Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

সাইবার বুলিং: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আমাদের করণীয়


বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, যোগাযোগ ও বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ইন্টারনেট। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সাইবার বুলিং আজ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেঞ্জার, অনলাইন গেম বা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাউকে অপমান, ভয় দেখানো, কটূক্তি করা, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা কিংবা বারবার হয়রানি করাকে সাধারণভাবে সাইবার বুলিং বলা হয়।

শিক্ষার্থীদের কী করণীয়?

সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে শিক্ষার্থীদের প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে বিষয়টি বাবা-মা, শিক্ষক বা বিশ্বস্ত কোনো বড় ব্যক্তিকে জানাতে হবে। বুলিংকারীর সঙ্গে পাল্টা ঝগড়া বা অপমানজনক আচরণ না করে তাকে ব্লক ও রিপোর্ট করতে হবে।

অপমানজনক পোস্ট, মন্তব্য, মেসেজ, ছবি বা হুমকির স্ক্রিনশট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। নিজের পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের Privacy Settings যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।

কেউ যদি ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকি দেয়, ব্ল্যাকমেইল করে বা যৌন হয়রানি করে, তাহলে কোনোভাবেই তার দাবি মেনে নেওয়া বা টাকা দেওয়া উচিত নয়। দ্রুত অভিভাবক, শিক্ষক এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।

আইন কী বলে?

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনের জন্য বর্তমানে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ কার্যকর রয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির আইন তালিকায় আইনটি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সাইবার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটর্শন এবং ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়ন-সংক্রান্ত উপাদান প্রকাশ, প্রচার বা প্রকাশের হুমকি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডকে আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ছিল এবং পরবর্তী ২০২৬ সালের আইন প্রণীত হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যেহেতু অনেক ক্ষেত্রেই শিশু বা কিশোর-কিশোরী, তাই তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে শিশু আইন, ২০১৩-এর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব

একজন শিক্ষক হিসেবে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করাই আমাদের দায়িত্ব নয়; শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তোলা আমাদের কর্তব্য।

শ্রেণিকক্ষে সাইবার বুলিংয়ের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা, শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিষ্টাচার শেখানো এবং কোনো শিক্ষার্থী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে তাকে দোষারোপ না করে সহানুভূতির সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

একজন শিক্ষার্থী যেন সমস্যায় পড়লে ভয় না পেয়ে তার শিক্ষক বা অভিভাবকের কাছে বিষয়টি বলতে পারে—এমন একটি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করাও শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অভিভাবকদের করণীয়

সন্তান কত সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করছে শুধু তা দেখলেই হবে না; সে অনলাইনে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে এবং কোনো মানসিক চাপের মধ্যে আছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যাতে অনলাইন কোনো সমস্যায় পড়লে সে বিষয়টি গোপন না করে অভিভাবককে জানাতে পারে।

শেষ কথা

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে—

“স্ক্রিনের ওপাশেও একজন মানুষ আছে; আপনার একটি মন্তব্য তার মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।”

তাই আসুন, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ নয়, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও মানবিক ব্যবহারেও দক্ষ করে তুলি।

সচেতন শিক্ষার্থী, দায়িত্বশীল শিক্ষক, সহযোগী অভিভাবক—গড়ে উঠুক নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন