সহকারী শিক্ষক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন ২০২৬ | Primary Scholarship Exam Suggestion 2026
📖 প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন ২০২৬ দেখুন
📖 এক ক্লিকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন ২০২৬ দেখুন
📖 প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন ২০২৬ PDF Download
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে। পরীক্ষা হবে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায়, শেষ হবে দুপুর সাড়ে ১২টায়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৃত্তি পেলে শুধু মাসে মাসে টাকা পাওয়া যায় না, ভালো স্কুলে ভর্তির সুযোগও পাওয়া যায়। তাই পরীক্ষার আগে গুছিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
এই পোস্টে আমরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন ২০২৬ বিষয় ধরে ধরে সাজিয়েছি। যারা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন 2026 লিখে খুঁজছেন, তাদের জন্যও এই একই পোস্ট। এখানে সাজেশন বাংলা, সাজেশন ইংরেজি, সাজেশন গণিত আর সাজেশন বিজ্ঞান — প্রতিটি বিষয়ের আলাদা আলাদা সাজেশন দেওয়া হয়েছে। যারা ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ সাজেশন pdf খুঁজে এসেছেন, তাদের জন্যও এই পোস্টেই পুরো সাজেশন লেখা আছে। ইংরেজিতে যারা খুঁজছেন, তাদের জন্য বলি — this is the complete primary scholarship exam suggestion 2026 for Class 5 students, with subject-wise topics, sample questions and preparation tips. এখানে দেওয়া সাজেশনগুলো পঞ্চম শ্রেণির এনসিটিবি (NCTB) পাঠ্যবইয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলো অনুশীলনের জন্য দেওয়া পরামর্শ, আসল পরীক্ষার প্রশ্ন নয়। কেউ যেন এগুলোকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মনে না করে।
একটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে নিই। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা কোনো বই বা আলাদা সিলেবাস নেই। পঞ্চম শ্রেণির এনসিটিবি পাঠ্যবই-ই সিলেবাস। অর্থাৎ স্কুলের বইগুলো ভালো করে পড়লেই পুরো সিলেবাস শেষ হয়ে যায়। এই পোস্টে আমরা বইয়ের কোন কোন অংশে বেশি জোর দিতে হবে, সেটাই দেখিয়ে দিচ্ছি।
এক নজরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬
বিষয় | তথ্য |
পরীক্ষার নাম | প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ |
শ্রেণি | পঞ্চম শ্রেণি |
পরীক্ষার তারিখ | ২০–২৩ ডিসেম্বর ২০২৬ |
পরীক্ষার সময় | প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা |
মোট নম্বর | ৪০০ |
প্রতি বিষয়ে নম্বর | ১০০ |
বৃত্তির জন্য শর্ত | প্রতিটি বিষয়ে কমপক্ষে ৪০% নম্বর (৪০ নম্বর) পেতে হবে |
সিলেবাস | পঞ্চম শ্রেণির এনসিটিবি পাঠ্যবই |
বিজ্ঞপ্তি | প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই), ৮ অক্টোবর ২০২৬ |
পরীক্ষার রুটিনের বিস্তারিত জানতে দেখুন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন ২০২৬। আর পরীক্ষার যোগ্যতা, নম্বর, সিলেবাস ও বৃত্তির টাকা সম্পর্কে বিস্তারিত আছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ — যোগ্যতা, নম্বর, সিলেবাস ও বৃত্তির টাকা পোস্টে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন ২০২৬
তারিখ | বার | বিষয় | নম্বর |
২০ ডিসেম্বর ২০২৬ | রবিবার | বাংলা | ১০০ |
২১ ডিসেম্বর ২০২৬ | সোমবার | ইংরেজি | ১০০ |
২২ ডিসেম্বর ২০২৬ | মঙ্গলবার | প্রাথমিক গণিত | ১০০ |
২৩ ডিসেম্বর ২০২৬ | বুধবার | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান | ১০০ |
২৩ ডিসেম্বরের পরীক্ষাটা একটু আলাদা। ওইদিন দুটি বিষয় একসঙ্গে একটাই প্রশ্নপত্রে হবে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০ নম্বর আর প্রাথমিক বিজ্ঞান ৫০ নম্বর — মোট ১০০ নম্বর। মাঝখানে কোনো বিরতি থাকবে না। একটানা আড়াই ঘণ্টায় দুটি বিষয়ের উত্তর লিখতে হবে। তাই ওইদিনের জন্য আলাদা করে সময় ভাগ করে অনুশীলন করা দরকার। প্রথম এক ঘণ্টা পনেরো মিনিটে এক বিষয়, পরের এক ঘণ্টা পনেরো মিনিটে অন্য বিষয় — এভাবে অভ্যাস করলে পরীক্ষার হলে সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ সিলেবাস ও মানবন্টন
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার মানবন্টন বোঝা খুব সহজ। আগেই বলেছি, এই পরীক্ষার আলাদা কোনো সিলেবাস নেই। পঞ্চম শ্রেণির এনসিটিবি পাঠ্যবইয়ের পুরোটাই সিলেবাস। তবে সব অধ্যায় সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিছু অধ্যায় থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন আসে। এই পোস্টের বিষয়ভিত্তিক অংশে সেই অধ্যায়গুলো আলাদা করে দেখানো হয়েছে।
