তবে এই আয়াতের মূল প্রেক্ষাপট এবং তাফসীরের কিতাবগুলোতে বর্ণিত প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মক্কার কাফিরদের একগুঁয়েমির জবাব
রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় যখন দীর্ঘ সময় ধরে ইসলাম প্রচার করছিলেন, তখন মক্কার কুরাইশরা সত্য জানার পরও তা মেনে নিচ্ছিল না। তারা অলৌকিক নিদর্শন দেখতে চাইত, কিন্তু নিদর্শন দেখানোর পরও তারা বিশ্বাস করত না। তাদের এই একগুঁয়েমি ও সত্যের প্রতি অন্ধত্বের জবাবে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন
Quran.com। আল্লাহ পরিষ্কার করে দেন যে, তাদের কান, চোখ ও হৃদয় থাকা সত্ত্বেও তারা পশুর মতো হয়ে গেছে, কারণ তারা হিদায়াতের আলো দেখতে চায় না।
২. তাকদীর ও সৃষ্টিগত জ্ঞান (হাদীসের প্রেক্ষাপট)
তাফসীরে ইবনে কাছীর-এ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মহানবী (সা.)-এর একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়:
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি আনসারী শিশুর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তখন হযরত আয়েশা (রা.) বললেন,
"হে আল্লাহর রাসূল! এই শিশুটির জন্য সুসংবাদ, সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখিদের একটি (অর্থাৎ সে নিষ্পাপ অবস্থায় মারা গেছে এবং জান্নাতি)।"তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে সংশোধন করে বললেন,
"হে আয়েশা! এর বিপরীতও তো হতে পারে। আল্লাহ তাআলা জান্নাতের জন্য একদল সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের বাপদের পৃষ্ঠদেশে ছিল এবং জাহান্নামের জন্যও একদল সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের বাপদের পৃষ্ঠদেশে ছিল।" অর্থাৎ, মানুষ দুনিয়াতে এসে কী করবে এবং কার পরিণতি কী হবে, তা আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির পূর্বেই তাঁর অসীম জ্ঞান দ্বারা নির্ধারণ করে রেখেছেন (তাকদীর)
সূরা আ'রাফ আয়াত 179 বাংলা। আয়াতটি মূলত আল্লাহর এই শাশ্বত জ্ঞান ও বিচারব্যবস্থার বাস্তবতা প্রকাশ করে।
সারকথা
এই আয়াতটি কোনো সাময়িক ঝগড়া বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির ঘটনার জন্য নামেনি, বরং এটি দুনিয়ার সমস্ত যুগের সেইসব মানুষদের জন্য একটি সাধারণ সতর্কবাণী, যারা আল্লাহর দেওয়া বিবেক-বুদ্ধি, চোখ ও কান থাকা সত্ত্বেও সত্যকে গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকে সূরা আ'রাফ আয়াত 179 বাংলা।
৩
৩ মন্তব্য