Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:০৩ অপরাহ্ণ

অবিসংবাদিত ‘হেড স্যার’ মাস্টার আব্দুশ শুকুর—মানুষ গড়ার এক কিংবদন্তি কারিগর

নোট- লেখাটি ১০ ফেব্রয়ারি,২০২০-এর


তিনি ইন্তেকাল করেছেন -২৫মে,২০২০খ্রি.

ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।


 অবিসংবাদিত ‘হেড স্যার’

 মাস্টার আব্দুশ শুকুর—মানুষ গড়ার এক কিংবদন্তি কারিগর


কিছু মানুষ তাঁদের নামের চেয়ে পরিচিতি লাভ করেন একটি বিশেষ উপাধিতে। মাস্টার আব্দুশ শুকুর তেমনই একজন। সবার কাছে তিনি ‘হেড স্যার’। যেন তাঁর নামের সঙ্গে মিশে আছে এই পরিচয়—হেড স্যার মানেই মাস্টার আব্দুশ শুকুর, আর মাস্টার আব্দুশ শুকুর মানেই সবার প্রিয় হেড স্যার।


ছোট-বড়, নবীন-প্রবীণ—সবার কাছে তিনি একজন শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় শিক্ষক। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত করেছেন। মানুষ গড়ার এই অসাধারণ কারিগরকে এককথায় বলা যায়—‘অবিসংবাদিত হেড স্যার’।


মাস্টার আব্দুশ শুকুর ১৯৫২ সালের ১ এপ্রিল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মময় শিক্ষকতা জীবন শেষে ২০১২ সালের ৩১ মার্চ তিনি অবসরে যান। একসময় যিনি জ্ঞান বিতরণের তাগিদে ছুটে বেড়াতেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যাঁর ক্লান্তি ছিল না, আজ বার্ধক্য ও অসুস্থতা তাঁকে অনেকটাই ঘরবন্দি করে রেখেছে।

এখন আর আগের মতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। বাড়ি আর বাড়ির উঠোনই তাঁর চলাফেরার সীমিত পরিসর। লাঠিই এখন চলার সঙ্গী। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক কষ্টে ভুগছেন। অথচ একসময় এই মানুষটিই ছিলেন কর্মচঞ্চল, প্রাণবন্ত ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিবেদিতপ্রাণ।

তাঁর আক্ষেপও কম নয়। একদিন আক্ষেপের সুরে জানালেন, অনেক দিন ধরে জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যেতে পারেন না। কথাটি শুনে মনটা ভারী হয়ে এল। যে মানুষটি সারা জীবন অন্যদের পথ দেখিয়েছেন, আজ বয়স ও অসুস্থতার কারণে তাঁর নিজের চলার পথই সীমিত হয়ে এসেছে।


গতকাল দেখতে গিয়েছিলাম শ্রদ্ধেয় এই প্রবীণ শিক্ষককে। বাড়ির উঠোনে একটি ইজি চেয়ারে বসে ছিলেন তিনি। কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে চিনতে পারলেন না। আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন তাঁরই প্রাক্তন ছাত্র এবং আমার শিক্ষক, তাঁর পুত্র জনাব বেলাল আশরাফী। তারপরও আমাকে ঠিকভাবে চিনতে পারলেন না।

বললাম, ‘স্যার, আমি নাজিম। অমুক জায়গায় আমার বাড়ি।’

তবু স্মৃতির দরজা খুলল না। বয়সের ভারে তাঁর স্মৃতিশক্তি অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘স্যার, আপনি কবে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছেন?’

তিনি বললেন, ‘আমার কিছুই মনে নেই।’

আবার জিজ্ঞেস করলাম, ‘স্যার, এখন কত সাল?’

তিনি বললেন, ‘মনে হচ্ছে ২০ সাল। ঠিক নিশ্চিত নই।’

কথাগুলো শুনে বুকের ভেতরটা হু-হু করে উঠল। যাঁকে একসময় পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন হতো না, যাঁর কণ্ঠস্বর ও পাঠদানের ভঙ্গি আজও স্মৃতিতে অমলিন, সেই মানুষটিই আজ পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে চিনতে পারছেন না! সময়ের কী নির্মম পরিহাস!

