সহকারী শিক্ষক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
এনসিটিবির নতুন ৪ বই ২০২৭: ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যা যা থাকছে | NCTB New Books 2027
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে চারটি সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যবই। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রোববার, দুটি পৃথক সভায় বই চারটির অনুমোদন দিয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি পাবে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, আর ষষ্ঠ শ্রেণি পাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। মুখস্থনির্ভর ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা এবং বাস্তব জীবনের দক্ষতা বাড়ানোই এই বইগুলোর মূল লক্ষ্য। এই পোস্টে নতুন ৪ বইয়ের সম্পূর্ণ তালিকা, প্রতিটি বইয়ে কী কী আছে, অনুমোদনের বিস্তারিত, মুদ্রণ ও বিতরণের সময়সূচি, পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হতে যাওয়া QR ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের বিতর্ক — সবকিছু এক জায়গায় দেওয়া হলো। NCTB New Books 2027 নিয়ে এটাই সবচেয়ে বিস্তারিত গাইড।
এক নজরে: এনসিটিবির নতুন ৪ বই ২০২৭
বিষয় | তথ্য |
শিক্ষাবর্ষ | ২০২৭ |
শ্রেণি | চতুর্থ ও ষষ্ঠ |
নতুন বই | ৪টি |
চতুর্থ শ্রেণির বই | খেলাধুলা, বাংলাদেশের সংস্কৃতি |
ষষ্ঠ শ্রেণির বই | লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, আমার কারিগরি শিক্ষা |
অনুমোদনকারী | জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) |
অনুমোদনের তারিখ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রোববার |
সভার স্থান | আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, সেগুনবাগিচা, ঢাকা |
মুদ্রণের পরিমাণ | প্রায় দেড় কোটি কপি |
মুদ্রণ শেষের লক্ষ্য | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে |
প্রণয়নকারী | জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) |
নতুন ৪ বইয়ের সম্পূর্ণ তালিকা
শ্রেণি | বইয়ের নাম | অধ্যায় সংখ্যা | মূল বিষয় |
চতুর্থ শ্রেণি | খেলাধুলা | ১৪টি | ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, দাবা, কারাতে, জুডো, তায়কোয়ান্দো, প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি |
চতুর্থ শ্রেণি | বাংলাদেশের সংস্কৃতি | ১১টি | ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাবার, সামাজিক রীতিনীতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, নতুন কুঁড়ি |
ষষ্ঠ শ্রেণি | লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস | ৬টি | দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক |
ষষ্ঠ শ্রেণি | আমার কারিগরি শিক্ষা | ৮টি | প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, ছোট উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি, টেকসই জীবনযাপন |
চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই: খেলাধুলা
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি সাজানো হয়েছে ১৪টি অধ্যায়ে। এতে শুধু খেলার নিয়মকানুনই নয়, খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক দক্ষতার বিষয়ও রয়েছে। বইটির উদ্দেশ্য — শিশুদের শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি খেলার মাঠে শৃঙ্খলা, দলগত কাজ ও আত্মরক্ষার শিক্ষা দেওয়া।
খেলাধুলা বইয়ে যা যা আছে
বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার নিয়মকানুন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশলও শেখানো হয়েছে। খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে কী করতে হবে, নাক দিয়ে রক্ত পড়লে করণীয় কী, হিট স্ট্রোক হলে কীভাবে সামলাতে হবে — এসব পরিস্থিতিতে করণীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও সামাজিক দক্ষতা সম্পর্কেও ধারণা পাবে শিক্ষার্থীরা।
কেন খেলাধুলা বই দরকার
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা এতদিন মূলত সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল, পাঠ্যবই হিসেবে নয়। নতুন এই বই খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের মূল ধারায় নিয়ে আসছে। শিশুরা খেলার নিয়ম শিখবে, সেই সঙ্গে শিখবে শরীরের যত্ন, আঘাতের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার অভ্যাস। এনসিটিবির ভাষায়, বইগুলোর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো।
চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই: বাংলাদেশের সংস্কৃতি
‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি সাজানো হয়েছে ১১টি অধ্যায়ে। এতে আমাদের ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাবার, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। বইটি শিশুদের নিজের দেশের সংস্কৃতিকে জানতে ও ভালোবাসতে শেখাবে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বইয়ের বিশেষ আকর্ষণ: নতুন কুঁড়ি