মানবন্টনটা একবার দেখে নিই।
বিষয় | পূর্ণমান | বৃত্তির জন্য কমপক্ষে |
বাংলা | ১০০ | ৪০ |
ইংরেজি | ১০০ | ৪০ |
প্রাথমিক গণিত | ১০০ | ৪০ |
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | ৫০ | — |
প্রাথমিক বিজ্ঞান | ৫০ | — |
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় + বিজ্ঞান (একসঙ্গে) | ১০০ | ৪০ |
মোট | ৪০০ | — |
অনেকেই "প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ সিলেবাস ও মানবন্টন pdf" লিখে খোঁজে। এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখি — ডিপিই থেকে সিলেবাস ও মানবন্টনের কোনো আলাদা পিডিএফ প্রকাশ করা হয়নি। এই পোস্টেই পুরো মানবন্টন আর বিষয়ভিত্তিক সাজেশন দেওয়া আছে। তাই আলাদা পিডিএফ খোঁজার দরকার নেই। এই পোস্টটা ভালো করে পড়লেই সিলেবাস আর মানবন্টন দুটোই জানা যাবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কাঠামো ২০২৬
প্রশ্ন কেমন হবে, সেটা জানা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়া অনেক সহজ হয়। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কাঠামো ২০২৬ পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই আর ডিপিইর নীতিমালা অনুযায়ী সাজানো হয়। সাধারণত প্রশ্নে কয়েক ধরনের অংশ থাকে।
প্রথমে থাকে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন। এখানে একটা প্রশ্নের চারটা উত্তর দেওয়া থাকে। সঠিক উত্তরটা বেছে নিতে হয়। এই অংশে ভালো করতে হলে বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের মূল তথ্যগুলো মনে রাখতে হবে। সাল, নাম, সংখ্যা, সংজ্ঞা — এই ধরনের ছোট ছোট তথ্য থেকে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন আসে।
তারপর থাকে সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন। এখানে এক লাইন বা দুই লাইনে উত্তর লিখতে হয়। প্রশ্নটা পড়ে ঠিক কী চাওয়া হয়েছে, সেটা বুঝে সরাসরি উত্তর দিতে হয়। বাড়তি কথা লেখার দরকার নেই।
সবশেষে থাকে বর্ণনামূলক প্রশ্ন। এখানে একটু বড় করে উত্তর লিখতে হয়। অনুচ্ছেদ লেখা, রচনা লেখা, চিঠি লেখা, গণিতের বড় অঙ্ক — এগুলো এই অংশে পড়ে। এই অংশে ভালো নম্বর পেতে হলে লেখা গুছিয়ে লিখতে হয়। হাতের লেখা পরিষ্কার রাখতে হয়।
প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নের ধরন আলাদা। তাই নিচে প্রতিটি বিষয়ের অংশে সেই বিষয়ের প্রশ্নের ধরন আলাদা করে বলা হয়েছে।
৪০% নিয়ম — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে একটা শর্ত আছে, যেটা অনেকেই ঠিকমতো জানে না। শুধু মোট নম্বর বেশি হলেই বৃত্তি পাওয়া যায় না। প্রতিটি বিষয়ে আলাদা করে কমপক্ষে ৪০% নম্বর পেতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ নম্বরের বিষয়ে কমপক্ষে ৪০ নম্বর লাগবে।
একটা উদাহরণ দিই। ধরো একজন শিক্ষার্থী বাংলায় ৯৫, ইংরেজিতে ৯০, গণিতে ৮৫ পেল। কিন্তু বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের যৌথ পত্রে পেল ৩৫। মোট নম্বর দাঁড়াল ৩০৫। অনেক বেশি। তবু সে বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবে না। কারণ একটি বিষয়ে ৪০-এর নিচে পেয়েছে।
আবার আরেকজন শিক্ষার্থী প্রতিটি বিষয়ে ৫০ করে পেল। মোট ২০০। সে কিন্তু বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবে। কারণ প্রতিটি বিষয়ে ৪০-এর ওপরে আছে। তাই প্রস্তুতির সময় কোনো বিষয়কে অবহেলা করা যাবে না। যে বিষয়টা কঠিন লাগে, সেটাতেই বেশি সময় দিতে হবে। সব বিষয়ে অন্তত ৪০ নম্বর নিশ্চিত করা প্রথম লক্ষ্য। তারপর মোট নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
বৃত্তি দুই ধরনের হয়। মেধাবৃত্তি (ট্যালেন্টপুল) আর সাধারণ বৃত্তি। মেধাবৃত্তিতে মাসে ৩০০ টাকা আর সাধারণ বৃত্তিতে মাসে ২২৫ টাকা দেওয়া হয়। এই টাকা তিন বছর ধরে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে বছরে একবার এককালীন কিছু টাকাও দেওয়া হয়। আর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সরকারি বা স্বীকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনা ফিতে ভর্তি হতে পারে।
কারা পরীক্ষা দিতে পারবে