তবে এর মধ্যেও একটি আনন্দের মুহূর্ত ছিল। আমি যখন তাঁকে জানালাম, বর্তমানে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি, তিনি খুব খুশি হলেন। তাঁর মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে উঠল। তিনি আমাকে দোয়া করলেন।

এরপর বললাম, ‘স্যার, আমার প্রতি আপনার কী উপদেশ?’

তিনি অত্যন্ত মূল্যবান একটি কথা বললেন—

‘প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে যাবা। বাসায় ভালো করে স্টাডি করবে। যতই জ্ঞানী হও না কেন, তারপরও প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে যাবা।’


আলহামদুলিল্লাহ! কী অসাধারণ উপদেশ! বয়সের ভারে স্মৃতি যখন অনেক কিছুই ভুলিয়ে দিয়েছে, তখনো একজন আদর্শ শিক্ষকের পেশাগত সততা ও শিক্ষাদর্শন তাঁর কণ্ঠে অমলিন। কথাগুলো যেন তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনেরই নির্যাস।

আমি চেষ্টা করি, শিক্ষকতা জীবনে প্রিয় শিক্ষকদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে। তাঁদের স্মরণ করি, তাঁদের স্মৃতির কথা বলি, শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরি তাঁদের পাঠদানের কৌশল ও আদর্শ। কারণ, একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রকৃত সম্মান হলো তাঁর শিক্ষা ও মূল্যবোধকে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।


মাস্টার আব্দুশ শুকুর ছিলেন ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি মাদরাসায় পড়াশোনা করেননি; অথচ শিক্ষকতা করেছেন একটি ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরাসায়। তাঁর জীবনাচরণে ছিল ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি গভীর অনুরাগ।

তাঁকে কখনো শার্ট-প্যান্ট পরতে দেখিনি। সব সময় হুজুরদের মতো জুব্বা পরতেন, মাথায় টুপি রাখতেন এবং দাড়ি রাখতেন। আমার স্মৃতিতে তাঁকে কখনো দাড়িবিহীন কিংবা টুপিবিহীন দেখিনি। এখনো তাঁর সেই অভ্যাস বজায় রয়েছে।

নামাজের প্রতিও ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। আমার জানা মতে, তিনি নামাজের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধের কথা শুনিনি। সবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মিষ্টি হাসি—একটি স্নিগ্ধ, মায়াময় মুচকি হাসি, যা সহজেই মানুষের হৃদয় জয় করে নিত।


মাস্টার আব্দুশ শুকুর ছিলেন ঐতিহ্যবাহী লোহাগাড়ার কলাউজান শাহ রশিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকদের একজন। মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন হযরত আলহাজ্ব মাওলানা আবু বকর সাহেবের সঙ্গে থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন। মাদরাসার প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও বিকাশে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তিনি তাঁদের অন্যতম।

তাঁর বাল্যকালের বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সহকর্মী আলহাজ্ব মাওলানা গোলাম রাসূল কমরী সাহেব প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন—

প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আব্দুশ শুকুর শ্রদ্ধার পাত্র, মাদরাসার শুরু হতে ওয়াকফ করেন যিনি জীবন পবিত্র।

এই পঙ্‌ক্তিগুলোতে ফুটে উঠেছে মাদরাসার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, আত্মনিবেদন ও ত্যাগের স্বীকৃতি।

উল্লেখ্য, মাওলানা গোলাম রাসূল কমরী সাহেবও মাদরাসার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জানা যায়, তিনি চার বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছিলেন। দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে তাঁদের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের অবদান সত্যিই স্মরণীয়।

মহান আল্লাহ তাঁদের দ্বীনি খেদমতগুলো কবুল করুন এবং প্রিয় হেড স্যারকে সুস্থতা ও প্রশান্তি দান করুন। আমিন।


