সহকারী অধ্যাপক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ইবাদুর রহমান - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ইবাদুর রহমান
(সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৩–৭৬-এর আলোকে )
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা
কালিয়াকৈর, গাজীপুর
শ্রদ্ধাভরে রচিত হোক মহিমাময় এক মহাগাথা,
যে গাথায় জাগে বিশ্বজুড়ে তাওহীদের বারতা।
যে গাথা শেখায় মানুষকে সত্যের পথে চলা,
রহমানের প্রিয় বান্দা হয়ে জীবনটাকে গড়া।
ধন-সম্পদে নয় মানুষ বড়, নয় ক্ষমতার বলে,
নয় কেবল বাহ্যিক সাজে, উচ্চ আসন-তলে।
যার অন্তরে আল্লাহভীতি, সত্য যার পরিচয়,
তারই জীবনে ঈমানের আলো শান্তি বয়ে রয়।
কুরআনের পবিত্র বাণী ডাকে বারবার,
কে হবে আজ সত্যের পথে রহমানের বান্দার?
যে জীবন গড়বে তাওহিদে, তাকওয়ারই আলোয়,
সে জীবন একদিন অবশ্যই কল্যাণের ফল পায়।
রহমানের বান্দা তারা, হৃদয় যাদের নরম,
সত্যের পথে অবিচল তারা, চরিত্র যাদের ধর্ম।
মানুষের মাঝে থেকেও যারা আল্লাহকে রাখে মনে,
দুনিয়ার পথে চলতে চলতে আখিরাত দেখে প্রাণে।
তারা পৃথিবীর পথে চলে বিনয়েরই ছায়ায়,
অহংকারের বিষবৃক্ষ তাদের হৃদয় না ছায়ায়।
নিজেকে তারা বড় না ভাবে, ছোট করে না আর,
সব সম্মান আল্লাহর দান—এই তাদের অঙ্গীকার।
আজ যে ধনী, কাল সে হতে পারে নিঃস্ব একদিন,
আজ যে শক্তিশালী, কালই হারাতে পারে ঋণ।
আজ যার মুখে ক্ষমতার ভাষা, দম্ভের উচ্চ সুর,
মৃত্যুর ডাকে একদিন তাকেও যেতে হবে দূর।
তাই কেন এত অহংকার, কেন এত গর্ব?
মানুষ তো মাটিরই সৃষ্টি, জীবন ক্ষণিক পর্ব।
যা কিছু আছে আমার কাছে, সবই রবের দান,
তিনি চাইলে নিতে পারেন মুহূর্তে সব সম্মান।
নম্রতা মানে দুর্বলতা নয়, নয় মাথা নত অন্যায়,
সত্যের পথে দৃঢ় থেকে বিনয় হৃদয়ে ঠাঁই পায়।
মানুষকে দেবে সম্মান, নিজেও থাকবে সৎ,
এমন চরিত্রের মানুষই হয় আল্লাহর কাছে প্রিয়তম।
অজ্ঞ মানুষ রাগে যখন কটু কথা কয়,
তখন মুমিন উত্তেজিত হয়ে প্রতিউত্তরে নয়।
আগুন জ্বালায় আগুন দিলে আগুন বাড়ে আরো,
শান্তির বাণী উচ্চারিলে প্রশান্তি নামে ধরো।
তাই রহমানের বান্দারা বলে শান্তিরই কথা,
অশান্তির মাঝেও রাখে সংযমের প্রথা।
গালি শুনে গালি দেওয়া নয় তাদের পরিচয়,
ভালো চরিত্রের আলোতেই অন্ধকার ক্ষয়।
কেউ যদি করে অপমান, কেউ যদি দেয় ব্যথা,
সবর করে উত্তম পথে তারা বলে কথা।
অন্যের দোষে নিজের চরিত্র নষ্ট করে না,
মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে জীবন ভরে না।