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই এই পরীক্ষা দিতে পারে। তবে সব শিক্ষার্থী নয়। শ্রেণির সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হয়। চতুর্থ শ্রেণির সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে স্কুল এই বাছাই করে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারে, তবে তাদের স্কুলকে এনসিটিবি কারিকুলাম অনুসরণ করতে হয় এবং আইপিইএমআইএসে (IPEMIS) সক্রিয় থাকতে হয়। আলাদা করে অনলাইনে আবেদন করতে হয় না। স্কুলই শিক্ষার্থীদের নাম পাঠায়।
এই পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ৩৮.০১.০০০০.০০০.১০৭.০৩.০০০৭.২৬-২০৬৪। এতে স্বাক্ষর করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয় ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।
বাংলা সাজেশন ২০২৬
বাংলা পরীক্ষা হবে ২০ ডিসেম্বর, রবিবার। এটাই প্রথম পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষা ভালো হলে বাকিগুলোর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তাই বাংলায় ভালো প্রস্তুতি নেওয়া খুব দরকার। বাংলায় ১০০ নম্বর।
যা যা পড়তে হবে
বাংলা বইয়ের গদ্য আর পদ্য — দুটোই ভালো করে পড়তে হবে। প্রতিটি গদ্যের মূল ভাব, লেখকের নাম, গল্পের চরিত্রগুলোর নাম মনে রাখতে হবে। পদ্যের ক্ষেত্রে কবির নাম, কবিতার মূল ভাব আর কঠিন শব্দের অর্থ জানতে হবে। গদ্য-পদ্য থেকে বহুনির্বাচনি আর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন আসে।
ব্যাকরণ অংশে যেসব বিষয় ভালো করে শিখতে হবে — সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি, পদ প্রকরণ (বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া), বাক্য পরিবর্তন, বানান শুদ্ধ করা, এক কথায় প্রকাশ, বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ, বাগধারা। ব্যাকরণ থেকে অনেক নম্বর আসে। যারা ব্যাকরণে ভালো, তারা বাংলায় সহজে বেশি নম্বর পায়।
অনুচ্ছেদ, রচনা আর চিঠি — এই তিনটি থেকে বর্ণনামূলক প্রশ্ন আসে। গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদগুলো হলো — আমার বিদ্যালয়, আমার প্রিয় শিক্ষক, বাংলাদেশের ঋতু, গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধি, বইমেলা, বিজয় দিবস। রচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — আমার প্রিয় দেশ, বাংলাদেশের কৃষক, জাতীয় পতাকা, স্বাধীনতা দিবস, আমার স্বপ্ন, পরিবেশ রক্ষা। চিঠির জন্য — বন্ধুর কাছে চিঠি, শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র, বাবার কাছে চিঠি, বই উপহার পাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি।
প্রশ্নের ধরন
বাংলা প্রশ্নপত্রে সাধারণত চার ধরনের প্রশ্ন থাকে। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — গদ্য-পদ্য আর ব্যাকরণ থেকে। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন — গদ্যের মূল ভাব বা কবিতার লাইন থেকে। ব্যাকরণের প্রশ্ন — সন্ধি ভাঙা, সমাস নির্ণয়, বাক্য শুদ্ধ করা, এক কথায় প্রকাশ। আর সবশেষে অনুচ্ছেদ, রচনা বা চিঠি লেখা।
নমুনা প্রশ্ন (অনুশীলনের জন্য)
এগুলো আসল পরীক্ষার প্রশ্ন নয়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তৈরি অনুশীলনী প্রশ্ন। এগুলো চর্চা করলে প্রশ্নের ধরন বোঝা যাবে।
"আমার বিদ্যালয়" অনুচ্ছেদটি লেখো।
"বাংলাদেশের কৃষক" বিষয়ে একটি রচনা লেখো।
তোমার বন্ধুর কাছে বই উপহার পাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি লেখো।
"বিদ্যালয়" শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করো।
"মা-বাবা" — এটি কোন সমাস? ব্যাখ্যা করো।
"সুন্দর" শব্দের বিপরীত শব্দ লেখো।
"যে গাছ লাগায়, সে ফল পায়" — বাক্যটি শুদ্ধ করে লেখো।
"অন্ধকার" শব্দের সমার্থক শব্দ দুটি লেখো।
বাংলায় ভালো করার টিপস
প্রতিদিন অন্তত একটা গদ্য বা একটা পদ্য পড়ো। পড়ার সময় কঠিন শব্দের অর্থ খাতায় লিখে রাখো। ব্যাকরণের নিয়মগুলো মুখস্থ না করে বুঝে বুঝে শেখো। প্রতিদিন একটা করে অনুচ্ছেদ লেখার অভ্যাস করো। লেখার সময় বানানের দিকে খেয়াল রাখো। ভুল বানান লিখলে নম্বর কাটা যায়। পরীক্ষার হলে রচনা বা অনুচ্ছেদ লেখার আগে দুই মিনিট ভেবে নাও কী কী লিখবে। তারপর গুছিয়ে লেখো।
ইংরেজি সাজেশন ২০২৬
ইংরেজি পরীক্ষা হবে ২১ ডিসেম্বর, সোমবার। ইংরেজিতে ১০০ নম্বর। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে ইংরেজি কঠিন লাগে। কিন্তু নিয়মিত চর্চা করলে ইংরেজিতেও ভালো নম্বর পাওয়া যায়।
যা যা পড়তে হবে
ইংরেজি বইয়ের প্রতিটি lesson ভালো করে পড়তে হবে। প্রতিটি lesson-এর মূল শব্দগুলোর (vocabulary) অর্থ জানতে হবে। শব্দের বানান ঠিকমতো শিখতে হবে। কারণ বানান ভুল হলে নম্বর কাটা যায়।
