Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ণ

মুসা (আ.) ও ফেরাউন মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                        মুসা (আ.) ও ফেরাউন

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

শ্রদ্ধাভরে রচিত হোক মহিমাময় এক মহাগাথা,
যে গাথায় জাগে তাওহিদের অমলিন বারতা।
যে গাথায় সত্য দীপ্ত হয়, মুছে মিথ্যার ছায়া,
আল্লাহরই কুদরত দেখি—তাঁরই অসীম মায়া।

তিনি রব, তিনি স্রষ্টা, তাঁরই বিধান চলে,
তাঁরই হুকুমে সূর্য ওঠে, চাঁদটি আকাশতলে।
তাঁরই হুকুমে সাগর সরে, পথ হয় উন্মুক্ত,
তাঁরই হুকুমে দুর্বল বান্দা হয়ে ওঠে শক্ত।

ফেরাউনের দম্ভ ছিল—ক্ষমতারই নেশা,
মুসার বুকে তাওহিদের দীপ্ত আলোর রেশ।
একদিকে ছিল মিথ্যা গর্ব, জুলুম, অত্যাচার,
অন্যদিকে ছিল ঈমান—সত্যের দীপ্ত ধার।

মিসরের বুকে রাজত্ব ছিল ফেরাউনের হাতে,
ক্ষমতারই মত্ত নেশা ছিল তারই সাথে।
মানুষকে সে ভাগ করেছিল আপন স্বার্থমতে,
দুর্বলদের সে দমন করত নিষ্ঠুরতার রথে।

বনী ইসরাঈলের পুত্রশিশু করত সে হত্যা,
জুলুমের কালো ছায়ায় কাঁদত কত মাতা।
নারীদের সে জীবিত রাখত, করত অপমান,
ক্ষমতারই মোহে হারায় মানুষের সম্মান।

সে ভাবত—আমিই শ্রেষ্ঠ, আমিই সর্বশক্তিমান,
ভুলে গেল—আল্লাহ আছেন, তিনিই সৃষ্টির প্রাণ।
সিংহাসন আর রাজদণ্ড তার চোখে হলো ঢাল,
কিন্তু আল্লাহর সামনে মানুষ—অতি ক্ষুদ্র, নশ্বর কাল।

অহংকারে মানুষ যত আকাশ ছুঁতে চায়,
পতনেরই গভীর খাদে তত দ্রুত যায়।
যে ভুলে যায় রবের শক্তি, নিজের শক্তি মানে,
সময় এলে সেই অহংকার ধূলির সাথে টানে।

এমন সময় মুসা এলেন রবের হুকুম নিয়ে,
তাওহিদেরই বাণী নিয়ে সত্য হৃদয় দিয়ে।
হারুন (আ.) ছিলেন সাথে, দুই নবী মহান,
ফেরাউনের সামনে তাঁরা বললেন সত্যবাণী জ্ঞান।

“এক আল্লাহর ইবাদত করো, ছেড়ে দাও জুলুম,
মানুষের ওপর অত্যাচার কেন করো প্রতিদিন?”
সত্যের কথা বললেন তাঁরা বিনয়ভরা বাণী,
রবের পথে ফিরতে হবে—এই ছিল তাঁদের জানি।

আল্লাহর নির্দেশে তাঁদের ভাষা ছিল কোমল,
সত্যের পথে দাওয়াত দিতে চাই হৃদয় নির্মল।
জুলুমকারী হলেও তার প্রতি প্রথমে ছিল দাওয়াত,
হয়তো সত্য গ্রহণ করবে—খুলবে অন্তর-দ্বার।

মুসা বললেন—“আমি নই প্রভু, আমিও তাঁর বান্দা,
যিনি আসমান-জমিনের রব, তিনিই সবার স্রষ্টা।
তাঁরই হাতে জীবন-মরণ, তাঁরই হাতে প্রাণ,
তাঁরই হুকুমে চলে জগৎ, তাঁরই বিধান।”