শান্তির ভাষা দুর্বলতা নয়—এ বড় শক্তি,
নিজের রাগকে জয় করাই চরিত্রের মুক্তি।
যে মানুষ ক্রোধের মুহূর্তে নিজেকে রাখতে পারে,
সে-ই তো সত্যিকার শক্তিমান—সুন্নাহ তার দ্বারে।
দিনের শেষে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে,
নিস্তব্ধ রাত ধীরে ধীরে পৃথিবীজুড়ে চলে।
ঘুমিয়ে পড়ে ব্যস্ত মানুষ, শান্ত হয় সংসার,
জেগে ওঠে কিছু হৃদয়—ডাকে তাদের রব আবার।
সিজদাতে নত কপাল, চোখে অশ্রুর ধারা,
নির্জন রাতে রবের কাছে মেলে মনের সারা।
কেউ দেখে না, কেউ জানে না সেই কান্নাভেজা রাত,
আল্লাহ জানেন বান্দার অন্তর, জানেন সবই সাথ।
দাঁড়িয়ে তারা নামাজ পড়ে, সিজদাতে যায় নত,
রবের স্মরণে কাটায় রাত, হৃদয় থাকে সতত।
মানুষের প্রশংসার জন্য নয় তাদের ইবাদত,
রবের সন্তুষ্টিই তাদের জীবনের মূল সাধনাত।
রাতের নীরব গভীরতায় যে হৃদয় ডাকে রব,
তার জীবনের অন্ধকারেও জ্বলে হিদায়াতের সব।
ইবাদতের সে মধুর পথে প্রাণ হয় পরিশুদ্ধ,
আল্লাহর স্মরণে মানুষ হয় সত্যে দৃঢ় ও বুদ্ধ।
তারা শুধু জান্নাতের আশা হৃদয় মাঝে রাখে না,
জাহান্নামের ভয়াবহতার কথা কখনো ভোলে না।
তাই তো কাঁদে, দোয়া করে—হে আমাদের রব,
জাহান্নামের আযাব হতে রক্ষা করো সব।
হে দয়াময়, হে পরম করুণাময় আল্লাহ মহান,
পাপের ভারে নত আমাদের দুর্বল এ প্রাণ।
ভুল করেছি, অপরাধ করেছি, করেছি কত গুনাহ,
তোমার রহমত ছাড়া কোথায় পাব মুক্তির পথ, হায়!
ভয় আছে, আবার আশাও আছে রহমতের দুয়ারে,
মুমিন তাই ফিরে আসে বারবার রবের দ্বারে।
শুধু ভয় তাকে হতাশ করে না, শুধু আশা গাফিল নয়,
রবের রহমত আর শাস্তির স্মরণে তার হৃদয় রয়।
জাহান্নাম যে নিকৃষ্ট আবাস, নিকৃষ্ট অবস্থান,
তাই মুমিন করে প্রতিদিন নিজের আমলের হিসাব-জ্ঞান।
আজ যদি করি সংশোধন, তাওবার পথে ফিরি,
রহমতের দরজা খুলে দিয়ে রব ডাকেন—এসো ফিরে আসি।
সম্পদ যখন হাতে আসে, মনে রেখো ভাই,
সব খরচে কল্যাণ আছে—এ কথা কিন্তু নাই।
অপচয় যেমন অনুচিত, কৃপণতাও দোষ,
মধ্যপথে কল্যাণ আছে—এটাই ইসলামের রোষ।
নিজে খাবে, পরিবারকে দেবে, করবে সৎ ব্যয়,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াবে, মানবতার জয়।
দেখানোর জন্য ব্যয় করে অহংকারে ভাসবে না,
আবার প্রয়োজনের সময় কৃপণ হয়ে হাসবে না।
যা প্রয়োজন তা গ্রহণ করো, অপ্রয়োজন ছাড়ো,
হালাল পথে উপার্জন করে কল্যাণের দ্বার গড়ো।
সামর্থ্য সীমিত—চাহিদা যেন সীমাহীন স্রোত,
বিবেক দিয়ে বেছে নিলে সুন্দর হবে পথ।
অপচয়ের অন্ধ প্রতিযোগিতা জীবন করে ভার,