হেড স্যারের পাঠদানের ধরন ছিল স্বতন্ত্র, সাবলীল ও আকর্ষণীয়। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল জোরালো। এমনভাবে পাঠদান করতেন যে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো মনোযোগ দিয়ে শুনত। ক্লাসে অযথা হৈচৈ হতো না; বরং তাঁর পাঠদানের মধ্যেই তৈরি হতো একাগ্রতা ও শেখার পরিবেশ।

তিনি আমাদের ইংরেজি ও হিস্ট্রি পড়াতেন। এত বছর পরও তাঁর পড়ানোর অনেক স্মৃতি আমার মনে গেঁথে আছে। গতকাল তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় পুরোনো দিনের কিছু কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই তিনি স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার মধ্যেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অনর্গল বলতে শুরু করলেন। কিছু স্মৃতি যে কত গভীরভাবে মানুষের মনে গেঁথে থাকে, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ!

তিনি বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই সুন্দর ও সাবলীলভাবে পাঠদান করতেন। তাঁর পাঠদানের এই বিশেষ দক্ষতার সাক্ষ্য পাওয়া যায় তাঁরই এক প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে পদুয়া এ.সি.এম. উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জনাব গোলাম রসুলের লেখায়। ‘আর রশিদ’ নামের একটি ম্যাগাজিনে তিনি মাস্টার আব্দুশ শুকুরের বাংলা ব্যাকরণ পড়ানোর দক্ষতার প্রশংসা করেছেন।


মাস্টার আব্দুশ শুকুর তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। তাঁর মেয়েরা সবাই বিবাহিত এবং নিজ নিজ সংসারে প্রতিষ্ঠিত। সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন এবং একটি সুশৃঙ্খল, আলোকিত পরিবার নির্মাণ করেছেন।

তাঁর বড় ছেলে জনাব বেলাল আশরাফী বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অফিসার হিসেবে কর্মরত। তাঁর পুত্রবধূ মাধ্যমিক পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা। মেজো ছেলে জনাব ছিদ্দিক আশরাফীও চাকরিজীবী; তাঁর স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ছোট ছেলে অবিবাহিত এবং প্রবাসে থাকেন।

সন্তানদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও পারিবারিক অবস্থান বিবেচনায় তাঁর পরিবারকে এলাকার একটি আলোকিত পরিবার বললে অত্যুক্তি হবে না। সমাজের মানুষের কাছে এই পরিবারের প্রতি রয়েছে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

একজন শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষের বাইরেও নিজের পরিবারকে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার আলোয় গড়ে তুলতে পারেন, তখন তাঁর জীবন হয়ে ওঠে শিক্ষারই এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।


মাস্টার আব্দুশ শুকুরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অগণিত। তাঁদের অনেকে আজ ব্যাংকার, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তাঁরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখছেন।

তাঁরই এক প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজে কর্মরত জনাব আখতার হোসাইন লিখেছেন—

আমার পরম শ্রদ্ধেয় স্যার। সবচেয়ে মনে হয়, আমাকে বেশি আদর করতেন। বলতেন, ‘বেলাল, আখতার—এরা আমার ছেলে।’ হায়াতে তাইয়্যেবার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাই।

আরেক প্রাক্তন ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার মাকছুদ বিন কমরী লিখেছেন—

স্যারের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি আছে। উনি আমাকে সন্তান বলে ডাকতেন!