ফেরাউন শুনে ক্রুদ্ধ হলো, বাড়ল তার অহংকার,
সত্যের সামনে মিথ্যা গড়ল প্রতিরোধের প্রাচীর ভার।
ক্ষমতারই দম্ভ দেখিয়ে সত্যকে করল তুচ্ছ,
কিন্তু সত্য সূর্যের মতো—চাপা যায় না কিছুতেই নিশ্চয়।

মিথ্যা যত সাজুক বাহার, সত্য তবু সত্য,
দিনের শেষে মিথ্যার মুখে নামে পরাজয়ের নিত্য।
অন্ধকারে ঢেকে রাখে সূর্যকে কি কেউ?
সত্যের আলো ফুটলে শেষে মিথ্যা থাকে না কেউ।

শিশু মুসা জন্ম নিলেন বিপদেরই কালে,
ফেরাউনের নিষ্ঠুর হুকুম চারদিকে জ্বালে।
পুত্রশিশুদের হত্যা করত অত্যাচারী দল,
মায়ের বুকে কাঁপন ধরল, চোখে অশ্রুজল।

তবু রবের নির্দেশ এলো—“ভয় করো না, মা,
আমার হুকুম মানো তুমি, আমি রক্ষা করব তা।”
শিশুকে তিনি সিন্দুকে রেখে ভাসালেন নীল জলে,
মায়ের বুক কাঁদে তখন অশ্রুর ঢেউ তোলে।

কিন্তু আল্লাহ যাকে রাখেন নিজের হেফাজতে,
কে পারে তার ক্ষতি করতে পৃথিবীর শক্তিতে?
নদীর জলে ভাসল শিশু, রবের ছিল পাহারা,
ফেরাউনের ঘরেই শেষে হলো তারই সারা।

মানুষ ভাবে একরকম, আল্লাহ করেন অন্য,
তাঁর পরিকল্পনায় থাকে কল্যাণেরই গন্ধ।
যে শিশুকে হত্যা করতে চেয়েছিল ফেরাউন,
তারই প্রাসাদে বেড়ে উঠল সেই মহানজন।

আল্লাহর কুদরত দেখে বিস্মিত হয় প্রাণ,
মানুষ যত পরিকল্পনা করুক—চূড়ান্ত তাঁরই জ্ঞান।
তাই বিপদে মুমিন কখনো হারায় না আশা,
রবের রহমতের ছায়ায় জেগে থাকে ভালোবাসা।

যেখানে মানুষ দেখে শুধু অন্ধকারের রাত,
সেখানেই আল্লাহ খুলে দিতে পারেন মুক্তির পথ।
যেখানে মানুষ বলে—“শেষ”, মুমিন বলে—“না”,
রবের রহমত অশেষ, তিনি আছেন সাথে সদা।

সময় গেল, মুসা হলেন আল্লাহরই নবী,
সত্যের পথে ডাকতে এলেন জাগাতে মানবজীবন সবই।
হাতে ছিল আল্লাহপ্রদত্ত নিদর্শনের আলো,
তাওহিদেরই আহ্বান ছিল—“আল্লাহকে মানো ভালো।”

ফেরাউন বলল—“আমার ক্ষমতা, আমার রাজ্য, আমার বল”,
মুসা বললেন—“এসব ক্ষণিক, রবের ক্ষমতা অটল।”
সোনা-রূপা, রাজপ্রাসাদ, সৈন্য অসংখ্য যত,
আল্লাহর এক হুকুমে সবই হতে পারে ক্ষত।

ফেরাউন তখন সমবেত করল জাদুকরের দল,
মুসার সত্য থামাতে চাইল ভয়ংকর ছল।
দড়ি আর লাঠি নিক্ষেপ করে দেখাল নানা খেলা,
জনতা দেখে বিস্মিত হলো, জমল বিশাল মেলা।

মুসা তখন রবের হুকুমে লাঠি নিক্ষেপ করলেন,
আল্লাহর নিদর্শনে তাদের মিথ্যা গ্রাস করলেন।
জাদুকররা বুঝে গেল—এ জাদু নয় কোনো,
সত্য এসেছে রবের কাছ থেকে—সন্দেহ রইল না কোনো।