অন্যদিকে কৃপণতা আনে সংসারে হাহাকার।
মধ্যপথে চলে যে মানুষ, বুঝে দায়িত্ব-ভার,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে ইসলামের সৌন্দর্যসার।
এক আল্লাহ—এই তো মুমিনের বিশ্বাসের ভিত্তি,
তাঁরই হাতে সৃষ্টি-জগৎ, তাঁরই মহাশক্তি।
তিনি রব, তিনি মালিক, তিনি পালনকর্তা,
তাঁরই ইবাদত একমাত্র—তাওহিদের বারতা।
তাঁর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ করে না যারা,
তাদের হৃদয় ঈমানের আলোয় হয় উজাড়া।
দোয়া, ভয়, আশা, ভরসা—সবই তাঁরই তরে,
মুমিনের জীবন চলে তাই আল্লাহরই ভরে।
সৃষ্টি যত মহান হোক, কেউই রব নয়,
সবাই তাঁর সৃষ্টি মাত্র—তাঁরই আদেশময়।
আকাশ, জমিন, চাঁদ ও সূর্য তাঁর কুদরতের চিহ্ন,
এক আল্লাহর ইবাদতেই মুমিন থাকে নির্ভয়।
তাওহিদের আলো হৃদয়ে জ্বালাও বারবার,
শিরক ও ভ্রান্ত বিশ্বাস হতে রাখো নিজেকে পার।
আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই,
এই সত্যে দৃঢ় থাকাই মুমিন জীবনের স্নেহ।
আল্লাহ যে প্রাণ দিয়েছেন, সে প্রাণ অতি মূল্যবান,
অন্যায়ভাবে প্রাণ নেওয়া মহাপাপেরই স্থান।
রাগের বশে, হিংসার বশে, প্রতিশোধের ঘোরে,
মানুষ যেন অন্যায় পথে নিজের জীবন না ভরে।
মানুষের জানের নিরাপত্তা বড় এক অধিকার,
জুলুম করে অন্যের প্রাণ নেওয়া নয় আচরণ আর।
মুমিন কখনো সীমালঙ্ঘন করে না রাগে,
ন্যায় ও ইনসাফের পথই থাকে তার অনুরাগে।
অন্যায় হলে ন্যায়ের পথে প্রতিকার চাইবে ঠিক,
কিন্তু নিজ হাতে জুলুম করে হবে না সে নিকৃষ্ট।
ক্ষমা যেখানে উত্তম হয়, ক্ষমার পথ ধরো,
ন্যায় যেখানে প্রয়োজন হয়, ন্যায়ের জন্য লড়ো।
মানুষকে ভালোবাসা মানে আল্লাহর সৃষ্টি জেনে,
অন্যায় থেকে বাঁচিয়ে রাখা সমাজকে সৎ গুণে।
জীবন এক মহান আমানত, এ শিক্ষা রাখো মনে,
জুলুমমুক্ত পৃথিবী গড়ি ন্যায়েরই বন্ধনে।
চোখকে রাখো সংযত তুমি, হৃদয় রাখো পবিত্র,
অশ্লীলতার অন্ধকারে হারিয়ো না চরিত্র।
ব্যভিচারের পথে রয়েছে ধ্বংসেরই ছায়া,
ইসলাম তাই পবিত্র পথে জীবন গড়তে চায়।
বিবাহের পবিত্র বন্ধনে ভালোবাসা হোক,
বিশ্বাস, দয়া, সম্মান দিয়ে সংসার হোক সুখ।
স্বামী-স্ত্রী হোক পরস্পরের বিশ্বস্ত সহচর,
তাদের ঘরে ফুটুক শান্তি, কল্যাণের প্রহর।
পবিত্রতা শুধু বাহিরে নয়, অন্তরেও চাই,
গোপন পাপের অন্ধকারে নিজেকে ডুবিও নাই।
যেখানে থাকো আল্লাহ তোমার সবই দেখেন জানি,
এই অনুভব হৃদয়ে রাখো সকাল-সন্ধ্যাবাণী।
যে নিজেকে সংযত রাখে আল্লাহভীতির তরে,
তারই অন্তর আলোকিত হয় ঈমানেরই ঘরে।
ক্ষণিক সুখের মোহে পড়ে জীবন নষ্ট নয়,