বইটিতে রয়েছে শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে এই আয়োজন শুরু হয় — সেই তথ্যও বইয়ে রয়েছে। নতুন কুঁড়ির মধ্য দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিশুশিল্পীরা উঠে এসেছে; এই ইতিহাস চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
সংস্কৃতি বইয়ে আর যা থাকছে
ভাষা ও পোশাকের বৈচিত্র্য, বাংলার লোকশিল্প ও হস্তশিল্প, অঞ্চলভেদে খাবারের ভিন্নতা, উৎসব ও সামাজিক রীতিনীতি এবং বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য — সব মিলিয়ে বইটি একটি ছোট্ট সাংস্কৃতিক বিশ্বকোষের মতো। শিক্ষার্থীরা শিখবে, দেশের ভেতরে কত বৈচিত্র্য আছে এবং সেই বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা কেন জরুরি।
চতুর্থ শ্রেণির বর্তমান সব বইয়ের PDF ডাউনলোডের নিয়ম জানতে দেখুন চতুর্থ শ্রেণির বই PDF ২০২৬।
ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই: লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। নামেই বোঝা যায় বইটির দর্শন — শেখা হবে আনন্দের মধ্য দিয়ে, পরীক্ষা ও মুখস্থনির্ভরতার চাপের বাইরে। বইটিতে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বইয়ে শেখার ধরন
এই বইয়ে শিক্ষার্থীরা নিজের চারপাশের জীবন থেকেই শিখবে — ঘরের কাজ, বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক, পরিবেশের যত্ন, নিজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা। মুখস্থ করে পরীক্ষায় লেখার বদলে বইটি শেখায় কীভাবে দেখে, করে ও ভেবে শিখতে হয়। এনসিটিবির ভাষায়, বইটির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান দেওয়া।
কোন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বই
ষষ্ঠ শ্রেণি মাধ্যমিক স্তরের শুরু। এই বয়সে শিশুরা নতুন স্কুল, নতুন বন্ধু ও নতুন বিষয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বইটি এই রূপান্তরের সময়টাতে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে, নিজের অনুভূতি বুঝতে এবং অন্যদের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করবে।
ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই: আমার কারিগরি শিক্ষা
‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটি আটটি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, ছোট উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের বিষয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
আমার কারিগরি শিক্ষা বইয়ে যা শেখানো হবে
প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা কীভাবে সমাধান করতে হয়, ছোট উদ্যোগ কীভাবে শুরু করা যায়, পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি কী এবং টেকসই জীবনযাপন মানে কী — এসব বিষয় হাতে-কলমে শেখানো হবে। বইটির মূল বার্তা: শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দক্ষতা অর্জনের জন্যও।
কারিগরি শিক্ষা কেন ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে
সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। কারিগরি দক্ষতা যত আগে শুরু হবে, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজের আগ্রহ তত বাড়বে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এই বই চালু হলে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা মানসিকতার সঙ্গে পরিচিত হবে — যা ভবিষ্যতে কারিগরি শিক্ষা ও কর্মজীবনের ভিত্তি গড়ে দেবে।
ষষ্ঠ শ্রেণির বর্তমান সব বইয়ের PDF ডাউনলোডের নিয়ম জানতে দেখুন ষষ্ঠ শ্রেণির বই PDF ২০২৬।
অনুমোদন কীভাবে হলো: ২৫ অক্টোবরের এনসিসি সভা
দুটি পৃথক সভা, একই দিনে
২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর, রোববার, ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) দুটি পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এক সভায় চতুর্থ শ্রেণির দুটি বই এবং অন্য সভায় ষষ্ঠ শ্রেণির দুটি বইয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। দুই সভাতেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
চতুর্থ শ্রেণির বইয়ের সভায় কারা ছিলেন
চতুর্থ শ্রেণির বই দুটির অনুমোদনসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন। সভায় আরও অংশ নেন প্রধান তথ্য কমিশনার ড. নাহরিন ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের সভায় কারা ছিলেন
ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই দুটির অনুমোদন দিতে আয়োজিত পৃথক সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সভায়ও প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন। প্রধান তথ্য কমিশনার ড. নাহরিন ইসলাম খানসহ কমিটির অন্য সদস্যরাও অংশ নেন।
পরিমার্জন সাপেক্ষে অনুমোদন
