সহকারী অধ্যাপক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ
জান্নাত ও জাহান্নাম -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
জান্নাত ও জাহান্নাম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
শ্রদ্ধাভরে রচিত হোক মহিমাময় এক মহাগাথা,
যে গাথায় জাগে বিশ্বজুড়ে তাওহীদের বারতা।
সকল প্রশংসা আল্লাহর, জগতের যিনি রব,
তাঁরই হুকুমে সৃষ্টি ধরা, তাঁরই দয়ায় সব।
তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ, দিয়েছেন জ্ঞান-বিবেক,
দিয়েছেন সত্য-মিথ্যার মাঝে বেছে নেওয়ার পথরেখা এক।
দিয়েছেন কিতাব, পাঠিয়েছেন নবী, দেখিয়েছেন সোজা পথ,
যে পথে চলে মেলে নাজাত, মুছে যায় মনের ক্ষত।
দুনিয়া শুধু শেষ ঠিকানা—এ কথা সত্য নয়,
মৃত্যুর পরে আছে জীবন, জবাবদিহির ভয়।
কবর পেরিয়ে উঠবে মানুষ মহাপ্রলয়ের দিন,
প্রকাশ পাবে গোপন কর্ম, প্রকাশ পাবে ঋণ।
সেদিন নেই কোনো আশ্রয়, নেই মিথ্যার অবকাশ,
আল্লাহর ন্যায়বিচারের সামনে প্রকাশ পাবে সর্বনাশ।
কারও আমল তাকে রক্ষা দেবে, কারও হবে লজ্জা,
কারও মুখে ফুটবে হাসি, কারও চোখে অশ্রুধারা।
এই দুনিয়া ক্ষণিকের পথ, সবাই পথের যাত্রী,
কেউ বা আজ, কেউ বা কাল—ফিরবে রবের প্রতি।
ধন-দৌলত, মান-সম্মান, ক্ষমতা, রাজপ্রাসাদ,
মৃত্যু এলে ফেলে যেতে হয় সবই এই সংসার।
যে দেহ নিয়ে অহংকারে মানুষ চলে পথ,
মাটির নিচে একদিন তার হবে শেষের রথ।
যে মুখ দিয়ে মিথ্যা বলে, করে অন্যায় কাজ,
সেই মুখও একদিন হবে নীরব, থামবে তার আওয়াজ।
সোনার ঘর, দামী পোশাক, জমি-বাড়ি যত,
কোনোটিই যাবে না সঙ্গে—সত্য এটাই শত।
সঙ্গে যাবে ঈমান-আমল, যাবে সৎকর্মের ফল,
যে জীবন ছিল আল্লাহমুখী, তারই হবে সফল।
তাই হে মানুষ, ঘুম ভেঙে আজ সত্যের পথে চলো,
গুনাহ ছেড়ে তাওবার পথে অন্তরটাকে ঢালো।
আজ যে সুযোগ হাতে আছে, কাল তা থাকবে না,
মৃত্যুদূত এলে কিন্তু ফিরে আসার পথও না।
জান্নাত মানে বাগান—সুশোভিত, মনোহর,
আখিরাতে মুমিনদের জন্য আল্লাহর মহা উপহার।
নদী বহে তলদেশ দিয়ে, ফলের বাগান সারি,
নিয়ামতে ভরা সেই উদ্যান—অতুলনীয় তারই ভারি।
কুরআন বলে—সেখানে আছে নদীর নির্মল ধারা,
দুধ, মধু, পানীয়ের স্রোত—নিয়ামতের ভাণ্ডার সারা।
আছে পবিত্র সঙ্গী, আছে শান্তিময় জীবন,
নেই সেখানে কষ্ট-ক্লেশ, নেই কোনো অবসাদ-ক্ষণ।
নেই সেখানে রোগ-ব্যাধি, নেই বার্ধক্যের ছাপ,
নেই সেখানে ভয়-ভীতি, নেই কোনো অশান্তির তাপ।
নেই হিংসা, নেই বিদ্বেষ, নেই মনের কালো দাগ,
ভ্রাতৃত্ব, শান্তি, ভালোবাসায় ভরে থাকবে অনুরাগ।
সেখানে নেই কোনো মৃত্যু, নেই বিচ্ছেদের ভয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টি পেয়ে মুমিনের মহাজয়।
