Claude AI দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে ১,৫০০+ ফেক নিউজ; বিএনপি ও জামাতের বিরুদ্ধে।ফাঁস করে দিল Claude নিজেই!
Anthropic তাদের লেটেস্ট গ্লোবাল থ্রেট রিপোর্টে বিশ্বজুড়ে সাইবার অপব্যবহারের যে লিস্ট প্রকাশ করেছে, সেখানে সবার চোখ আটকে গেছে বাংলাদেশের একটা ঘটনায়।
কেইসটার কোডনেম GTG-54006।
গাইবান্ধা জেলার এক ব্যক্তি Claude AI ব্যবহার করে দিনের পর দিন এক স্বয়ংক্রিয় ভুয়া নিউজের কারখানা চালাচ্ছিল। সিস্টেমের লিমিট আর ব্যান ফাঁকি দিতে সে একে একে ২৯টা Claude অ্যাকাউন্ট রোটেট করত।
অটোমেশনের টেকনিকটা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন।
সে নিজেই বানিয়েছিল "fake_news_3 .py" নামের একটা পাইথন কোড। এই স্ক্রিপ্ট রান করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লড এআই-এর এপিআই থেকে একসাথে বেরিয়ে আসত ১৫টা গরম হেডলাইন, ৩টা ফুল ডিটেইলড বানোয়াট গল্প আর ছবি বানানোর ১৫টা প্রম্পট। এভাবে অন্তত ১,৫০০টি ভুয়া হেডলাইন আর ৩০০টির বেশি মনগড়া গল্প নামানো হয়েছে।
সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো ব্যাপার হলো টার্গেটের ধরন।
এই কনটেন্টগুলো ছড়ানো হতো ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব আর টিকটক স্ট্রিমে। Anthropic-এর ইনভেস্টিগেশনে ধরা পড়েছে, সেই ব্যক্তি নিজের পার্সোনাল চ্যাটে লিখেছিল, খবরগুলো এমন "হট অ্যান্ড অ্যাগ্রেসিভ" আর সহজ ভাষায় বানাতে হবে যাতে গ্রামের কম পড়াশোনা জানা মানুষ এগুলোকে এক দেখাতেই সত্য ভেবে গিলে ফেলে!
রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর ছাত্র আন্দোলনের লিডারদের নিয়ে কাল্পনিক খুনের ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে চরম উগ্রপন্থী গল্প সাজানোই ছিল এর মূল কাজ।
তবে একটা কথা খুব স্পষ্ট করে মনে রাখা দরকার।
Anthropic তার সবগুলো অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছে এবং মেটা ও গুগলের সাথে তথ্য শেয়ার করেছে ঠিকই। কিন্তু ঘটনাটা আমাদের চোখের পর্দা খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আগে এই ধরণের রাজনৈতিক মিথ্যা ছড়াতে পুরো একটা এজেন্সির অফিস আর টিম লাগত। আর এখন ঘরে বসে একা একজন মানুষ পাইথন কোড আর এআই দিয়ে কোটি মানুষের মাথায় বিষ ঢেলে দিতে পারছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করার সময় চটকদার আর গরম কোনো হেডলাইন দেখেই উত্তেজিত হয়ে যাওয়ার দিন শেষ। চোখ কান খোলা না রাখলে এআই-এর বানানো মিথ্যার ফাঁদে আপনিও কিন্তু যেকোনো সময় পা দিয়ে বসবেন।
আমার তো মনে হচ্ছে এআই যত স্মার্ট হচ্ছে, অসৎ লোকের মানুষের দুর্বলতা নিয়ে খেলা করার কাজটা ততটাই সহজ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা এখন কী মনে হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে কত পারসেন্ট নিউজ এখন সত্য ?
১
২ মন্তব্য