হালাল পথে শান্তি খোঁজো—সেখানেই প্রকৃত জয়।
মানুষ মাত্রই ভুল করে, ভুলের পথে যায়,
কখনো নিজের দুর্বলতায় পাপের স্রোতে ভাসায়।
তবু হে মানুষ, হতাশ হয়ো না পাপের ভারে,
রহমতের দ্বার খোলা আছে তোমার রবের দ্বারে।
অনুতাপে যদি ভেঙে পড়ে অহংকারের দেয়াল,
সত্য তাওবার অশ্রু যদি করে অন্তর লাল,
পাপ ছেড়ে যদি ফিরে আসো সৎপথেরই টানে,
দয়াময় রব রহমত করেন তাঁর অসীম দানে।
শুধু মুখে ক্ষমা চাইলেই তাওবা পূর্ণ নয়,
পাপ ছেড়ে সত্য পথে ফেরা তাওবার পরিচয়।
মানুষের হক নষ্ট করে যদি থাকো কোনোখানে,
যথাসম্ভব ফিরিয়ে দাও, ন্যায় করো তার প্রাণে।
আজই যদি ফিরে আসো, আজই যদি জাগো,
অবহেলার ঘুম ভেঙে সত্যের পথে লাগো।
গতকালের ভুলের ভারে থেমে থেকো না আর,
আল্লাহর পথে ফিরে এসে করো জীবন সুন্দর।
মিথ্যার পথে দাঁড়াবে না রহমানের বান্দা,
সত্যের জন্য জীবন তার হবে সদা আনন্দা।
নিজের স্বার্থে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে করা সায়,
কখনো মুমিনের চরিত্রে এমন শিক্ষা নাই।
মিথ্যা সাক্ষ্যে নির্দোষ মানুষ হতে পারে ক্ষতি,
অপরাধী পেতে পারে তাতে অন্যায়ের গতি।
তাই সত্য বলো, সত্য ধরো, সত্যে রাখো প্রাণ,
সত্যের পথে সাময়িক কষ্ট—শেষে কল্যাণ।
ব্যবসাতে সত্য রাখো, সংসারেও তাই,
বিদ্যালয়ে, কর্মক্ষেত্রে সত্যকে আঁকড়ে যাই।
সত্যের পথে দাঁড়িয়ে যদি হারাও ক্ষণিক লাভ,
আল্লাহর কাছে সত্যের মূল্য পাবে মহাভাব।
মিথ্যার সেতু দুর্বল হয়, একদিন ভেঙে পড়ে,
সত্যের ভিত্তি দৃঢ় থাকে শত ঝড়ের ঘোরে।
তাই সত্যকে সঙ্গী করে চলি জীবনের পথ,
সত্যের আলোয় গড়ে উঠুক সুন্দর মানবজাত।
সব কথাতে জড়াতে হবে—এ কথা সত্য নয়,
সব ঝগড়াতে নামতে হবে—এও মুমিনের নয়।
যেখানে শুধু পরনিন্দা, অশ্লীল কথার ঢল,
সেখান থেকে সরে আসাই সংযমের সফল ফল।
অর্থহীন বাক্য শুনেও সময় নষ্ট নয়,
জীবন যে খুব মূল্যবান—এ কথা মনে রয়।
গীবত, বিদ্রূপ, অপবাদ, মিথ্যার আসর ছেড়ে,
সম্মানের সঙ্গে সরে যাও কল্যাণকে ঘিরে।
চুপ থাকা সব সময় ভীরুতা নয়,
সংযমের মাঝেও কখনো মহাশক্তি রয়।
যে জানে কোথায় বলতে হয়, কোথায় নীরব থাকা,
তারই জীবন সুন্দর হয় জ্ঞানের আলো মাখা।
সময় হলো আল্লাহর দেওয়া অমূল্য এক দান,
অবহেলায় নষ্ট করলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণ।
আজকের দিনটি চলে গেলে ফিরবে না আর কভু,
সৎকর্ম দিয়ে সাজাও জীবন—এটাই শিক্ষা প্রভু।
কুরআনের আয়াত যখন কানে এসে বাজে,
মুমিন তখন উদাস হয়ে অন্ধকারে না সাজে।
শুনে সে ভাবে—এই বাণী কি আমার জন্য নয়?