তারা তখন সিজদায় পড়ে বলল দৃঢ় প্রাণে,
“
আমরা মুসা-হারুনের রবের প্রতি ঈমান আনি জানে।”
ফেরাউন দিল ভয় দেখিয়ে শাস্তির কঠিন হুমকি,
ঈমান তখন অটল রইল—ভয় পেল না কভু তারা ভূমি।

সত্য যখন হৃদয় ছোঁয়, ভয় তখন ক্ষীণ,
রবের প্রেমে দৃঢ় থাকে মুমিনেরই দিন।
দুনিয়ার ভয় বড় নয়, বড় আল্লাহর নাম,
ঈমান যার অন্তরে, সে রাখে সত্যের মান।

ফেরাউন জুলুম বাড়ায়, বাড়ে তারই রোষ,
সত্যের বাণী থামাতে চায় ক্ষমতারই দোষ।
মুসা তবু থামলেন না, রাখলেন সত্য বুকে,
রবের ওপর ভরসা রেখে চললেন আলোর সুখে।

সত্যের পথে কাঁটা থাকে—এটাই দুনিয়ার রীতি,
ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হয় মুমিনেরই নীতি।
বিপদ দেখে সত্য ছেড়ে দেওয়া নয় যে বীরত্ব,
আল্লাহর ওপর ভরসাই মুমিনের মহাশক্তি।

আল্লাহ দিলেন নির্দেশ—রাতে বেরিয়ে যাও,
বনী ইসরাঈলকে নিয়ে মিসর ছেড়ে যাও।
মুসা চললেন সামনে রেখে আল্লাহরই ভরসা,
পেছনে তখন ফেরাউনের সৈন্য—বাড়ছে ভয়ের দমকা।

সামনে তখন বিশাল সাগর, পেছনে শত্রুদল,
সঙ্গীদের চোখে ভয় জাগে—কী হবে এখন বল?
চারদিকে যেন বন্ধ পথ, নেই কোনো উপায়,
মানুষের হিসাব বলছে—“এবার মৃত্যু চায়!”

সঙ্গীরা তখন ভীত হয়ে বলল—“ধরা পড়েছি!”
মুসা বললেন—“কখনো নয়, রবের সাথে আছি!”
“
আমার রব আছেন সাথে, পথ তিনি দেখাবেন,
যে পথ মানুষ জানে না, রব সে পথ খুলে দেবেন।”

কী অটল সেই ঈমানবাণী—কী গভীর বিশ্বাস,
বিপদেরই মাঝখানেও নেই হতাশার নিশ্বাস।
সামনে সাগর, পেছনে শত্রু, তবু নেই সংশয়,
আল্লাহ যার সহায় হন—তার কীসের ভয়?

রবের হুকুম এলো তখন—“লাঠি দিয়ে আঘাত করো”,
আল্লাহরই নির্দেশ মেনে সাগরপানে চলো।
লাঠির আঘাত পড়ল যখন রবেরই হুকুমে,
সাগর তখন পথ বানাল আল্লাহরই কুদরতে।

জল দাঁড়াল পাহাড়সম, মাঝখানে হলো পথ,
মুসা চললেন সঙ্গীদের নিয়ে দৃঢ়চিত্ত।
যে সাগর ছিল বাধা, হলো মুক্তির দ্বার,
রবের কুদরত দেখে মুছে গেল অন্তরের ভার।

সাগর যদি সামনে থাকে, ভয় পেয়ো না ভাই,
রবের হুকুম এলে সাগরও পথ হয় তাই।
মানুষের চোখে অসম্ভব—রবের কাছে কী?
তিনি চাইলে মুহূর্তে বদলে দেন সবই।

ফেরাউনও পিছু নিল অহংকারের তাড়ায়,
সৈন্য নিয়ে ঢুকে পড়ল সেই সমুদ্রের ধারায়।
মুসা পার হলেন, পেছনে এলো জালিমদল,
অহংকারে তারা ভুলে গেল—আল্লাহ সর্ববল।

যে পথ ছিল মুমিনদের জন্য রবের দেওয়া দয়া,
জালিমের জন্য সেই পথ হলো ধ্বংসের ছায়া।
একই পথে দুই দলের ভাগ্য হলো ভিন্ন,
আল্লাহর কুদরতে স্পষ্ট হলো সত্য-মিথ্যার ঋণ।

সমুদ্র যখন বন্ধ হলো আল্লাহরই হুকুমে,
ফেরাউন ডুবে গেল তার সৈন্যেরই ভিড়ে।
শেষ সময়ে ঈমানের কথা উচ্চারণ করল সে,
কিন্তু সময় চলে গেলে অনুতাপ কি ফল দেয় শেষে?

