Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪০ অপরাহ্ণ

আলোচ্য বিষয় : সমাস পরিচিতি, প্রকারভেদ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমাস।

                               সমাস

সমাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

  1. সমাস সংস্কৃত শব্দ এবং এটি সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণের অনুকরণে বাংলা ব্যাকরণে এসেছে।
  2. সমাস শব্দের অর্থ মিলন ( পদের সাথে পদের মিলন হয়),  সংক্ষেপণ, বহুপদের একপদীকরণ।
  3. সমাস বাংলা ব্যাকরণে শব্দতত্বের আলোচ্য বিষয়।
  4. সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
  5. সমাসের প্রতিটি অংশকে প্রতীতি বলা হয়।

কিছু প্রয়োজনীয় টার্ম, যা সমাস নির্ণয়ে প্রয়োজন:

  1. ব্যাসবাক্য/ বিগ্রহবাক্য ও সমস্ত/ সমাসবদ্ধ পদ: সমস্যমান পদগুলো নিয়ে যে বাক্য গঠিত হয়,তাকে ব্যাসবাক্য বলে। একে বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। অর্থাৎ সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদেকে বিশ্লেষণ করলে যে বাক্যটি পাওয়া যায়, সেটিই ব্যাসবাক্য। যেমন: সিংহাসন= সিংহ চিহ্নিত আসন। এখানে "সিংহাসন'' সমস্ত পদ এবং "সিংহ চিহ্নিত আসন" হলো ব্যাসবাক্য।
  2. পূর্বপদ ও পরপদ: সমস্তপদে দুইটি অংশ থাকে। প্রথম অংশকে পূর্বপদ এবং পরের অংশকে পরপদ/উত্তরপদ বলে। যেমন: সিংহাসন সমস্ত পদটির দুইটি অংশ। এখানে সিংহ হলো পূর্বপদ এবং আসন হলো পরপদ।

পদের প্রাধান্যের ভিত্তিতে সমাস চার প্রকার।যথা-

  1. দ্বন্দ্ব সমাস ( পূর্বপদ এবং পরপদ উভয়টির অর্থ প্রাধান্য পায়।)
  2. কর্মধারয় সমাস ( পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।)
  3. তৎপুরুষ সমাস (পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়)
  4. বহুব্রীহি সমাস ( কোনো পদের অর্থই প্রাধান্য পায় না।

                            দ্বন্দ্ব সমাস

চেনার উপায়: 

  1. উভয় পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে। যেমন: মা-বাবা।
  2. সমস্ত পদে বেশিরভাক্ষেত্রে (-) হাইফেন থাকে।যেমন : মা-বাবা।
  3. ব্যাসবাক্যে এবং/ও/আর থাকে। যেমন: মা ও বাবা।
  4. সমস্ত পদটি সর্বনাম হলে একশেষ দ্বন্দ্ব। যেমন: আমরা,তোমরা।
  5. সমস্তপদে বিভক্তি রয়ে গেলে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস। যেমন : শুয়ে-বসে।
  6. সমস্তপদে যদি দু'য়ের অধিক পদ থাকে, তাহলে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস।যেমন: বই-খাতা-কলম।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বন্দ্ব সমাস:

ভাই-বোন, মরা-বাঁচা, সাত-সতেরো, হিতাহিত, সত্যাসত্য, নয়-ছয়, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ ইত্যাদি।


                        কর্মধারয় সমাস

চেনার উপায়:

  1. পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
  2. পূর্বপদ বিশেষণ হয়। পরপদটিকেই মূলত বোঝানো হয়।
  3. ব্যাসবাক্যে যে/ যিনি/ ন্যায়/মত/ রূপ থাকে।

কর্মধারয় সমাসকে মোটামুটি পাঁচভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. সাধারণ কর্মধারয়

২. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

৩. উপমিত কর্মধারয়

৪. উপমান কর্মধারয়

৫. রূপক কর্মধারয় 

 

চেনার উপায়:

১. সাধারণভাবে পরপদের অর্থ প্রধান হলে এবং পূর্বপদ বিশেষণ হলে সাধারণ কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন: মহাকবি, মহাত্মা, ইত্যাদি।

২. ব্যাসবাক্যে মাঝখানের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয়, তা হলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে মাঝখানের পদ চিহ্নিত লোপ পেয়েছে।

৩.তুলনা যদি সত্য হয়, তবে উপমান কর্মধারয়। যেমন : কাজলকালো ( কাজলের রঙ কালো-ই হয়। অর্থাৎ তুলনাটি সত্য। তাই এটি উপমান কর্মধারয় হবে। একইভাবে তুষারশুভ্র, মিষকালো, বজ্রকঠোর, অরুণরাঙা ইত্যাদি।) 

৪. তুলনাটি যদি মিথ্যা হয়, তবে উপমিত কর্মধারয়। যেমন : সিংহপুরুষ ( পুরুষ কখনো সিংহ হতে পারেনা। অর্থাৎ তুলনাটি মিথ্যা। তাই এটি উপমিত কর্মধারয়। একইভাবে বাহুলতা, চরণকমল, পদ্মআঁখি ইত্যাদি।)

৫. যদি পূর্বপদটি অদৃশ্য হয়। অর্থাৎ দেখা না যায়। তাহলে রূপক কর্মধারয় হবে। যেমন: ভবনদী ( এখানে পূর্বপদ ভব অথাৎ ভাবনা দেখা যায় না। তাই এটি রূপক কর্মধারয়। একইভাবে বিষাদসিন্ধু, শোকানল, মনমাঝি ইত্যাদি।

  বাকি অংশ পরের ব্লগে পাবেন।

মোহাম্মদ মনির উদ্দিন 
প্রভাষক,বাংলা।
মন্তব্য করুন