বই চারটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে। অর্থাৎ, কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সংশোধন করে তারপর বইগুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এনসিসির অনুমোদনের পর সেগুলো ছাপানোর জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।
কেন এই নতুন বইগুলো আনা হলো
মুখস্থনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসা
দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন বইগুলো শিক্ষার্থীদের এই গতানুগতিক ধারা থেকে বের করে এনে আরও বেশি আনন্দময়, জীবনমুখী ও দক্ষ করে গড়ে তুলবে। বইগুলোর মাধ্যমে শিশুরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়, বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী
এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বইগুলো তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বাসসকে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা যেন শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং কর্মদক্ষতা ও বাস্তব জীবনের প্রস্তুতিও নিশ্চিত করে, সেই লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির ভাষ্য
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, নতুন বইগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ শেষ; অনুমোদনের পর ছাপানোর জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।
মুদ্রণ ও বিতরণ: বই কবে হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা
দেড় কোটি কপি ছাপানো হবে
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি মুদ্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকুর আশা, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি মুদ্রণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই হাতে
মুদ্রণ শেষ হলে বইগুলো ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর কথা। অর্থাৎ, ২০২৭ সালে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন থেকেই এই চারটি নতুন বই পড়ার সুযোগ পাবে। বই বিতরণের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এনসিটিবি বা মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা ঘোষণা এলে এই পোস্টে আপডেট দেওয়া হবে।
মুদ্রণের ধাপগুলো
ধাপ | অবস্থা |
পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন | সম্পন্ন |
পাণ্ডুলিপি যাচাই | সম্পন্ন |
এনসিসি অনুমোদন | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সম্পন্ন (পরিমার্জন সাপেক্ষে) |
পরিমার্জন | চলমান |
প্রেসে পাঠানো | অনুমোদনের পর |
মুদ্রণ শেষের লক্ষ্য | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
শিক্ষার্থীদের হাতে | ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে |
পাঠ্যবইয়ে QR ডিজিটাল কনটেন্ট: বই খুললেই ভিডিও-অ্যানিমেশন
নতুন বইয়ের পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল কনটেন্ট ও QR কোড। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
QR কোড কীভাবে কাজ করবে
বইয়ের নির্দিষ্ট স্থানে থাকা QR কোড স্মার্টফোন বা ট্যাব দিয়ে স্ক্যান করলেই শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের থ্রিডি অ্যানিমেশন, ভিডিও টিউটোরিয়াল, অডিও এবং ইন্টারেক্টিভ সিমুলেশন দেখতে পাবে। অর্থাৎ, ছাপা বইয়ের পাতা আর শুধু লেখা-ছবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না — মোবাইলে স্ক্যান করলেই পাঠ জীবন্ত হয়ে উঠবে।
কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উপকার
পাঠ্যবইয়ের কঠিন ও জটিল বিষয়গুলোকে সহজভাবে বোঝাতেই এই উদ্যোগ। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি শিক্ষার মতো বিষয়গুলোতে স্পষ্ট ধারণা পেতে শিক্ষার্থীরা দারুণভাবে উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। যেমন: বিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষা বইয়ে পড়ে না বুঝলে, QR স্ক্যান করে সেই পরীক্ষার অ্যানিমেশন দেখে নেওয়া যাবে। গণিতের জটিল সমস্যার ধাপে ধাপে ভিডিও সমাধানও পাওয়া যাবে।
অভিভাবকদের যা জানা দরকার
QR কনটেন্ট দেখতে বাড়িতে একটি স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ও ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে। তবে বইয়ের মূল পড়াশোনা QR ছাড়াও সম্পূর্ণ করা যাবে — ডিজিটাল কনটেন্ট শেখাকে সহজ ও আনন্দদায়ক করার জন্য, বইয়ের বিকল্প নয়। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে QR কনটেন্ট ব্যবহার করে পাঠদান আরও ইন্টারেক্টিভ করতে পারবেন।
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই নিয়ে বিতর্ক: যা ঘটেছে