আমার জীবনে এই শিক্ষা কেমন করে রয়?
নামাজের ডাক এলে সে নামাজে ফিরে যায়,
সত্যের শিক্ষা এলে সত্যের পথেই দাঁড়ায়।
অন্যায় ত্যাগের নির্দেশ পেলে নিজেকে করে শোধ,
কুরআনের আলোয় দূর করে জীবনের সব বোধ।
শুধু তিলাওয়াত নয়, বুঝতে হবে বাণী,
জীবনের পথে কাজে লাগাও রবের মহাজ্ঞানী।
যে কুরআন ঘরে থাকে, কিন্তু জীবনে নাই,
সেই হৃদয়ে পূর্ণ হিদায়াতের ফল ফুটে কি ভাই?
কুরআন হোক পথের আলো, সুন্নাহ হোক পথ,
এই দুইয়ের দিশা ধরে এগিয়ে চলি রথ।
দুনিয়ার জটিল অন্ধকারে সত্যের প্রদীপ জ্বালি,
আল্লাহর দেওয়া বিধান মেনে জীবন করো খালি।
হে আমাদের পরম রব, দাও এমন পরিবার,
যেখানে থাকবে ঈমানের আলো, শান্তির অঙ্গার।
স্ত্রী হবে হৃদয়ের শান্তি, স্বামী হবে সাথি,
সম্মান, ভালোবাসা, দয়ায় কাটবে জীবনরাতি।
সন্তানের মুখে ফুটুক যেন নেক আমলের হাসি,
তাদের হৃদয় হোক কুরআনের শিক্ষায় ভালোবাসি।
মিথ্যা নয়, হিংসা নয়, শিখুক সত্যের গান,
মানুষের উপকার করে হোক তারা মহান।
শুধু সন্তান জন্ম দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
তাদের সৎ মানুষ করে তোলাই বড় পরিচয়।
বাবা-মায়ের আচার দেখে সন্তান শিক্ষা পায়,
তাই নিজের জীবন আগে সত্য পথে সাজায়।
ঘরের ভেতর যদি থাকে রাগ, অপমান, ভয়,
সেখানে সন্তানের কোমল মন আহত হয়ে রয়।
তাই ঘরে আনো সুন্দর ভাষা, ক্ষমা ও সম্মান,
শান্তির নীড়ে গড়ে উঠুক আগামী প্রজন্ম মহান।
হে আল্লাহ! দাও এমন জীবন, মানুষ যেন দেখে,
সত্যের পথে চলার সাহস জাগে তাদের বুকে।
ক্ষমতার অহংকার নয়, চাই না মিথ্যা মান,
তাকওয়ার পথে আদর্শ হোক আমাদের জীবনখান।
মুত্তাকীদের নেতা হওয়া মানে শুধু পদ নয়,
দায়িত্ব, ন্যায়, আমানতদারি—এসবেই নেতৃত্ব রয়।
যে নেতা মানুষের পাশে দাঁড়ায় আপন করে,
সে-ই প্রকৃত মর্যাদা পায় মানুষের অন্তরে।
নিজে ভুল করে অন্যকে শুধু উপদেশ দেওয়া নয়,
নিজে যা বলি আগে তা-ই জীবনে পালন হয়।
নিজে সত্যে অবিচল থেকে মানুষকে দাও পথ,
তবেই হবে নেতৃত্বের সুন্দরতম রথ।
হে আল্লাহ! আমাদের করো এমন চরিত্রবান,
দেখে যেন সত্যের পথে এগোয় মানুষ-প্রাণ।
রিয়া নয়, দম্ভ নয়, নয় খ্যাতির মোহ,