জীবন থাকতে সত্য এলে গ্রহণ করো প্রাণে,
মৃত্যুর দ্বারে এসে তাওবা—কী ফল তার টানে?
তাই আজই ফিরে এসো, আজই ধরো রবের পথ,
কাল যে আসবেই—তার নিশ্চয়তা কোথায় বলো সত্য?

যে বলেছিল—“আমি বড়”, সে হলো আজ পরাজিত,
যে করেছিল জুলুম, হলো নিজের জুলুমে নিঃশেষিত।
সিংহাসন গেল, রাজদণ্ড গেল, গেল বাহিনীর বল,
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে হলো ধূলিসমতল।

ক্ষমতা যার হাতে থাকে, সে যেন না হয় গর্বিত,
সম্পদ পেলে ভুলে যেও না—রবের দানই সত্য।
মানুষ যত বড়ই হোক, মৃত্যু তারও আছে,
রবের সামনে সবাই বান্দা—সমান তাঁর কাছে।

মুসার দাওয়াত ছিল এক আল্লাহর দিকে,
শিরকের সব পথ ছেড়ে তাওহিদের আলো বুকে।
স্রষ্টা আর সৃষ্টি কখনো এক হতে পারে না,
আল্লাহর কোনো শরিক নেই—এ সত্য ভুলো না।

তিনি এক, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর সমকক্ষ নেই,
তাঁরই হাতে জীবন-মরণ, দুনিয়া-আখিরাত সেই।
তাঁরই কাছে চাইব সাহায্য, তাঁরই কাছে দোয়া,
তাঁরই ওপর ভরসা রেখে চলব সোজা পথ ধরা।

তাওয়াক্কুল মানে বসে থাকা—এ কথা সত্য নয়,
চেষ্টা করে রবের ওপর ভরসাই তার পরিচয়।
মুসা চললেন, দায়িত্ব নিলেন, মানলেন রবের হুকুম,
তারপরও সব ফলাফলের মালিক আল্লাহ পরম।

চেষ্টা থাকবে, দোয়া থাকবে, থাকবে সৎ সাধনা,
হার না মেনে এগিয়ে যাব—এটাই মুমিনের প্রেরণা।
ফল যদি আসে নিজের মতো, শুকরিয়া দেব প্রাণে,
ফল যদি ভিন্ন হয় তবু রবের হুকুম মানে।

বিপদ এলে বলো না—“আমার সবই শেষ”,
রবের রহমত অশেষ, তাঁরই হাতে রেশ।
আজ যে পথ বন্ধ মনে, কাল তা খুলতে পারে,
আজ যে দুঃখ অশ্রু ঝরায়, কাল হাসি দিতে পারে।

মুমিন কখনো রবের রহমত থেকে নিরাশ নয়,
আল্লাহর সাহায্য পেলে কঠিন কিছুই নয়।
তবে ধৈর্য মানে অন্যায় মেনে নেওয়া নয়,
বৈধ পথে চেষ্টা করাই মুমিনের পরিচয়।

জুলুম করে কেউ কখনো সত্যিকার জয় পায় না,
অন্যের চোখের অশ্রু দিয়ে সুখের প্রাসাদ হয় না।
অন্যের হক যে কেড়ে নেয়, সে যেন মনে রাখে,
আল্লাহর কাছে প্রতিটি হক হিসাব হয়ে থাকে।

ক্ষমতার চেয়ার ক্ষণিক শুধু, বিচার চিরস্থায়ী,
দুনিয়ার আদালত এড়ালেও রবের বিচার নাই?
বরং তাঁর বিচার থেকে পালানোর কোনো পথ নেই,
তাই ন্যায়ের পথে থাকাই শ্রেষ্ঠ জীবন—এই কথাই।