নতুন বইয়ের অনুমোদনের খবরের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর এসেছে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বই নিয়ে। বইটির ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে ব্যবহৃত জ্ঞানের পিরামিডে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। নিচ থেকে ওপরের দিকে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা — এই চারটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক রাখা হয়েছিল: উপাত্তের জন্য পাই চার্ট, তথ্যের জন্য পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ প্রতীক, জ্ঞানের জন্য মস্তিষ্ক এবং প্রজ্ঞার জন্য দাঁড়িপাল্লা।
বিতর্কের কারণ
দাঁড়িপাল্লার ছবিটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুধু দাঁড়িপাল্লা নয়, চারটি স্তরের সব আইকন বা প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। তবে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা — এই নামগুলো বইয়ে থাকবে।
এনসিটিবি কী ব্যবস্থা নিয়েছে
বিতর্কের পর গত ২২ অক্টোবর রাত থেকে বইটির ছাপা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিতরণের জন্য মাঠপর্যায়ে পাঠানো বইও সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর সেগুলো শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে। এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানিয়েছেন, সংশোধিত সংস্করণে কোনো আইকন থাকবে না। আগামী বছর এভাবেই বইটি শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। পরবর্তী বছর বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নতুন বইয়ের PDF: কোথায় পাবেন
২০২৭ সালের নতুন বইয়ের PDF এখনো আসেনি
নতুন চারটি বই এখনো মুদ্রণের ধাপে রয়েছে — অনুমোদনের পর পরিমার্জন ও ছাপানোর কাজ চলছে। তাই ২০২৭ সালের নতুন বইয়ের PDF এখনো প্রকাশিত হয়নি। বই ছাপা ও বিতরণের পর সাধারণত এনসিটিবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (nctb.gov.bd) বইয়ের PDF পাওয়া যায়। PDF প্রকাশিত হলে এই পোস্টে আপডেট জানিয়ে দেওয়া হবে।
বর্তমান শ্রেণির বইয়ের PDF
নতুন বইয়ের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বর্তমান শিক্ষাবর্ষের বইয়ের PDF দেখে নিতে পারেন। সব শ্রেণির NCTB বই PDF ডাউনলোডের নিয়ম জানতে দেখুন NCTB বই PDF ২০২৬: সব শ্রেণির বই ডাউনলোডের নিয়ম। চতুর্থ শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের PDF-এর জন্য উপরের লিংকগুলো দেখুন।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য করণীয়
অভিভাবকরা যা করবেন
নতুন বইগুলো শিশুদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি দক্ষতা শেখাবে — এগুলো পরীক্ষার নম্বরের বই নয়, জীবনের বই। বাড়িতে শিশুকে খেলাধুলায় উৎসাহ দিন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে গল্প করুন, আর কারিগরি কাজে হাত লাগাতে দিন। বইয়ে থাকা প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তার পাঠগুলো বাড়িতেও অনুশীলন করান। QR কনটেন্টের জন্য প্রয়োজনে নিজের ফোনে বইয়ের QR স্ক্যান করে শিশুকে ভিডিও দেখতে সাহায্য করুন।
শিক্ষকরা যা করবেন
নতুন বইগুলো পড়ানোর ধরনও নতুন হতে হবে। খেলাধুলা বই পড়াতে হবে মাঠে নিয়ে গিয়ে, সংস্কৃতি বই পড়াতে হবে গান-গল্প-উৎসবের মধ্য দিয়ে, আর কারিগরি শিক্ষা বই পড়াতে হবে হাতে-কলমে কাজ করিয়ে। মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার পুরনো পদ্ধতিতে এই বইগুলোর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। এনসিটিবির প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা পেলে সেভাবে পাঠদানের প্রস্তুতি নিন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
২০২৭ সালে কোন কোন শ্রেণিতে নতুন বই আসছে?
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বই আসছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ২টি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২টি — মোট ৪টি নতুন পাঠ্যবই।
নতুন ৪ বইয়ের নাম কী কী?
চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’; ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।
নতুন বইগুলো কবে অনুমোদন পেয়েছে?
জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রোববার, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দুটি পৃথক সভায় বই চারটির অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে।
নতুন বই কত কপি ছাপানো হবে?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি মুদ্রণ করা হবে।
বইগুলো শিক্ষার্থীরা কবে হাতে পাবে?
মুদ্রণ শেষের লক্ষ্য ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬। মুদ্রণ শেষ হলে বইগুলো ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর কথা।
খেলাধুলা বইয়ে কী কী আছে?
১৪টি অধ্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার নিয়মকানুন, কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশল, আঘাতের প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও সামাজিক দক্ষতা রয়েছে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বইয়ে কী আছে?
