Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বশান্তি ও মানব ঐক্যের বাতিঘর: আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ দিবস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নির্মম ধ্বংসলীলা আর কোটি মানুষের হাহাকারের ছাইভস্ম থেকে এক নতুন পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল। যে পৃথিবীতে যুদ্ধ, বুলেট আর অস্ত্রের গর্জনকে থামিয়ে পারস্পরিক সংলাপ, শান্তি এবং সাম্যের সুর রচনা করাই ছিল মূল লক্ষ্য। বিশ্বমানবতার সেই বুকভরা স্বপ্ন ও যৌথ আকাক্সক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জাতিসংঘ। প্রতিবছর ২৪ অক্টোবর দিনটি বিশ্বের প্রতিটি কোণে ‘জাতিসংঘ দিবস’ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে। আজকের আধুনিক, উন্নয়নমুখী এবং আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে একটি নিরাপদ ও সুসংহত আগামীর দিশারী হিসেবে জাতিসংঘ দিবসের তাত্পর্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানবজাতির সম্মিলিত বেঁচে থাকার অঙ্গীকারকে পুনর্নবীকরণ করার এক চিরভাস্বর দিন।

১৯৪৫ সালের এই স্মরণীয় দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সনদের কার্যকারিতা শুরু হয়। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বনেতারা যে নতুন পথচলা শুরু করেছিলেন, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বাঁক। পাঁচ একর জমিতে শুরু হওয়া একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আজ ১৯৩টি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে একই ছাদের নিচে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। ক্ষুধা, ব্যাধি, নিরক্ষরতা এবং যুদ্ধমুক্ত একটি সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অবদান অনস্বীকার্য। পৃথিবীর যেখানেই অন্যায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা শরণার্থী সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে, সেখানেই শান্তির বার্তা ও মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এই সংস্থাটি। কেবল সীমানা রক্ষা বা রাজনৈতিক আলোচনা নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশ সাধন করে বিশ্বকে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

তবে জাতিসংঘ দিবস কেবল অতীতের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণের মধ্যে আটকে থাকলে চলবে না। সমকালীন পৃথিবীতে যখন নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কোটি কোটি মানুষের অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে, তখন জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিকতা ও দায়িত্ব আরও বহু গুণ বেড়ে যায়। বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এই বিশেষ দিনে আমাদের প্রত্যাশা—জাতিসংঘ তার মূল চেতনাকে আঁকড়ে ধরে বিশ্বজুড়ে বৈষম্য দূর করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে, দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বিশ্বকে আরও সুন্দর, বাসযোগ্য ও নিরাপদ এক নীড় হিসেবে গড়ে তুলবে।

মন্তব্য করুন