নেতৃত্ব যদি পাও তুমি, আমানত মনে করো,
দুর্বল মানুষের অধিকার সযতনে রক্ষা করো।
ক্ষমতা দিয়ে মানুষ দমাও—এটা নেতৃত্ব নয়,
ন্যায় দিয়ে মানুষ গড়াই সত্য নেতৃত্বের জয়।

ফেরাউন ক্ষমতা পেয়ে নিজেকে বড় মানল,
মুসা রবের বান্দা হয়ে সত্যের পথে চলল।
একজন গড়ল জুলুম, একজন দিল মুক্তির ডাক,
ইতিহাস আজও বলে—কোন পথে আছে প্রকৃত হক।

মুসার মায়ের ঈমান শেখায় মায়ের হৃদয়,
সন্তানের জন্য রবের ওপর রাখো দৃঢ় বিশ্বাসময়।
সন্তান শুধু দেহ নয়, আমানত আল্লাহর,
তার অন্তরে ঈমান জাগাও—এই দায়িত্ব মায়ের-বাবার।

শুধু খাদ্য, পোশাক দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
সন্তানের চরিত্র গড়াও—এটাই পিতার জয়।
নামাজ, সত্য, আদব, আমল, তাকওয়া শেখাও,
সুন্দর মানুষ হওয়ার পথে সন্তানকে এগিয়ে দাও।

হে তরুণ, হে শিক্ষার্থী, মুসার কাহিনি পড়ো,
সত্যের পথে দৃঢ় হয়ে নিজের জীবন গড়ো।
জ্ঞান অর্জন করো, তবে অহংকারে ভেসো না,
জ্ঞান পেয়ে মানুষকে ছোট করে নিজে বড় হয়ো না।

শিক্ষকের সম্মান রেখো, পিতা-মাতার মান,
সত্য কথা বলো সদা, রাখো পবিত্র প্রাণ।
বন্ধু বেছে নাও বুঝে, মন্দ পথে যেও না,
দুনিয়ার ক্ষণিক মোহে আখিরাত হারিয়ো না।

আজও যদি ক্ষমতা পেয়ে ফেরাউনের মতো হও,
তবে মনে রেখো—পতনের পথ নিজেই গড়ো।
আজও যদি দুর্বল দেখে জুলুম করতে চাও,
মুসার কাহিনি পড়ে নিজের অন্তরটাকে চাও।

আজও যদি সত্য শুনে অহংকারে ফিরো,
ফেরাউনের পরিণতি মনে রেখে নিজেকে শোধরাও।
আজ যদি পথ বন্ধ দেখে হতাশ হয়ে যাও,
মুসার সেই তাওয়াক্কুল হৃদয়ের মাঝে আনো।

ফেরাউন শুধু ইতিহাসে—এ কথা ভাবা ভুল,
অহংকারের বীজ থাকলে অন্তরও হয় বিকল।
“
আমি বড়, আমি শ্রেষ্ঠ”—এই ভাব যদি আসে,
তবে নিজের অন্তরটাকে পরীক্ষা করো পাশে।

অন্যকে ছোট করি কি? ক্ষমতা পেলে বদলাই?
নিজের ভুল স্বীকার না করে অন্যের দোষ খুঁজি?
অন্যের অধিকার নষ্ট করে শান্তিতে কি থাকি?
এসব প্রশ্ন নিজের কাছে প্রতিদিন একবার রাখি।

ফেরাউনের কাহিনি শুধু অন্যের জন্য নয়,
নিজের অন্তর দেখার জন্য—এ শিক্ষাই বড় হয়।
বাইরে জুলুম খুঁজি আগে, ভেতরটা দেখি না,
নিজের ভুল না শুধরালে সত্য শিক্ষা হয় না।

সত্যের পথে চলতে গেলে বাধা আসবেই ভাই,
মিথ্যার সাথে আপস করে সত্যকে হারিও না তাই।
আজ না বুঝুক মানুষ, কাল বুঝবে সত্য,
আল্লাহর কাছে সৎ থাকা—এটাই আসল সম্পদ।