১১টি অধ্যায়ে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাবার, সামাজিক রীতিনীতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস রয়েছে।
লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বইটি কেমন?
ছয়টি অধ্যায়ের এই বইয়ে পরীক্ষা ও মুখস্থনির্ভরতার বাইরে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমার কারিগরি শিক্ষা বইয়ে কী শেখানো হবে?
আটটি অধ্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, ছোট উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের বিষয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
পাঠ্যবইয়ে QR কোড কীভাবে ব্যবহার করব?
বইয়ের নির্দিষ্ট স্থানে থাকা QR কোড স্মার্টফোন বা ট্যাব দিয়ে স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের থ্রিডি অ্যানিমেশন, ভিডিও টিউটোরিয়াল, অডিও এবং ইন্টারেক্টিভ সিমুলেশন দেখা যাবে।
নতুন বইয়ের PDF কোথায় পাব?
নতুন বইয়ের PDF এখনো প্রকাশিত হয়নি — বই এখনো মুদ্রণের ধাপে রয়েছে। প্রকাশিত হলে এনসিটিবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। বর্তমান শ্রেণির বইয়ের PDF-এর নিয়ম এই পোস্টের লিংকগুলোতে দেওয়া আছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে কী সমস্যা হয়েছিল?
আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। এরপর ২২ অক্টোবর রাত থেকে বইটির ছাপা বন্ধ রাখা হয় এবং চারটি স্তরের সব আইকন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নামগুলো (উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান, প্রজ্ঞা) বইয়ে থাকবে।
নতুন বই কি সব স্কুলে পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, বইগুলো জাতীয় শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত — তাই দেশের সব সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এই বই পাবে।
উপসংহার
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন ৪ বই — খেলাধুলা, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস ও আমার কারিগরি শিক্ষা — বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা। মুখস্থনির্ভর ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার বদলে এখন শেখানো হবে খেলা, সংস্কৃতি, আনন্দ ও কারিগরি দক্ষতা। ২৫ অক্টোবর ২০২৬ এনসিসির অনুমোদনের পর দেড় কোটি কপি মুদ্রণের কাজ শুরু হচ্ছে, লক্ষ্য ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করা। পাঠ্যবইয়ে QR ডিজিটাল কনটেন্ট যুক্ত হওয়ায় শেখা আরও সহজ ও আকর্ষণীয় হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের উচিত নতুন বইয়ের দর্শন বুঝে শিশুদের সেভাবে উৎসাহ দেওয়া — কারণ এই বইগুলোর সাফল্য নির্ভর করছে শুধু ছাপার ওপর নয়, পড়ানোর ধরনের ওপরও। নতুন বইয়ের PDF, বিতরণের তারিখ বা আরও আপডেট এলে এই পোস্টেই জানিয়ে দেওয়া হবে।
NCTB New Books 2027 — Full English Version
Four brand-new textbooks are coming for Class 4 and Class 6 students in the 2027 academic year. The National Curriculum Coordination Committee (NCCC) approved the four books on Sunday, 25 October 2026, in two separate meetings. Class 4 students will get 'Kheladhula' (Sports) and 'Bangladesher Sanskriti' (Culture of Bangladesh), while Class 6 students will get 'Learning with Happiness' and 'Amar Karigori Shikkha' (My Technical Education). The goal is to move beyond rote memorization and exam-centred learning, and to build students' physical and mental development, creativity, ethics and real-life skills. This guide covers the full list of the new books, what each book contains, how the approval happened, the printing and distribution schedule, the QR digital content coming to textbooks, and the Class 6 ICT book controversy — everything in one place.
