স্মৃতিগুলো থেকে যাবে মনের কোনো এক কোণে।

মন্তব্য করুন