মানুষের প্রশংসা ক্ষণিক, মানুষের নিন্দাও ক্ষণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের আপন ধন।
দুনিয়া যদি পিঠও ফেরায়, রবকে হারিও না,
সত্যের পথে দাঁড়িয়ে থেকো, পিছু হটিও না।

সোনা-রূপা, ধন-সম্পদ, প্রাসাদ আর মান,
সবই ক্ষণিক, সবই শেষে হবে একদিন অবসান।
সিংহাসনের মালিকও একদিন মাটির ঘরে,
রাজা-প্রজা সবাই যাবে রবের দরবারে।

তাই সম্পদ পেলে শুকরিয়া, ক্ষমতা পেলে ন্যায়,
জ্ঞান পেলে বিনয় রেখো, সম্মান পেলে দায়।
জীবনটাকে গড়ে তোলো আখিরাতের তরে,
রবের সন্তুষ্টি খুঁজে নাও প্রতিটি কাজের পরে।

কুরআন শুধু কাহিনি নয়—জীবনেরই দিশা,
অতীতের সেই ঘটনাতে বর্তমানের শিক্ষা।
মুসার পথে ঈমান রাখো, ফেরাউনের পথ ছাড়ো,
অহংকারের কালো ছায়া হৃদয় থেকে ঝাড়ো।

জুলুম ছেড়ে ন্যায় ধরো, মিথ্যা ছেড়ে সত্য,
শিরক ছেড়ে তাওহিদ ধরো—এই তো মূল পথ।
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো, দোয়া করো প্রাণে,
কুরআনের আলোয় জীবন গড়ো, রবের বিধান মানে।

জীবন যদি সাগর হয় আর ঢেউ ওঠে ভারী,
পেছনে যদি দুঃখ আসে, সামনে বিপদ সারি,
মনে রেখো মুসার কথা—“রব আছেন সাথে”,
আল্লাহ চাইলে পথ খুলবে অন্ধকারের রাতে।

তুমি শুধু সত্য থাকো, অন্যায় ছেড়ে দাও,
বৈধ পথে চেষ্টা করো, রবের ওপর ভরসা রাখো।
যে রব সাগর ভাগ করেন, তিনি কি অসহায়?
বান্দা যদি সত্য থাকে, রব কি তাকে ভুলে যায়?

হে মানুষ, অহংকার ছেড়ে বিনয় ধরো প্রাণে,
নিজের সবই রবের দান—ভুলো না সে জ্ঞানে।
চোখের আলো, প্রাণের স্পন্দন, শ্বাসের প্রতিটি ক্ষণ,
সবই তাঁর অনুগ্রহ—তাঁরই দান অনুপম।

যে দেহ নিয়ে গর্ব করো, মাটিতেই হবে শেষ,
যে সম্পদ নিয়ে গর্ব করো, রেখে যাবে সবশেষ।
যে পদ নিয়ে গর্ব করো, অন্য কেউ তা নেবে,
কাজ আর আমল সঙ্গে যাবে—বাকি সবই রবে।

বিজয় মানে শুধু নয় রাজ্য জয় করা,
বিজয় হলো নফসকে রবের পথে ধরা।
বিজয় হলো সত্য বলা, ন্যায়ের পথে থাকা,
বিজয় হলো অন্যায়ের হাত থেকে নিজেকে রাখা।

বিজয় হলো বিপদে ধৈর্য, সুখে শুকরিয়া,
বিজয় হলো রবের প্রতি ভালোবাসা বাড়ানো।
বিজয় হলো তাওহিদের পথে জীবন সাজানো,
বিজয় হলো আখিরাতে রবের সন্তুষ্টি পাওয়া।

এসো তবে মুসার মতো সত্যের পথে চলি,
ফেরাউনের অহংকার থেকে অন্তরটাকে তুলি।
জুলুম ছেড়ে ন্যায় ধরি, মিথ্যা ছেড়ে সত্য,
তাওহিদের আলোয় গড়ি জীবন পবিত্র।

