Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪০ পূর্বাহ্ণ

মহাবিশ্বের ঠান্ডা পরিণতি একদিন কি সব আলো নিভে যাবে?



আমরা যে মহাবিশ্বকে দেখি, তা স্থির নয়। গ্যালাক্সিগুলো দূরে সরে যাচ্ছে, মহাকাশ প্রসারিত হচ্ছে, আর সেই প্রসারণ ত্বরান্বিত হচ্ছে। এর পেছনের অজানা উপাদান ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বের সুদূর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়ো প্রশ্ন তৈরি করেছে।


বর্তমান ছবি অনুযায়ী, পরিণতি নাটকীয় বিস্ফোরণ নয় বরং ধীর, নীরব ও ঠান্ডা হতে পারে। একসময় নক্ষত্রের জন্ম বন্ধ হবে, পুরোনো নক্ষত্র নিভে যাবে, গ্যালাক্সিগুলো দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাবে এবং ব্যবহারযোগ্য শক্তি অত্যন্ত কমে আসবে। এটাই Heat Death বা মহাবিশ্বের তাপমৃত্যু।


তবে কিন্তু এটি নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বর্তমান পদার্থবিজ্ঞান, প্রসারণ ও তাপগতিবিদ্যার নিয়মের ওপর দাঁড়ানো সম্ভাব্য পরিণতি। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।


মহাবিশ্বের শুরুতে পদার্থ ও বিকিরণ ছিল ঘন ও উত্তপ্ত। প্রসারণে ঘনত্ব কমেছে, বিকিরণের শক্তিও কমেছে। আজ মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিকিরণের তাপমাত্রা মাত্র ২.৭ কেলভিন। মহাবিশ্ব এখনো প্রসারিত হচ্ছে, আর NASA অনুযায়ী প্রায় ৬৮–৭০ শতাংশ অংশ ডার্ক এনার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর প্রকৃতি এখনো অজানা। তবে জানার জন্য যথেষ্ট কাজ চলছে।


এই ত্বরিত প্রসারণ চলতে থাকলে দূরবর্তী গ্যালাক্সির আলো আমাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে। দৃশ্যমান মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে অন্ধকার ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।


নক্ষত্রের যুগ একদিন শেষ হবে। নক্ষত্রের জ্বালানি অসীম নয়। নতুন নক্ষত্র তৈরির হার কমবে, একসময় তা অত্যন্ত বিরল হবে। পুরোনো নক্ষত্রও নিভে যাবে। মহাবিশ্বের উজ্জ্বল যুগ পেছনে চলে যাবে।


তারপর থাকবে মৃত নক্ষত্রের অবশেষ, ব্ল্যাক হোল, ঠান্ডা পদার্থ ও বিকিরণ। ব্ল্যাক হোলও চিরস্থায়ী নয়; হকিং রেডিয়েশনে অত্যন্ত দীর্ঘ সময়ে শক্তি হারাতে পারে। শেষে থাকতে পারে পাতলা, ঠান্ডা বিকিরণ ও বিচ্ছিন্ন কণার বিশাল সমুদ্র।


তাপমৃত্যু মানে সব হঠাৎ বরফ হয়ে যাওয়া নয়। তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী এনট্রপি বাড়ে; শক্তি ছড়িয়ে পড়ে, শক্তির পার্থক্য কমে। ফলে বড় কাজ করার সুযোগ কমে যায়। মহাবিশ্ব থাকবে, কিন্তু আজকের নক্ষত্র, গ্যালাক্সি ও ব্যস্ততার মতো প্রক্রিয়া থাকবে না।


কিন্তু ডার্ক এনার্জি কি ধ্রুব? DESI-এর পর্যবেক্ষণে এটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এমন ইঙ্গিত এসেছে। ২০২৫ সালের ফলাফল সম্ভাবনা জোরালো করেছিল; ২০২৬ সালের Lyman alpha বিশ্লেষণ ছবিটিকে আরও জটিল করেছে। কিছু ফলাফল মানক মডেলের সঙ্গে মিলেছে, আবার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যার জন্য নতুন মডেলের প্রয়োজন হতে পারে।


তাই ঠান্ডা পরিণতি নিশ্চিত নয়। ডার্ক এনার্জি ধ্রুব থাকলে Heat Death স্বাভাবিক; দুর্বল হলে ভবিষ্যৎ ভিন্ন; শক্তিশালী হলে Big Rip সম্ভাবনা; বিপরীত হলে Big Crunch কল্পনা করা যায়। বর্তমান পর্যবেক্ষণ সরাসরি তা নির্দেশ করছে না।


মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ বোঝার চাবিকাঠি হয়তো সবচেয়ে অদৃশ্য উপাদান ডার্ক এনার্জির মধ্যেই লুকিয়ে আছে। আজকের নক্ষত্র, গ্যালাক্সি ও আলো হয়তো মহাবিশ্বের একটি বিশেষ যুগের বৈশিষ্ট্য। সুদূর ভবিষ্যতে মহাবিশ্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।


এই Heat Death বিস্ফোরণ নয়; দীর্ঘ, ধীর, নীরব পরিণতি। প্রসারণ চললে পদার্থ ছড়াবে, নক্ষত্র কমবে, আলো-তাপ দুর্বল হবে। তবে এটি চূড়ান্ত সত্য নয়; ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি এখনো মহাকাশবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় রহস্য। সেই উত্তর খুঁজতে আমরা তাকিয়ে আছি আজকের আকাশের দিকে।



মন্তব্য করুন