গ্রামার অংশে যেসব বিষয় শিখতে হবে — Parts of Speech (বিশেষ করে Noun, Pronoun, Verb, Adjective, Adverb), Tense (Present, Past, Future — সহজ রূপগুলো), Article (a, an, the), Preposition (in, on, at, to, for, with), Number (Singular, Plural), Gender, Sentence making, Wh-question, Right form of verb-এর সহজ নিয়মগুলো।
Comprehension অংশে একটা অনুচ্ছেদ (passage) দেওয়া থাকবে। সেটা পড়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই অংশে ভালো করতে হলে পড়ে বোঝার অভ্যাস দরকার। প্রতিদিন ইংরেজি বইয়ের একটা করে lesson পড়ে তার প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে নিজে লেখার চেষ্টা করো।
Paragraph আর Letter — এই দুটো থেকে বর্ণনামূলক প্রশ্ন আসে। গুরুত্বপূর্ণ Paragraph — My School, My Best Friend, My Country, A Rainy Day, My Favourite Teacher, Our National Flag। Letter-এর জন্য — বন্ধুর কাছে চিঠি, শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র (Application), বাবার কাছে চিঠি।
প্রশ্নের ধরন
ইংরেজি প্রশ্নপত্রে সাধারণত থাকে — বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (vocabulary আর grammar থেকে), শূন্যস্থান পূরণ (article, preposition, right form of verb), বাক্য তৈরি করা, Comprehension থেকে প্রশ্নের উত্তর, Paragraph লেখা, Letter বা Application লেখা।
নমুনা প্রশ্ন (অনুশীলনের জন্য)
Write a paragraph on "My School" in about 10 sentences.
Write an application to your Head Teacher for a leave of absence for three days.
Fill in the blanks with suitable articles: ___ sun rises in ___ east.
Fill in the blanks with suitable prepositions: He goes ___ school ___ foot.
Make sentences with the following words: honest, beautiful, garden.
Read the passage and answer the questions. (বইয়ের যেকোনো lesson-এর passage নিয়ে অনুশীলন করো।)
Write the plural forms of: child, man, box, mango.
Change the following sentences into interrogative: He is a good student. They play football.
ইংরেজিতে ভালো করার টিপস
প্রতিদিন অন্তত ৫টা নতুন ইংরেজি শব্দ শেখো। শব্দ শিখলে তার অর্থ আর একটা করে বাক্য লিখে রাখো। Tense-এর নিয়মগুলো উদাহরণসহ শেখো। শুধু নিয়ম মুখস্থ করলে হবে না, বাক্য বানিয়ে চর্চা করতে হবে। Paragraph লেখার সময় সহজ বাক্য লেখো। কঠিন বাক্য লিখতে গিয়ে ভুল করার চেয়ে সহজ বাক্য ঠিকমতো লেখা ভালো। Letter লেখার নিয়মটা ভালো করে শেখো — উপরে ঠিকানা, তারিখ, সম্বোধন, শেষে নাম। এই ধাপগুলো ঠিক থাকলে নম্বর পাওয়া সহজ হয়।
গণিত সাজেশন ২০২৬
গণিত পরীক্ষা হবে ২২ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার। গণিতে ১০০ নম্বর। গণিতে ভালো নম্বর পাওয়া সবচেয়ে সহজ। কারণ গণিতের উত্তর ঠিক হলে পুরো নম্বর পাওয়া যায়। আবার একটু ভুল হলেই পুরো নম্বর চলে যেতে পারে। তাই গণিতে সতর্ক হয়ে উত্তর লিখতে হয়।
যা যা পড়তে হবে
সংখ্যা আর অঙ্কের কাজ — বড় সংখ্যা পড়া ও লেখা, স্থানীয় মান, যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগের বড় অঙ্ক। ভগ্নাংশ — সাধারণ ভগ্নাংশের যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ, ভগ্নাংশকে দশমিকে রূপান্তর। দশমিক — দশমিক সংখ্যার যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ, দশমিকের স্থানীয় মান।
পরিমাপ — দৈর্ঘ্য, ওজন, সময়, টাকা-পয়সার হিসাব। মিটার-সেন্টিমিটার, কিলোগ্রাম-গ্রাম, লিটার, ঘণ্টা-মিনিটের রূপান্তর। এখান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। একক রূপান্তরের নিয়মগুলো ভালো করে শিখে রাখো।
জ্যামিতি — ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, আয়তক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, বৃত্তের ধারণা। আয়তক্ষেত্র ও বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল আর পরিসীমা বের করার সূত্র। কোণের ধারণা — সমকোণ, সূক্ষ্মকোণ, স্থূলকোণ।
ঐকিক নিয়ম আর শতকরা — ঐকিক নিয়মের অঙ্ক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। শতকরা বের করা, লাভ-ক্ষতির সহজ অঙ্ক, সুদকষার প্রাথমিক ধারণা। গড় বের করার অঙ্কও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নের ধরন
গণিতের প্রশ্নপত্রে থাকে — বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (ছোট হিসাব থেকে), সংক্ষিপ্ত অঙ্ক (এক ধাপের হিসাব), বড় অঙ্ক (দুই-তিন ধাপের হিসাব, ঐকিক নিয়ম, ক্ষেত্রফল-পরিসীমা), জ্যামিতির প্রশ্ন (চিত্র এঁকে বা সূত্র দিয়ে উত্তর)।
নমুনা প্রশ্ন (অনুশীলনের জন্য)
৩৪৫৬৭ + ৭৮৯০৪ = কত?