বিপদ এলে কাঁদব আমরা, তবু হব না হতাশ,
রবের রহমত আঁকড়ে ধরে রাখব অন্তরবিশ্বাস।
চেষ্টা করব, দোয়া করব, রাখব রবের ভরসা,
তাঁরই পথে জীবন দেব—এটাই মুমিনের আশা।

ফেরাউন শেখায়—অহংকার কখনো জয়ী নয়,
মুসা শেখান—তাওয়াক্কুলে মুমিনের পরাজয় নয়।
ফেরাউন শেখায়—জুলুম শেষে ধ্বংস ডাকে,
মুসা শেখান—সত্য থাকলে রব সাহায্য রাখেন পাশে।

ফেরাউন শেখায়—ক্ষমতা ক্ষণিক, রবের ক্ষমতা চির,
মুসা শেখান—আল্লাহর ওপর রাখো বিশ্বাস স্থির।
ফেরাউন শেখায়—সত্য অস্বীকার বিপদের কারণ,
মুসা শেখান—তাওহিদই মুমিনের জীবনের প্রাণ।

হে আল্লাহ, অন্তর থেকে অহংকার মুছে দাও,
মিথ্যা, জুলুম, অন্যায় থেকে আমাদের রক্ষা দাও।
মুসার মতো সত্য পথে অটল থাকার শক্তি দাও,
বিপদের মাঝে তাওয়াক্কুলের নির্মল আলো দাও।

তাওহিদের বিশ্বাস দাও, শিরক থেকে রাখো দূরে,
সুন্নাহর পথে চলার তাওফিক দাও অন্তরে।
অন্যের হক নষ্ট না করি, জুলুম যেন না করি,
তোমার ভয় আর ভালোবাসায় জীবনটাকে গড়ি।

হে রব, ক্ষমতা দিলে ন্যায়বিচার করার দাও,
সম্পদ দিলে শুকরিয়া আর দান করার দাও।
জ্ঞান দিলে বিনয় দাও, সম্মান দিলে ধৈর্য,
বিপদ এলে সবর দাও, সুখে দাও কৃতজ্ঞতা-ঐশ্বর্য।

যখন পথ বন্ধ হবে, তোমাকেই যেন চাই,
যখন দুঃখ ঘিরে ধরবে, তোমাকেই যেন পাই।
মুসার সেই অটল বাণী রাখো হৃদয়জুড়ে—
“
আমার রব আমার সঙ্গে”—বিশ্বাস থাকুক অন্তরভরে।

ফেরাউনের সিংহাসন আজ ইতিহাসের পাতায়,
মুসার সত্যের বাণী আজও জাগে মানুষের হৃদয়গাঁথায়।
জুলুম যত বড় হোক, সত্য হবে জয়ী,
আল্লাহরই হুকুমে শেষ হবে অন্যায়ের ক্ষয়ী।

অহংকারের মুকুট শেষে ধূলির সাথে মেশে,
তাওহিদের আলো জ্বলে যুগের পর যুগ শেষে।
মানুষ যদি রবকে মানে, ন্যায়কে করে সাথী,
দুনিয়া পেরিয়ে আখিরাতে পাবে সফলতার গাথা।

তাই এসো আজ শপথ করি—সত্য ছাড়ব না,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে পথ হারাব না।
রবের ওপর ভরসা রেখে সৎ পথে চলব,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় জীবনটাকে গড়ব।

মুসার মতো ঈমান চাই, ফেরাউনের পথ নয়,
তাওহিদের আলো চাই, অহংকারের রাত নয়।
সত্যের পথে জীবন হোক, ন্যায়ের পথে গতি,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের পরম গতি।

হে আল্লাহ, আমাদের ঈমান দৃঢ় করো,
তোমার আনুগত্যে জীবন সুন্দর করো।
সত্যের পথে অটল রাখো, অন্যায় থেকে বাঁচাও,
দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার রহমত দাও।

হে আল্লাহ—তোমার ওপর ভরসা করি,
তোমারই পথে জীবন গড়ি;
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শেষ আশা—

এটাই হলো মনের গভীরের প্রত্যাশা।
আমিন,

 

মন্তব্য করুন