যে সুখের শেষ নেই কখনো, নেই যার অবসান,
সেই জান্নাতই মুমিনদের চিরকালের সম্মান।
সেখানে আছে ছায়াঘেরা উদ্যানের সারি,
সবুজ পাতায় মৃদু বাতাস, সৌরভে ভরা ভারি।
ফলের ডালে ফল ঝুলে রয়, আহ্বান করে প্রাণ,
যে ফল চায় মুমিন বান্দা, পায় সে তারই দান।
সেখানে ক্লান্তি নেই কোনো, নেই পরিশ্রমের ভার,
নিয়ামতের পর নিয়ামত—অপরিসীম উপহার।
সেখানে থাকবে নিরাপত্তা, থাকবে শান্তি-সুখ,
আল্লাহর রহমতে ভরে যাবে মুমিনের অন্তর-বুক।
সেখানে সালাম হবে সম্ভাষণ, শান্তির মধুর বাণী,
ফেরেশতারা অভ্যর্থনা করবে—সৌভাগ্যেরই নিশানি।
সেখানে রবের সন্তুষ্টি হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি,
দুনিয়ার সব সুখের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সেই মহাশান্তি।
জান্নাত শুধু ভোগের স্থান—এ ধারণা যেন না হয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই সেখানে সর্বোচ্চ মহাজয়।
যে রবের জন্য জীবন দিল, রবের হুকুম মানল,
শেষ বিচারে তাঁরই দয়ায় জান্নাতের পথ পেল।
ঈমান রাখো অন্তরে, তাওহীদ রাখো প্রাণে,
রাসুল ﷺ-এর সুন্নাহ মেনে চলো সঠিক জ্ঞানে।
নামাজ কায়েম করো, দাও যাকাত, রোজা রাখো প্রাণ,
হজের সামর্থ্য হলে হজ—এটাই ইসলামের বিধান।
পিতা-মাতার সেবা করো, আত্মীয়তার বন্ধন রাখো,
অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার হাত বাড়াও।
সত্য কথা বলো সদা, আমানত করো রক্ষা,
জুলুম ছেড়ে ন্যায়কে ধরো—এতেই জীবনের শিক্ষা।
চোখকে রাখো সংযমে, জিহ্বাকে রাখো থামিয়ে,
হারাম থেকে দূরে থেকো আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে।
হিংসা, অহংকার, গীবত ছেড়ে পবিত্র করো মন,
ক্ষমা, দয়া, সততা দিয়ে গড়ো আপন জীবন।
তাওবা করো গুনাহ হলে, হতাশ হয়ো না,
আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হয়ো না।
পাপ যত বড় হোক না কেন, ফিরে এসো তাঁর দ্বারে,
সত্য তাওবার অশ্রু ঝরুক গভীর অন্তরে।
ধন নয়, দেহ নয় শুধু, নয় কোনো প্রাসাদ,
জান্নাতের সর্বোচ্চ দান—রবের সন্তুষ্টির স্বাদ।
আল্লাহর সন্তুষ্টি পেয়ে মুমিন হবে ধন্য,
সেই প্রাপ্তির তুলনা নেই—সেটিই সর্বশ্রেষ্ঠ পুণ্য।
দুনিয়ার রাজত্ব ক্ষণিক, দুনিয়ার সুখ ক্ষয়,
আখিরাতের পুরস্কারই সত্যিকারের মহাজয়।
যে আল্লাহকে ভালোবাসে, আল্লাহর পথে চলে,
তার জন্যই সুসংবাদ আসে কুরআনের বাণী বলে।
জাহান্নাম আগুনের আবাস, ভয়াবহ তার রূপ,
অবাধ্যতার পরিণতি সেখানে কঠিন ও অনুপম।
দুনিয়ায় মানুষ হাসে যদি আল্লাহকে ভুলে,
আখিরাতে কী হবে তার—ভাবো হৃদয় খুলে।
জাহান্নামের আগুন তীব্র, শাস্তি কঠিন ভার,
অন্যায়কারী সেখানে পাবে কর্মেরই ফলধার।