NCTB New Books 2027 at a Glance
Item | Details |
Academic year | 2027 |
Classes | Class 4 and Class 6 |
New books | 4 |
Class 4 books | Kheladhula, Bangladesher Sanskriti |
Class 6 books | Learning with Happiness, Amar Karigori Shikkha |
Approved by | National Curriculum Coordination Committee (NCCC) |
Approval date | 25 October 2026, Sunday |
Venue | International Mother Language Institute, Segunbagicha, Dhaka |
Copies to print | About 15 million (1.5 crore) |
Printing target | By 15 December 2026 |
Prepared by | National Curriculum and Textbook Board (NCTB) |
The Four New Books
Class | Book | Chapters | Focus |
Class 4 | Kheladhula (Sports) | 14 | Football, cricket, kabaddi, badminton, swimming, athletics, chess, karate, judo, taekwondo, first aid, nutrition |
Class 4 | Bangladesher Sanskriti (Culture of Bangladesh) | 11 | Language, clothing, arts, food, social customs, ethnic minority traditions, Notun Kuri |
Class 6 | Learning with Happiness | 6 | Daily experience, environment, health, safety, creativity, relationships |
Class 6 | Amar Karigori Shikkha (My Technical Education) | 8 | Use of technology, problem solving, small enterprises, green technology, sustainable living |
Class 4: Kheladhula (Sports)
The 'Kheladhula' book has 14 chapters. It covers the rules of football, cricket, kabaddi, badminton, swimming, athletics and chess, as well as self-defence techniques such as karate, judo and taekwondo. It also teaches what to do in case of injuries during sports, nosebleeds and heat stroke, along with first aid, nutrition and social skills. The book brings sports into the core curriculum instead of leaving it as an extracurricular activity.
Class 4: Bangladesher Sanskriti (Culture of Bangladesh)
The 'Bangladesher Sanskriti' book has 11 chapters covering language, clothing, arts, food, social customs and the traditions of ethnic minorities. It also includes the history of 'Notun Kuri', the children's talent-search programme that began in 1976 on the initiative of Shaheed President Ziaur Rahman. The book teaches children to know and love their own culture and to respect the diversity within the country.
Class 6: Learning with Happiness
'Learning with Happiness' has six chapters. It focuses on learning through daily experience, environment, health, safety, creativity and relationships — beyond exams and memorization. The book helps students in the transition to secondary school to stay mentally strong, understand their own feelings and build healthy relationships with others.
Class 6: Amar Karigori Shikkha (My Technical Education)
'Amar Karigori Shikkha' has eight chapters on the use of technology, problem solving, small enterprises, green technology and sustainable living. Students will get the chance to build practical skills through real work alongside theoretical knowledge. The message of the book is clear: education is not only for jobs, but also for standing on one's own feet with skills.
How the Approval Happened: NCCC Meetings of 25 October
Two separate NCCC meetings were held on Sunday, 25 October 2026, at the International Mother Language Institute in Segunbagicha, Dhaka. One meeting approved the two Class 4 books and the other approved the two Class 6 books. The Education and Primary & Mass Education Minister, Dr. A N M Ehsanul Hoque Milan, was the chief guest at both meetings.
The Class 4 meeting was chaired by Jesmin Nahar, Secretary of the Ministry of Primary and Mass Education. Special guests were State Minister Bobby Hajjaj and the Prime Minister's Special Assistant Gias Uddin. The Chief Information Commissioner Dr. Nahrin Islam Khan and the Prime Minister's Press Secretary Abu Abdullah M Saleh also attended.
The Class 6 meeting was chaired by Abdul Khalek, Secretary of the Secondary and Higher Education Division. The books were approved subject to necessary revision — the committee's suggestions will be incorporated before the books enter the curriculum. NCTB Chairman Professor Mohammad Fakhrul Mawla said the manuscripts had been prepared and verified, and after NCCC approval they would be sent to press for printing.
Why These Books Were Introduced
The conventional education system in Bangladesh has long suffered from rote learning and an exam-centred mindset. Curriculum experts say the new books will pull students out of that pattern and make them happier, more life-oriented and more skilled. According to NCTB, the books were prepared in line with the government's election manifesto, focusing on joyful education, sports, cultural practice and hands-on technical skills.
Mahdi Amin, the Prime Minister's Education and Primary & Mass Education Adviser, told BSS that the government is giving importance to building humane values, social etiquette, family culture and good citizenship in students. Education should not be limited to doing well in exams, he said — it must also ensure work skills and preparation for real life. NCTB member (curriculum) Professor A K M Shawkat Ali Khan said the books will give students the chance to gain practical, skill-based knowledge in a joyful environment beyond textbook learning.
Printing and Distribution
About 15 million (1.5 crore) copies of the four books will be printed. NCTB member Professor Mohammad Abu Naser Tuku hopes the printing will be completed by 15 December 2026. Once printing is done, the books should reach students at the start of the 2027 academic year. Any separate announcement from NCTB or the ministry about the distribution date will be added to this post as an update.
