সহকারী শিক্ষক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:০৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল (SSC Board Challenge Result 2026) প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এই ফল প্রকাশ করা হয়। পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলে সারাদেশে ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫ হাজার ২৫৯টি স্ক্রিপ্টে নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছেন।
আবেদনকারীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে SSC Challenge Result 2026 দেখতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরেও ফলের তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
এ ছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল জানা যাবে। এজন্য আবেদনকারীদের rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের মাধ্যমে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে আবেদনকারীদের সংশোধিত ফল পাওয়ার প্রক্রিয়াটি শেষ হলো।
দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।
শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬২৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এসব বোর্ডে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৫০টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে মোট ২৫ হাজার ৬২০ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৪৯ হাজার ১৪০টি স্ক্রিপ্টে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৬৬৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৮০ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি স্ক্রিপ্ট পর্যালোচনা করা হয়। এতে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৯৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে; ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৯৩ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছিলেন ২০ হাজার ৩০৭ জন। মোট ৩৪ হাজার ৩০৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণের পর ৬৬৭ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ১৭২ জনের নম্বর বদলেছে। এ বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩৯ হাজার ৭৬২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মোট ৯৮ হাজার ৭১০টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে।
ফল পরিবর্তনের পর এই বোর্ডে ৬৩১ জনের গ্রেড বদলেছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৪০০ জনের। এর মধ্যে ১১১ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭ জন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন আবেদনকারীর ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড এবং ২১ হাজার ৬৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছেন ৩৩৭ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯০৬ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন আবেদনকারীর ৯১ হাজার ৪৯৪টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড ও ৪ হাজার ৭০ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ৩৩৬ জন ফেল থেকে পাস এবং ২০৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
যশোর বোর্ডে ২৮ হাজার ৮৬২ জন আবেদনকারীর ৭৪ হাজার ৭১৭টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ৭৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এই বোর্ডে ৩৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮২ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জনের আবেদনের পর ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড ও ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছেন ১৯০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন আরও ৮৩ জন।
বরিশাল বোর্ডে ১৭ হাজার ২৮৩ জন আবেদনকারীর ৫০ হাজার ২৯৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড এবং ৩ হাজার ১১৮ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন করে ৭৯ জন পাস করেছেন এবং ১১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
সিলেট বোর্ডে ২০ হাজার ৭৮৩ জন আবেদন করেছিলেন। মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণের পর ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড ও ২ হাজার ৫৮৭ জনের নম্বর বদলেছে। ফেল থেকে পাস করেছেন ১৮৬ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১২১ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে ৩৭ হাজার ২৯৬ জনের আবেদনের ভিত্তিতে ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৬৩৬ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ৮৬৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৭৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন আবেদনকারীর ৭১ হাজার ৬৬টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড এবং ৬ হাজার ৫০৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এই বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন; নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৩৮ শতাংশ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একই সঙ্গে আগের বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ১৯ হাজার কমে যায়।
মূল ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। এই সময় ৪ লাখ ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন এবং সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ আবেদন জমা পড়ে।
এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন ছিল। ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন করা হয় ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
এবার পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আগে শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না।
১
২ মন্তব্য