কুরআনের সতর্কবাণী মানুষকে দেয় শিক্ষা,
পাপের পথে না চলাই তো মুমিনের মহাদীক্ষা।
যারা সত্য অস্বীকার করে, কুফরিতে যায় মরে,
চিরস্থায়ী শাস্তির কথা কুরআন জানায় তাদের তরে।
তবে কোনো মুমিন গুনাহগার হলে তার বিধান ভিন্ন,
আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করেন—তিনি পরম করুণাময় চিরদিন।
তাই কাউকে কাফির বলা নয় নিজের মনগড়া মত,
আকিদা বিষয়ে চাই জ্ঞান, দলিল, সতর্ক পথ।
আল্লাহর হুকুম সর্বোচ্চ, তাঁরই চূড়ান্ত জ্ঞান,
তিনি যাকে ক্ষমা করেন, তারই হয় পরিত্রাণ।
অহংকারে সত্য ছেড়ো না, দম্ভে হয়ো না অন্ধ,
অবাধ্যতার পথে গেলে জীবন হবে মন্দ।
জুলুম করে ভেবো না—কেউ দেখছে না তোমায়,
আকাশ-জমিনের রব তো দেখেন প্রতিটি কর্ম তোমায়।
হারাম উপার্জন, প্রতারণা, মিথ্যা ও বিশ্বাসঘাতকতা,
অন্যের হক নষ্ট করা—সবই ভয়াবহ অন্যায়তা।
কারও চোখের পানি যদি তোমার হাতে ঝরে,
মনে রেখো, তার বিচার হবে আল্লাহর দরবারে।
এতিমের সম্পদ গ্রাস কোরো না, করো না জুলুম,
দুর্বলের অধিকার কেড়ে নিও না—এটাই ইসলামের মর্ম।
মাপে কম দিও না, আমানতে করো না খেয়ানত,
মানুষের হক ফিরিয়ে দাও—এতেই অন্তরের পবিত্রতা।
শুধু ভয় নয়, শুধু আশা নয়—মুমিন চলে মাঝপথে,
আল্লাহর রহমতের আশা, পাপের ভয়ও থাকে অন্তরে।
জান্নাতের আশা তাকে ভালো কাজের পথে টানে,
জাহান্নামের ভয় তাকে গুনাহ থেকে দূরে আনে।
ভয় যদি থাকে, হতাশ হয়ো না—রহমত আল্লাহর বিশাল,
আশা যদি থাকে, পাপে থেকো না—তাওবার পথই সম্বল।
রহমতের আশায় পাপ করা কখনো মুমিনের কাজ নয়,
আবার পাপ করে ভাবা—‘ক্ষমা পাব’—এও মিথ্যা আশ্রয়।
সঠিক মুমিন আল্লাহকে ভয় করে, ভালোবাসে তাঁকে,
তাঁর দয়া চায়, ক্ষমা চায়, ফিরে আসে তাঁর ডাকে।
নেক আমলে এগিয়ে যায়, ভুল হলে নেয় শিক্ষা,
তাওবা দিয়ে ধুয়ে ফেলে অন্তরের সব মলিনতা।
মৃত্যু কারও বয়স দেখে আসে না এই সংসারে,
ধনী-গরিব সবাই যাবে একদিন সেই পারে।
যৌবন বলে রেহাই নেই, বার্ধক্যও নয় ঢাল,
মৃত্যুর ডাকে সাড়া দিতে হবে—এটাই চিরকাল।
আজ যে মানুষ ব্যস্ত খুবই দুনিয়ার আয়োজন,
কাল সে মানুষ শুয়ে থাকবে নিস্তব্ধ শ্মশান।
ইসলামের শিক্ষা বলে—মৃত্যু স্মরণ করো বারবার,
এ স্মরণ মানুষকে ফিরিয়ে আনে সত্যেরই দ্বার।
তাই ঘর বানাও, সংসার করো, হালাল পথে চলো,
দুনিয়ার দায়িত্ব পালন করে আখিরাতের পাথেয় গড়ো।
দুনিয়া ত্যাগ করাই ইসলাম—এ কথা সঠিক নয়,
বরং দুনিয়ায় থেকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হওয়াই জয়।
সেদিন খুলবে আমলনামা, প্রকাশ পাবে সব,
লুকানো কথা, গোপন কাজ—জানবেন একমাত্র রব।
ছোট-বড় কোনো কাজই সেদিন বাদ যাবে না,
মানুষ তখন নিজ কর্ম দেখে অবাক হবে না?