একটি আয়তক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য ১২ মিটার ও প্রস্থ ৮ মিটার হলে এর ক্ষেত্রফল কত?
৫ জন শ্রমিক একটি কাজ ১২ দিনে করতে পারে। ১০ জন শ্রমিক ওই কাজ কত দিনে করবে?
২.৫ + ৩.৭৫ = কত?
১২০ টাকার ১৫% কত?
৫টি সংখ্যার গড় ২৪ হলে সংখ্যাগুলোর যোগফল কত?
একটি বর্গক্ষেত্রের এক বাহুর দৈর্ঘ্য ৯ সেমি হলে এর পরিসীমা কত?
৩/৪ + ২/৩ = কত?
গণিতে ভালো করার টিপস
প্রতিদিন অন্তত ১০টা অঙ্ক চর্চা করো। সূত্রগুলো একটা খাতায় লিখে রাখো। যেমন — আয়তক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ। পরীক্ষার আগে এই খাতাটা দেখে নাও। অঙ্ক করার সময় ধাপগুলো লিখে লিখে করো। মনে মনে হিসাব করলে ভুল হয়। উত্তর লেখার পর আরেকবার মিলিয়ে দেখো। প্রশ্নটা ঠিকমতো পড়ো — কোন একক চাওয়া হয়েছে, সেটা খেয়াল করো। যেমন মিটার চাওয়া হলে সেন্টিমিটারে উত্তর লিখলে নম্বর পাবে না।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সাজেশন ২০২৬
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরীক্ষা হবে ২৩ ডিসেম্বর, বুধবার। বিজ্ঞানের সঙ্গে একই প্রশ্নপত্রে। এই বিষয়ে ৫০ নম্বর।
যা যা পড়তে হবে
বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় ভালো করে পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো হলো — আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশের ভূগোল (নদ-নদী, জেলা, বিভাগ), বাংলাদেশের অর্থনীতি (কৃষি, শিল্প), আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ু, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।
মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস — এই তারিখগুলো আর ঘটনাগুলো ভালো করে মনে রাখতে হবে।
প্রশ্নের ধরন
এই বিষয়ে থাকে — বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (তারিখ, নাম, সংখ্যা থেকে), সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (এক-দুই লাইনের উত্তর), বর্ণনামূলক প্রশ্ন (মুক্তিযুদ্ধ, পরিবেশ, সমাজ নিয়ে)।
নমুনা প্রশ্ন (অনুশীলনের জন্য)
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্ণনা দাও।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব লেখো।
বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর নাম লেখো।
পরিবেশ দূষণ রোধে আমরা কী করতে পারি?
নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্যগুলো কী কী?
বাংলাদেশ কয়টি বিভাগে বিভক্ত? বিভাগগুলোর নাম লেখো।
বিজয় দিবস কবে পালিত হয়?
আমাদের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে?
ভালো করার টিপস
তারিখ আর নাম মনে রাখার জন্য একটা চার্ট বানাও। যেমন — ১৯৫২: ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ, ১৬ ডিসেম্বর: বিজয় দিবস। এই চার্টটা প্রতিদিন একবার করে দেখো। অধ্যায় পড়ার সময় মূল কথাগুলো নিজের ভাষায় খাতায় লিখে রাখো। শুধু মুখস্থ করলে ভুলে যাবে। বুঝে পড়লে মনে থাকবে।
বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৬
প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষাও হবে ২৩ ডিসেম্বর, বুধবার। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের সঙ্গে একই প্রশ্নপত্রে। এই বিষয়েও ৫০ নম্বর।
যা যা পড়তে হবে
বিজ্ঞান বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে পড়তে হবে — জীব ও পরিবেশ (উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন), খাদ্য ও পুষ্টি, পানি ও বায়ু, মাটি, তাপ ও আলো, বিদ্যুৎ (প্রাথমিক ধারণা), চুম্বক, আমাদের দেহ, রোগ প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ।
পরীক্ষার মতো করে প্রস্তুতি নিতে হলে প্রতিটি অধ্যায়ের মূল সংজ্ঞাগুলো শিখতে হবে। যেমন — সালোকসংশ্লেষণ কী, খাদ্য শৃঙ্খল কাকে বলে, দূষণ কাকে বলে। সংজ্ঞা থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন আসে।
প্রশ্নের ধরন
বিজ্ঞানে থাকে — বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (সংজ্ঞা, তথ্য থেকে), সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (এক-দুই লাইনের উত্তর), বর্ণনামূলক প্রশ্ন (প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা, যেমন পানিচক্র, সালোকসংশ্লেষণ), চিত্র আঁকা বা চিত্র চিহ্নিত করার প্রশ্ন।
নমুনা প্রশ্ন (অনুশীলনের জন্য)
সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে?