কত গভীর মমতা থাকলে একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে পারেন! এই ভালোবাসাই তো শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

প্রিয় স্যারের ছবি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে সাবেক শিক্ষার্থী, প্রফেসর আমিনুল হক লিখেছেন—

মাশা-আল্লাহ! অসাধারণ এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ জীবন্ত ছবি। আমাদের প্রাণপ্রিয় স্যারের সুস্থতা কামনা করি।

তাঁর আরেক শিক্ষার্থী, বর্তমানে আলোচিত ইসলামি বক্তা জনাব ইয়াছিন বিন কমরী লিখেছেন—

যাঁদের আব্বাজানের মতো ভালোবাসি, তিনি তাঁদের অন্যতম। আল্লাহ তাআলা তাঁকে হায়াতে খিজির দান করুন।

এ ছাড়া তাঁর বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী—ব্যাংকার জনাব ফরিদুল আলম, অ্যাডভোকেট জনাব সাদ্দাম হোসেন, বিএসআরএমের কর্মকর্তা জনাব আলী হোসেন, জনাব সাহাব উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মোরশেদ আলম, বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কর্মরত জনাব আব্দুল মজিদসহ অনেকে প্রিয় স্যারের সুস্থতা কামনা করেছেন।

শিক্ষার্থীদের এই ভালোবাসা ও দোয়া প্রমাণ করে, তিনি কেবল পাঠদানকারী শিক্ষক ছিলেন না; ছিলেন তাঁদের জীবনের এক আপনজন, স্নেহময় অভিভাবক। সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীরা বড় হয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন; কিন্তু প্রিয় শিক্ষকের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা আজও অমলিন।


মাস্টার আব্দুশ শুকুর শুধু শিক্ষার্থীদেরই প্রিয় ছিলেন না; বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র।

তাঁর বাল্যকালের বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন আলহাজ্ব মাওলানা গোলাম রাসূল কমরী সাহেব প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন—

তিনিতো আমার সারা জীবনের সাথী। দোয়া করি, পরকালেও জান্নাতে সাথী হওয়ার। আল্লাহ কবুল করুন। আমাদের জানা-অজানা গুনাহসমূহ মাফ করুন। আমিন।

কী গভীর বন্ধুত্ব, কী আন্তরিক ভালোবাসা! জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেও বন্ধুর প্রতি এমন টান সত্যিই হৃদয়স্পর্শী।

তাঁর একসময়ের সহকর্মী, সাবেক বাংলা প্রভাষক এবং বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব জসিম উদ্দিন তাঁকে যথার্থই আখ্যায়িত করেছেন—‘অবিসংবাদিত হেড স্যার’।

এই উপাধি কোনো আনুষ্ঠানিক পদবির পরিচয় নয়; বরং এটি তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন, ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও মানুষের হৃদয়ে অর্জিত সম্মানের প্রতিফলন।


পরিবারের বড় ছেলে জনাব বেলাল আশরাফী সবার কাছে তাঁর শ্রদ্ধাভাজন পিতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। আমরাও মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন এই প্রবীণ শিক্ষককে সুস্থতা, প্রশান্তি ও কল্যাণময় জীবন দান করেন।

যে মানুষটি সারা জীবন অন্যের জীবন আলোকিত করতে নিজের সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করেছেন, তাঁর জীবনের এই বার্ধক্যকাল যেন কাটে স্নেহ, ভালোবাসা, সম্মান ও প্রশান্তির আবহে। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের দ্বীনি ও মানবিক খেদমতগুলো মহান আল্লাহ কবুল করুন। তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাঁকে নেক হায়াত দান করুন।


হে মানুষ গড়ার কিংবদন্তি কারিগর, প্রিয় হেড স্যার—আপনি হয়তো আজ অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছেন; কিন্তু আপনার শিক্ষার্থীরা আপনাকে ভুলে যায়নি। আপনার শেখানো পাঠ, আপনার স্নেহমাখা আচরণ, আপনার মিষ্টি হাসি আর আপনার সেই অমূল্য উপদেশ—‘প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে যাবা’—আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে।

আপনার ছাত্ররা আজ নানা পেশায় প্রতিষ্ঠিত; কিন্তু তাঁদের অনেকের হৃদয়ে আপনি আজও সেই চিরচেনা হেড স্যার—শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য নাম।

মহান আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করুন, হায়াতে তাইয়্যেবা নসিব করুন এবং আপনার জীবনের প্রতিটি নেক আমল কবুল করুন।


মন্তব্য করুন