একটি কথা কারও মনে দিতে পারে সুখ,
একটি কথা আবার ভেঙে দিতে পারে মানুষের বুক।
তাই জিহ্বাকে সংযত রেখো, মিষ্টি কথা বলো,
কঠিন কথা বলার আগে নিজের অন্তরকে চলো।
একটি দান হয়তো ক্ষুদ্র, তবু হতে পারে বড়,
একটি অশ্রু, একটি তাওবা—রহমতের দ্বার খোলে পর।
একটি নামাজ, একটি সিজদা, একান্ত রবের কাছে,
কত যে মূল্য তার—মানুষ কি তা বোঝে?
সেদিন মানুষ পালাতে চাইবে, পালানোর পথ কোথায়?
রাজা-বাদশাহ, ধনী-গরিব—সবাই দাঁড়াবে একই ঠাঁই।
কেউ কারও বোঝা নেবে না, কেউ হবে না কারও ঢাল,
আল্লাহর সামনে প্রত্যেকেই হবে নিজ কর্মের জবাবদিহির কাল।
সেদিন মিথ্যা অজুহাত কোনো কাজে আসবে না,
সম্পদ, ক্ষমতা, পরিচয় কিছুই পাশে থাকবে না।
যে ঈমান নিয়ে বেঁচে ছিল, সৎকর্ম ছিল যার সাথি,
আল্লাহর রহমতে তারই হবে সফলতার প্রভাতি।
যে সত্য জেনেও ফিরল মুখ, করল অবাধ্যতা,
তার সামনে ফুটে উঠবে নিজেরই কর্মের কথা।
তাই আজই হিসাব নাও—কী করেছি দিনভর?