পানিচক্রের বর্ণনা দাও।
সুষম খাদ্য কাকে বলে? সুষম খাদ্যের উপাদানগুলো লেখো।
বায়ু দূষণের কারণ ও প্রতিকার লেখো।
উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের নাম লেখো ও কাজ বর্ণনা করো।
বিদ্যুৎ কীভাবে উৎপন্ন হয়? একটি উদাহরণ দাও।
চুম্বকের ধর্মগুলো লেখো।
আমাদের দেহ সুস্থ রাখতে কী কী করা উচিত?
ভালো করার টিপস
বিজ্ঞান বুঝে পড়ার বিষয়। শুধু মুখস্থ করলে হবে না। প্রতিটি প্রক্রিয়া ছবি এঁকে বোঝার চেষ্টা করো। যেমন পানিচক্রের ছবি নিজে এঁকে দেখো। বইয়ের পরীক্ষাগুলো (experiment) নিজে করে দেখার চেষ্টা করো। যেমন — বীজ থেকে চারা গজানো, চুম্বক দিয়ে লোহা আকর্ষণ করা। হাতে-কলমে করলে মনে থাকে বেশি দিন।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি পরিকল্পনা
পরীক্ষার আর বেশি দিন নেই। ২০ ডিসেম্বর প্রথম পরীক্ষা। এখন থেকে গুছিয়ে পড়লে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। নিচে একটা সহজ পরিকল্পনা দেওয়া হলো। এটা একটা পরামর্শ মাত্র। নিজের সুবিধামতো বদলে নিতে পারো।
মনে রাখার সহজ কৌশল
অনেক কিছু পড়তে হয়। সব মনে রাখা কঠিন। তাই মনে রাখার কিছু সহজ কৌশল কাজে লাগাও। প্রথম কৌশল — নিজে নিজে বলা। একটা অধ্যায় পড়ার পর বই বন্ধ করে নিজেকে বলো কী কী শিখলে। যা বলতে পারবে না, সেটা আবার পড়ো। দ্বিতীয় কৌশল — খাতায় লেখা। তারিখ, নাম, সূত্র, সংজ্ঞা — এগুলো খাতায় লিখে লিখে শেখো। হাতে লিখলে মনে থাকে বেশি দিন। তৃতীয় কৌশল — বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করা। একজন আরেকজনকে প্রশ্ন করো, উত্তর দাও। এভাবে পড়লে পড়া আনন্দের হয়, আর মনেও থাকে। চতুর্থ কৌশল — ঘুমানোর আগে পড়া ঝালিয়ে নেওয়া। রাতে ঘুমানোর আগে দিনের পড়াটা একবার মনে মনে ঝালিয়ে নিলে সেটা দীর্ঘদিন মনে থাকে।
প্রতিদিনের পড়ার রুটিন
সকালে পড়া শুরু করো। সকালে মন ভালো থাকে, পড়া মনে থাকে বেশি। প্রতিদিন অন্তত ৪ ঘণ্টা পড়ো। এর মধ্যে বাংলা ১ ঘণ্টা, ইংরেজি ১ ঘণ্টা, গণিত ১ ঘণ্টা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় আর বিজ্ঞান মিলিয়ে ১ ঘণ্টা। একটানা পড়ো না। ৪৫ মিনিট পড়ে ১০ মিনিট বিশ্রাম নাও।
পরীক্ষার আগের সপ্তাহের পরিকল্পনা
পরীক্ষার আগের সাত দিন এভাবে সাজাতে পারো। প্রথম তিন দিন — প্রতিটি বিষয়ের কঠিন অধ্যায়গুলো আবার পড়ো। যেসব জায়গায় আটকে যাচ্ছিলে, সেগুলো শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞেস করে পরিষ্কার করে নাও। পরের দুই দিন — নমুনা প্রশ্নের উত্তর লেখার চর্চা করো। ঘড়ি ধরে সময় মেপে উত্তর লেখো। শেষ দুই দিন — শুধু পুনরালোচনা (revision)। নতুন কিছু শিখতে যেও না। আগে যা পড়েছ, সেটাই বারবার দেখো। সূত্র, তারিখ, সংজ্ঞার খাতাটা আবার পড়ে নাও।
যেসব ভুল করা যাবে না
অনেক শিক্ষার্থী একটা ভুল করে — এক বিষয়ে বেশি সময় দিয়ে অন্য বিষয় অবহেলা করে। মনে রাখবে, প্রতিটি বিষয়ে ৪০% নম্বর লাগবেই। তাই সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দাও। আরেকটা ভুল — পরীক্ষার আগের রাতে অনেক রাত জেগে পড়া। এতে পরীক্ষার হলে মাথা কাজ করে না। পরীক্ষার আগের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাও। সকালে তাড়াতাড়ি উঠে হালকা করে পড়া ঝালিয়ে নাও।
পরীক্ষার দিনের করণীয়
পরীক্ষার দিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু। তাই অন্তত আধা ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে যাও। সঙ্গে নাও — প্রবেশপত্র (যদি স্কুল থেকে দিয়ে থাকে), কলম (দুটি), পেনসিল, স্কেল, রাবার। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর প্রথমে পুরো প্রশ্নটা একবার পড়ে নাও। কোন প্রশ্নটা সহজ, সেটা আগে লেখো। কঠিন প্রশ্ন পরে লেখো।
