সহকারী শিক্ষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পাবনার সুজানগর উপজেলার ‘এআই স্মার্ট স্কুল এন্ড কলেজ’ প্রাথমিক স্তরে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অনলাইনে পাঠদান পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ অনুমোদন লাভ করে।
এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল কবীর দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, প্রাথমিক ভাবে পাঠদানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এটা মূলত কিন্ডারগার্টেন টাইপের শিক্ষিাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মতনই। তারা এআই নাম যুক্ত করেছে কিন্তু পাঠদানতো এআই ভিত্তিক নয়। তিনি আরো বলেন, আমরা পর্যবেক্ষণে রাখবো ১ বছর। যদি সব শর্তপূরণ করে তাহলে নিবন্ধনপাঠদানের অনুমতিপত্রে বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৪-এর উপবিধি (৫)-এর অধীনে ‘এআই স্মার্ট স্কুল এন্ড কলেজ’-কে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঠদান অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে বেশ কিছু শর্তও পালন করতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাজী জাকারিয়া জুয়েল বলেন, ‘বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘এআই’ যুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের নোট-গাইডের প্রভাব থেকে মুক্ত করে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা দেওয়া।’ দেয়া হবে।তিনি বলেন, সারা বিশ্বেই এখন শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। আমরা চাই, শ্রেণিকক্ষে কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিষয়টি বোঝানো সম্ভব হোক।
প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণির জন্য লাইভ ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে না পারলেও বাসায় বসে লাইভ ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। পরবর্তী সময়েও এসব ক্লাস থেকে প্রয়োজনীয় বিষয় জেনে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি কমাতেও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।শর্ত অনুযায়ী, বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে ওই কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় টিচিং স্টাফ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে পেশাগত মানোন্নয়নে ন্যূনতম সাত দিনের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণে শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিশু মনোবিজ্ঞান, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, এফএলএন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সনদপত্র জমা দিতে হবে।বিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অনুমোদিত পাঠ্যবই বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি এনসিটিবি প্রণীত বা সরকার নির্ধারিত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিতভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আয়োজন এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ে শিশু-বান্ধব পরিবেশ, খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় স্থান বা মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯-এর আলোকে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ে শিশু-বান্ধব পরিবেশ, খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় স্থান বা মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯-এর আলোকে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭
৭ মন্তব্য