আখিরাতের পাথেয় কত?—ভাবো অন্তরভর।
হে মানুষ, যদি পাপ করে থাকো, ফিরে এসো আজ,
তাওবার দরজা খোলা আছে—এটাই রবের সাজ।
চোখের পানি ঝরুক নীরবে, অন্তর হোক নরম,
‘হে আল্লাহ, ক্ষমা করো’—এই হোক প্রাণের মর্ম।
কারও হক মেরে থাকলে তার হক ফিরিয়ে দাও,
অন্যায় করে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে শোধরাও।
হারাম ছেড়ে হালাল ধরো, সত্যের পথে চলো,
নামাজ দিয়ে দিন সাজিয়ে কুরআনের আলো জ্বালো।
শয়তান বলবে—‘কাল করো’, তুমি বলো—‘আজ’,
গুনাহ বলবে—‘আরেকবার’, তুমি বন্ধ করো সেই কাজ।
মৃত্যু কিন্তু সময় বলে দরজায় কড়া নাড়ে না,
তাই তাওবার সুযোগ পেলে ফিরতে দেরি কোরো না।
সন্তানকে শুধু দুনিয়ার বিদ্যা শেখালেই হবে না,
আখিরাতের জ্ঞান না দিলে শিক্ষা পূর্ণ হবে না।
শেখাও তাকে নামাজ পড়তে, সত্য কথা বলতে,
শেখাও তাকে মানুষের পাশে ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়াতে।
শেখাও—আল্লাহ দেখেন তাকে, গোপন-প্রকাশ্য সব,
শেখাও—হারাম থেকে বাঁচতে, ভয় করতে মহান রব।
শেখাও—জান্নাত সত্য, জাহান্নামও সত্য,
শেখাও—ঈমান ছাড়া জীবন হয় না পরিপূর্ণ।
সন্তানের হাতে দাও কুরআন, হৃদয়ে দাও তাকওয়া,
জ্ঞান ও চরিত্রে গড়ে তোলো—এটাই শ্রেষ্ঠ প্রত্যাশা।
শুধু অর্থের পেছনে ছুটে সন্তানকে করো না নিঃস্ব,
আখিরাতের পথ না দেখালে ধনও হবে পরাভব।
জান্নাতের আশা যদি সত্যি থাকে অন্তরে,
তবে ন্যায় ও সততা আনো সমাজের প্রতিটি ঘরে।
জাহান্নামের ভয় যদি থাকে মুমিনের প্রাণে,
তবে জুলুম কেন থাকবে মানুষেরই ব্যবহারে?
প্রতারণা ছেড়ে দাও, বন্ধ করো মিথ্যা বাণিজ্য,
অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দাও—এটাই প্রকৃত ন্যায়।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও, ক্ষুধার্তকে দাও আহার,
বিধবার চোখের পানি মুছে দাও ভালোবাসার ভার।
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করো, আত্মীয়তার বন্ধন রাখো,
ক্ষমা ও দয়ার সৌরভ দিয়ে চারপাশটা ভরাও।
একজন যদি ভালো হয়, ভালো হয় একটি ঘর,
একটি ঘর ভালো হলে সমাজ হয় সুন্দরতর।
হে মুমিন, জান্নাত চাও—চাও আল্লাহর সন্তুষ্টি,
চাও এমন জীবন, যেখানে নেই পাপের অন্ধকূপের দুষ্টি।
চাও কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক প্রাণ,
চাও সুন্নাহর পথে কাটুক জীবন-অভিযান।
জান্নাতের পথে কাঁটা আছে—তবু সেদিকে চলো,
দুনিয়ার মোহ ছেড়ে সত্যের আলোয় মনটা ঢালো।
নফস যদি টানে পাপে, ঈমান দিয়ে রুখে দাও,
আল্লাহর ভয় হৃদয়ে রেখে নিজেকে শুদ্ধ করাও।
হে আল্লাহ, জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো,
অবাধ্যতার অন্ধকার থেকে আমাদের দূরে ধরো।
শয়তানের ধোঁকা থেকে রাখো আমাদের নিরাপদ,
হারাম, জুলুম, কুফরি থেকে রাখো হৃদয়কে মুক্ত।
অহংকার যেন গ্রাস না করে, হিংসা যেন না বাড়ে,
মিথ্যা যেন ঠাঁই না পায় আমাদের কোনো কথার দ্বারে।
অন্যের হক নষ্ট করে যেন না করি জীবন পার,
তাওবা ও ইস্তিগফারে ভরিয়ে দাও অন্তর-দুয়ার।