উত্তর লেখার সময় হাতের লেখা পরিষ্কার রাখো। প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর ঠিকমতো দাও। গণিতের অঙ্কে ধাপগুলো লিখে লিখে করো। উত্তর লেখা শেষ হলে সময় থাকলে পুরো খাতাটা একবার মিলিয়ে দেখো। বানান ভুল আছে কি না, কোনো প্রশ্ন বাদ গেছে কি না — দেখে নাও। খাতা জমা দেওয়ার আগে নম্বর আর নাম ঠিক আছে কি না, দেখে নাও।
বিগত সালের প্রশ্ন কীভাবে কাজে লাগাবে
অনেকেই জানতে চায় — আগের বছরের প্রশ্ন পড়লে কি কাজে লাগবে? উত্তর হলো, হ্যাঁ, লাগবে। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে। আগের বছরের প্রশ্ন দেখে প্রশ্নের ধরন বোঝা যায়, কিন্তু একই প্রশ্ন আবার আসবে — এমন ভাবা ভুল।
বিগত সালের প্রশ্ন থেকে যা শেখা যায়, তা হলো — কোন অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, প্রশ্নগুলো কতটা বড় হয়, উত্তর কতটুকু লিখতে হয়, সময় কীভাবে ভাগ করতে হয়। এগুলো জানা থাকলে পরীক্ষার হলে নতুন প্রশ্ন দেখেও ভয় লাগে না।
একটা কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে যে পরীক্ষা হয়েছিল, সেটা ছিল স্থগিত হওয়া ২০২৫ সালের পরীক্ষা। ওই পরীক্ষার প্রশ্ন দেখলে ২০২৫ সালের সিলেবাসের ধারণা পাওয়া যাবে। কিন্তু ডিসেম্বর ২০২৬-এর পরীক্ষা আলাদা চক্রের। তাই আগের প্রশ্ন দেখে ধরন বোঝো, কিন্তু সেটাকেই একমাত্র ভরসা মনে কোরো না। মূল ভরসা সবসময় পাঠ্যবই।
আগের প্রশ্ন চর্চা করার নিয়ম — প্রথমে নিজে উত্তর লেখার চেষ্টা করো। তারপর বই দেখে মিলিয়ে নাও। যেসব প্রশ্নে আটকে গেলে, সেগুলো শিক্ষককে জিজ্ঞেস করো। এভাবে চর্চা করলে প্রশ্নের ধরন মুখস্থ হয়ে যাবে। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখে মনে হবে — এই ধরনের প্রশ্ন তো আগেও করেছি।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ
এই পোস্টটা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, অভিভাবকদের জন্যও। কারণ পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে বাবা-মায়ের ভূমিকা অনেক বড়।
প্রথমত, সন্তানকে চাপ দেবেন না। বৃত্তি পাওয়া ভালো, কিন্তু বৃত্তি না পেলেই যে সব শেষ — এমন নয়। চাপ দিলে শিশুর পড়ায় মন বসে না, উল্টো ভয় তৈরি হয়। বরং নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করুন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসানো, পড়ার সময় পাশে থাকা, না বুঝলে বুঝিয়ে দেওয়া — এগুলোই আসল সাহায্য।
দ্বিতীয়ত, সন্তানের দুর্বল বিষয়টা চিহ্নিত করুন। যে বিষয়ে নম্বর কম আসছে, সেটাতে একটু বেশি সময় দিন। প্রয়োজনে স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন। মনে রাখবেন, একটি বিষয়ে ৪০-এর নিচে পেলে বৃত্তি হবে না। তাই দুর্বল বিষয়টাকে অবহেলা করা যাবে না।
তৃতীয়ত, পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে সন্তানের খাওয়া আর ঘুমের দিকে খেয়াল রাখুন। রাত জেগে পড়তে দেবেন না। পরীক্ষার দিন সকালে হালকা খাবার খাইয়ে, সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছে দিন। পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে সন্তানকে সাহস দিন। বলুন — তুমি ভালো করবে। এই একটা কথাই অনেক বড় ভরসা দেয়।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন ২০২৬ — সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে হবে?