Step | Status |
Manuscript preparation | Completed |
Manuscript verification | Completed |
NCCC approval | Completed on 25 October 2026 (subject to revision) |
Revision | Ongoing |
Sent to press | After approval |
Printing target | 15 December 2026 |
In students' hands | Start of the 2027 academic year |
QR Digital Content in Textbooks
Along with the new books, digital content and QR codes are being added to next year's textbooks. NCTB has decided to make the education system more modern, technology-based and attractive. Students will be able to scan the QR code in a book with a smartphone or tablet and watch 3D animations, video tutorials, audio and interactive simulations for the relevant chapter. This will help most in difficult subjects such as science, mathematics and English. Parents should know that the main study can be completed without the QR content — the digital content exists to make learning easier and more enjoyable, not to replace the book.
Class 6 ICT Book Controversy
A separate development concerns the Class 6 Information and Communication Technology (ICT) book. In its 'Data and Information' lesson, the knowledge pyramid used a scales (দাঁড়িপাল্লা) image as the symbol of wisdom (প্রজ্ঞা). The four levels — data, information, knowledge and wisdom — were shown with different symbols: a pie chart for data, an atom or network-like symbol for information, a brain for knowledge and scales for wisdom. The scales image resembled the political and electoral symbol of Bangladesh Jamaat-e-Islami, which created controversy. NCTB has decided to remove all four icons from the four levels, though the names (data, information, knowledge, wisdom) will remain. Printing of the book was stopped from the night of 22 October, and copies already sent to the field are being collected. After necessary corrections, the books will be supplied to students. NCTB member A K M Shawkat Ali Khan said the revised edition will have no icons, and the topics will be revised further next year.
New Books PDF
The PDF of the 2027 new books has not been published yet — the books are still in the printing stage. Once printed and distributed, the PDFs are usually available on NCTB's official website (nctb.gov.bd). This post will be updated when the PDFs are published.
Frequently Asked Questions (FAQ)
Which classes are getting new books in 2027?
Class 4 and Class 6. Two books for each class — four new textbooks in total.
What are the names of the four new books?
Class 4: 'Kheladhula' and 'Bangladesher Sanskriti'. Class 6: 'Learning with Happiness' and 'Amar Karigori Shikkha'.
When were the new books approved?
The National Curriculum Coordination Committee (NCCC) approved them on Sunday, 25 October 2026, subject to necessary revision.
How many copies will be printed?
About 15 million (1.5 crore) copies of the four books.
When will students get the books?
The printing target is 15 December 2026. The books should reach students at the start of the 2027 academic year.
What is in the Kheladhula book?
Fourteen chapters covering the rules of football, cricket, kabaddi, badminton, swimming, athletics and chess, self-defence techniques (karate, judo, taekwondo), first aid for injuries, nutrition and social skills.
What is in the Bangladesher Sanskriti book?
Eleven chapters on language, clothing, arts, food, social customs, ethnic minority traditions and the history of the children's talent programme 'Notun Kuri'.
What is Learning with Happiness about?
A six-chapter book that teaches through daily experience, environment, health, safety, creativity and relationships — learning with joy instead of exam pressure.
What will Amar Karigori Shikkha teach?
Eight chapters on using technology, solving problems, starting small enterprises, green technology and sustainable living — practical skills through real work.
How does the QR code in textbooks work?
Scanning the QR code in the book with a smartphone or tablet opens 3D animations, video tutorials, audio and interactive simulations for that chapter.
Where can I download the new books' PDF?
The PDF has not been published yet. It will be available on NCTB's official website (nctb.gov.bd) after the books are printed and distributed.
What happened with the Class 6 ICT book?
The scales symbol used for wisdom in the knowledge pyramid resembled a political party's electoral symbol. Printing was stopped from 22 October, all four level icons will be removed, and field copies are being collected for correction.
Conclusion
The four new books for Class 4 and Class 6 in 2027 — Kheladhula, Bangladesher Sanskriti, Learning with Happiness and Amar Karigori Shikkha — mark a major change in Bangladesh's education system. Instead of rote learning and exam-centred study, students will now learn sports, culture, joy and technical skills. After the NCCC approval on 25 October 2026, printing of about 15 million copies has begun, with a target of finishing by 15 December. QR digital content in textbooks will make learning easier and more attractive. Parents and teachers should understand the philosophy of the new books and encourage children accordingly — because the success of these books depends not only on printing, but also on how they are taught. This post will be updated with the PDF links, distribution dates and any further updates.
০
০ মন্তব্য