দুটি পথ সামনে খোলা—একটি নাজাতের পথ,
অন্যটি পাপের অন্ধকার, যার পরিণতি কঠিন ক্ষত।
এক পথে ঈমান, তাকওয়া, সত্য ও সৎ আমল,
অন্য পথে কুফর, জুলুম, পাপ—ধ্বংসেরই সম্বল।
তুমি কোন পথ নেবে আজ—ভাবো নিজের প্রাণে,
মৃত্যু এসে গেলে কিন্তু সময় পাবে না টানে।
আজকের সিদ্ধান্তই গড়বে আগামী দিনের ঠিকানা,
আজকের আমলই হবে কাল তোমার পরিচয়খানা।
এসো তবে সত্যের পথে, এসো রবের দিকে,
ভুলে যাওয়া হৃদয়টাকে ফিরিয়ে নাও ঠিকেই।
কুরআন হোক পথের আলো, সুন্নাহ হোক সাথি,
ঈমান হোক হৃদয়ের শক্তি, তাকওয়া হোক গাঁথি।
নামাজ হোক জীবনের প্রাণ, তাওবা হোক ভাষা,
হালাল হোক উপার্জনের পথ, আল্লাহর রহমত আশা।
মানুষের হক রক্ষা করো, করো না কারও ক্ষতি,
এভাবেই গড়ো জীবন—এতেই প্রকৃত গতি।
জান্নাতের স্বপ্ন রাখো মনে, জাহান্নামকে ভয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টি পেলে সেটিই চরম জয়।
দুনিয়ার মোহ ক্ষণিকের, আখিরাত চিরস্থায়ী,
বুদ্ধিমান সে-ই, যে রবের পথে জীবন সাজায় ভাই।
হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ঈমান করো দৃঢ়,
তোমার পথে চলার শক্তি দাও অন্তরে স্থির।
কুরআনের আলোয় ভরাও আমাদের জীবন,
সুন্নাহর পথে রাখো আমাদের প্রতিটি ক্ষণ।
গুনাহ হলে তাওবার তাওফিক দাও,
ভুল হলে সংশোধনের শক্তি দাও।
অন্যের হক নষ্ট করলে ফিরিয়ে দেওয়ার জ্ঞান,
জুলুম করলে ক্ষমা চাওয়ার দাও পবিত্র মান।
মা-বাবার খেদমত করার তাওফিক দাও,
আত্মীয়-স্বজনের অধিকার রক্ষার শক্তি দাও।
দরিদ্র-অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর মন দাও,
অহংকার ছেড়ে বিনয়ের জীবন দাও।
হারাম থেকে বাঁচাও, হালালে সন্তুষ্ট রাখো,
রিয়া, হিংসা, বিদ্বেষ থেকে অন্তরটাকে ঢাকো।
মৃত্যুর আগে তাওবা করার সুযোগ দাও,
শেষ নিঃশ্বাসে ঈমানের কালিমা দাও।
কবরের আজাব থেকে রক্ষা করো আমাদের,
হাশরের ময়দানে সহজ করো হিসাবের কদর।
আমলনামা ডান হাতে পাওয়ার সৌভাগ্য দাও,
সিরাতের পথে নিরাপদে পার হওয়ার তাওফিক দাও।
জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় দাও প্রভু,
জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান করো তুমি।
তোমার সন্তুষ্টি হোক আমাদের জীবনের লক্ষ্য,
তোমার রহমত হোক আমাদের চূড়ান্ত আশ্রয়।
হে আল্লাহ, আমাদের ঈমান কবুল করো,
আমাদের নেক আমল কবুল করো।
গুনাহগুলো ক্ষমা করো, অন্তরগুলো পরিশুদ্ধ করো,
মৃত্যু পর্যন্ত ইসলামের ওপর অটল রাখো।
দুনিয়ায় কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও,
জান্নাতের পথে নিয়ে গিয়ে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।
পরিবার, সন্তান, শিক্ষক, ছাত্র—সবার হেফাজত করো,
সত্য, ন্যায়, তাকওয়া ও মানবতার আলোয় জীবন ভরো।
হে আল্লাহ, তোমার সন্তুষ্টির পথে চলার তৌফিক দাও,
জান্নাতের চিরস্থায়ী শান্তি দাও,
জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা করো—
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
১৪
২৪ মন্তব্য