তোমার সন্তুষ্টির তরে হোক সকলই চাহ।
সবর ছাড়া জীবনের পথ হয় না সহজ কখনো,
ঝড় আসবে, দুঃখ আসবে, আসবে অশ্রু-ক্ষণও।
তবু যারা রবের ওপর রাখে অটল ভরসা,
তাদের হৃদয় শক্ত হয়, দূর হয় সব হতাশা।
সবর মানে শুধু বসে থাকা, হাত গুটিয়ে নয়,
সৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া—এও সবরের পরিচয়।
ইবাদতের পথে অবিচল থাকা সবরেরই দান,
পাপের ডাকে না বলা—সবরের সম্মান।
বিপদ এলে রবের দিকে ফিরিয়ে দাও মন,
দোয়া করো, চেষ্টা করো, রাখো দৃঢ় পণ।
দুনিয়ার কষ্ট চিরদিন থাকে না এক রূপে,
আল্লাহর রহমতের আশা জাগে মুমিনের রূপে।
যে সবরের পথে থাকে, সত্য ছাড়ে না কভু,
তার জন্য রেখেছেন পুরস্কার পরম দয়ালু রব।
আজকের চোখের অশ্রু একদিন হবে হাসি,
সবরের ফল পাবে মুমিন জান্নাতের আশি।
যারা জীবন গড়েছে এভাবে, সত্যের আলো জ্বেলে,
তাদের জন্য সুসংবাদ আছে কুরআনেরই তলে।
সুউচ্চ কক্ষ, শান্তির আবাস, সম্মানের সম্ভাষণ,
সেখানে নেই ভয় কিংবা দুঃখের কোনো কারণ।
সেখানে থাকবে সালাম ধ্বনি, থাকবে প্রশান্তি,
শেষ হবে সব দুঃখ-কষ্ট, সব ক্লান্তি।
দুনিয়ার ঘর ক্ষণস্থায়ী, একদিন হবে শেষ,
জান্নাতের জীবন চিরস্থায়ী—সেখানেই শ্রেষ্ঠ দেশ।
দুনিয়ার জন্য যতই গড়ো অট্টালিকার সারি,
মৃত্যুর পরে কিছুই হবে না তোমার সঙ্গী ভারী।
ঈমান, আমল, সত্যকর্ম—সঙ্গে যাবে তাই,
তাই তো আজই আখিরাতের পাথেয় গড়ি ভাই।
জান্নাতের সে সুন্দর আবাস পেতে হলে আজ,
নিজেকে গড়তে হবে সত্যে, ছেড়ে অন্যায় লাজ।
রহমানের বান্দা হয়ে কাটাও দুনিয়ার কাল,
আল্লাহর রহমতে একদিন খুলবে জান্নাতের দ্বার।
হে মানুষ! একবার থামো, নিজের দিকে চাও,
দিন শেষে একান্ত মনে নিজের হিসাব নাও।
আজ কি আমি কাউকে কষ্ট দিয়েছি অকারণ?
আজ কি আমার মুখে ছিল মিথ্যার কোনো বচন?
আজ কি অহংকার করেছি নিজের শক্তির তরে?
আজ কি কাউকে অপমান করেছি রাগের ঘোরে?
আজ কি নামাজে করেছি অবহেলার ভুল?
আজ কি কোনো পাপে গিয়েছি ছেড়ে সত্যের কূল?
আজ কি আমি অপচয় করেছি অপ্রয়োজন কাজে?
আজ কি আমার আচরণে কেউ কেঁদেছে লাজে?
আজ কি কুরআনের শিক্ষা জেনেও করেছি ভুল?
আজ কি পরিবারের হক করেছি কোনোভাবে শূল?