পরীক্ষা হবে ২০–২৩ ডিসেম্বর ২০২৬। ২০ ডিসেম্বর বাংলা, ২১ ডিসেম্বর ইংরেজি, ২২ ডিসেম্বর গণিত, ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও বিজ্ঞান। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট কত নম্বর?
মোট ৪০০ নম্বর। প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বর। ২৩ ডিসেম্বরের যৌথ পত্রে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০ আর বিজ্ঞান ৫০ — মোট ১০০।
বৃত্তি পেতে প্রতিটি বিষয়ে কত নম্বর লাগবে?
প্রতিটি বিষয়ে কমপক্ষে ৪০% নম্বর, অর্থাৎ ৪০ নম্বর পেতে হবে। কোনো একটি বিষয়ে ৪০-এর নিচে পেলে মোট নম্বর যতই বেশি হোক, বৃত্তির জন্য বিবেচনা করা হবে না।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সিলেবাস কী? আলাদা কোনো বই কিনতে হবে কি?
আলাদা কোনো সিলেবাস বা বই নেই। পঞ্চম শ্রেণির এনসিটিবি পাঠ্যবই-ই সিলেবাস। স্কুলের বইগুলো ভালো করে পড়লেই প্রস্তুতি শেষ হবে। এই পোস্টে দেওয়া সাজেশন সেই বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ সিলেবাস ও মানবন্টন pdf কোথায় পাবো?
ডিপিই থেকে সিলেবাস ও মানবন্টনের কোনো আলাদা পিডিএফ প্রকাশ করা হয়নি। এই পোস্টেই পুরো মানবন্টন (প্রতি বিষয়ে ১০০ নম্বর, ৪০% নিয়ম) আর বিষয়ভিত্তিক সাজেশন দেওয়া আছে। আলাদা পিডিএফ খোঁজার দরকার নেই।
২৩ ডিসেম্বরের পরীক্ষা কীভাবে হবে?
ওইদিন দুটি বিষয় একসঙ্গে একটাই প্রশ্নপত্রে হবে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০ নম্বর আর প্রাথমিক বিজ্ঞান ৫০ নম্বর — মোট ১০০। মাঝখানে কোনো বিরতি থাকবে না। একটানা আড়াই ঘণ্টায় দুটি বিষয়ের উত্তর লিখতে হবে।
কারা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে?
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। শ্রেণির সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থীকে চতুর্থ শ্রেণির মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্কুল বাছাই করে। আলাদা করে আবেদন করতে হয় না। স্কুলই নাম পাঠায়।
বৃত্তির টাকা কত?
মেধাবৃত্তিতে (ট্যালেন্টপুল) মাসে ৩০০ টাকা আর সাধারণ বৃত্তিতে মাসে ২২৫ টাকা। এই টাকা তিন বছর ধরে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে বছরে একবার এককালীন কিছু টাকাও দেওয়া হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সরকারি বা স্বীকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনা ফিতে ভর্তি হতে পারে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৬ কবে দেবে?
রেজাল্টের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আগের চক্রের হিসাব অনুযায়ী পরীক্ষার দুই-তিন মাস পর রেজাল্ট আসে। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি–মার্চ মাসে আসতে পারে। রেজাল্ট ঘোষণা হলে আমরা আলাদা পোস্টে জানিয়ে দেবো।
এপ্রিল ২০২৬-এর পরীক্ষা আর ডিসেম্বর ২০২৬-এর পরীক্ষা কি এক?
না, এক নয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে (১৫–১৮ এপ্রিল) যে পরীক্ষা হয়েছিল, সেটা ছিল স্থগিত হওয়া ২০২৫ সালের পরীক্ষা। তার রেজাল্টও জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে। আর ডিসেম্বর ২০২৬-এর পরীক্ষা সম্পূর্ণ আলাদা চক্রের পরীক্ষা। দুটোকে গুলিয়ে ফেলো না।
শেষ কথা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর সাজেশন এই পোস্টে যতটা সম্ভব গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মনে রাখবে, সাজেশন মানে শুধু কিছু বিষয় বাছাই করে পড়া নয়। সাজেশন মানে — কী পড়তে হবে, কতটুকু পড়তে হবে, আর কীভাবে পড়তে হবে, সেটা জানা। পাঠ্যবইয়ের বাইরে কিছু পড়ার দরকার নেই। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় বুঝে বুঝে পড়ো। নমুনা প্রশ্নগুলো নিজে নিজে লেখার চর্চা করো। প্রতিটি বিষয়ে ৪০% নম্বরের লক্ষ্য মাথায় রাখো।
পরীক্ষার রুটিন আর যোগ্যতা সম্পর্কে আরও জানতে আমাদের আগের দুটি পোস্ট দেখে নিতে পারো — প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন ২০২৬ আর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ — যোগ্যতা, নম্বর, সিলেবাস ও বৃত্তির টাকা।
সব শিক্ষার্থীর জন্য শুভকামনা রইল। ভালো করে পড়ো, ভালো পরীক্ষা দাও, বৃত্তি পাও।
১৮
২৯ মন্তব্য