নিজেকে প্রশ্ন করো তুমি রাতের নীরবতায়,
ভুলগুলোকে শুধরে নাও তাওবারই ছায়ায়।
যে মানুষ নিজেকে দেখে নিজের ভুলের চোখে,
সে-ই তো একদিন বদলে যায় সত্যের পবিত্র মোড়ে।
গতকালের ভুল ভেবে বসে থেকো না আর,
আজকের দিনেই খুলে আছে সংশোধনের দ্বার।
যা গেছে তা ফিরবে না আর, সময় চলে যায়,
আজকে যদি সত্য ধরো, জীবন সুন্দর হয়।
অহংকার থাকলে ত্যাগ করো, হৃদয় করো নরম,
রাগের আগুন নিভিয়ে ফেলো—সবর হোক ধর্ম।
মিথ্যার পথে যদি থাকো, সত্যে ফিরে এসো,
পাপের পথটি ছেড়ে দিয়ে রবের কাছে মেশো।
অন্যের অধিকার যদি ভুলে করে থাকো নষ্ট,
ন্যায়ের পথে তা ফিরিয়ে দাও, দূর করো সব কষ্ট।
ভালোবাসা, ক্ষমা, ন্যায় আর সত্যের আলো জ্বালো,
নিজে বদলে সমাজটাকেও সুন্দর পথে চালাও।
আজ থেকেই শপথ হোক—হবো রবের বান্দা,
সত্য ও ন্যায়ের পথেই হবে জীবনের আনন্দা।
কুরআন হবে পথের আলো, সুন্নাহ হবে সাথি,
তাওহিদের দৃঢ় বিশ্বাসে কাটবে জীবনরাতি।
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের অন্তর করো পবিত্র,
অহংকারের কালিমা মুছে দাও, দাও সুন্দর চরিত্র।
নম্রভাবে চলার তাওফিক দাও তোমারই পথে,
সত্যের জন্য অবিচল রাখো জীবনের প্রতিটি রথে।
অজ্ঞতার কঠিন কথায় দাও সংযমের শক্তি,
অশান্তির আগুন নিভিয়ে দাও শান্তির মুক্তি।
রাতের নির্জনে তোমার কাছে সিজদাতে যেন যাই,
মানুষের প্রশংসা নয়, শুধু তোমার সন্তুষ্টি চাই।
জাহান্নামের ভয়াবহ আযাব হতে করো রক্ষা,
পাপের পথে পা বাড়ালে দাও অন্তরে সতর্কতা।
অপচয় থেকে দূরে রাখো, কৃপণতা থেকেও,
মধ্যপথে চলার তাওফিক দাও জীবনভর নিতেও।
তাওহিদের ওপর দৃঢ় রাখো আমাদের ঈমান,
তোমার সঙ্গে কাউকে শরিক না করি কোনো প্রাণ।
অন্যায়, অশ্লীলতা, জুলুম হতে রাখো দূরে,
পবিত্র পথে চলার শক্তি দাও আমাদের অন্তঃপুরে।
ভুলে গেলে তাওবার পথে ফিরিয়ে নিও আবার,
হে পরম ক্ষমাশীল আল্লাহ, তুমি তো আমাদের রব মহান।
সত্য বলার সাহস দিও, মিথ্যা হতে রক্ষা,
অনর্থক সব কথা-কর্ম থেকে দাও আমাদের শিক্ষা।
কুরআনের আয়াত শুনে যেন উদাস না থাকি আর,
জীবনের প্রতিটি পথে হোক তার বাস্তব অঙ্গীকার।
আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের নেককার করো হে রব,
তাদের দ্বারা আমাদের চোখ হোক শীতল সব।
আমাদের ঘরে দাও ভালোবাসা, সম্মান আর শান্তি,
দূর করো হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও ক্লান্তি।
মুত্তাকীদের জন্য আমাদের করো উত্তম আদর্শ,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের একমাত্র স্পর্শ।
বিপদে দাও সবর করার দৃঢ় শক্তিমান মন,
নিয়ামতের সময় শুকরিয়া করার দাও জ্ঞান।
তোমার রহমতের আশায় রাখো আমাদের প্রাণ,
মৃত্যুর পরে দাও আমাদের জান্নাতের সম্মান।
হে রহমান! তোমার বান্দা হওয়ার তাওফিক দাও,
ভুলের পথে হারিয়ে গেলে সত্যপথে ফিরাও।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন হোক তোমারই তরে,
আখিরাতে রহমতের ছায়া দিও আমাদের ঘিরে।
|
চলনে হোক নম্রতা, কথায় থাকুক সালাম,
|
আমিন
১৪
২৪ মন্তব্য