Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:০৬ অপরাহ্ণ

সৃজনশীল বই পাঠ্যবইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়- পংকজ কান্তি গোপ

সৃজনশীল বই পাঠ্যবইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়- পংকজ কান্তি গোপ

অনেক অভিভাবকের ধারণা, পাঠ্যবইয়ের বাইরে সৃজনশীল বই পড়লে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে। তাঁদের আশঙ্কা-গল্প, উপন্যাস, জীবনী কিংবা অন্যান্য সৃজনশীল বই পড়তে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের প্রতি মনোযোগ হারাবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। বরং সঠিকভাবে ও পরিকল্পিতভাবে সৃজনশীল বই পড়লে তা পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

পাঠ্যবই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি। নির্ধারিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য পাঠ্যবই অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে পড়তে হবে। কিন্তু শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে শিক্ষার্থীর জ্ঞান অনেক সময় নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই আবদ্ধ থাকে। সৃজনশীল বই সেই সীমানাকে প্রসারিত করে। একটি বিষয় পাঠ্যবইয়ে যতটুকু জানা যায়, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, জীবনী, ইতিহাস বা বিজ্ঞানবিষয়ক বই পড়ার মাধ্যমে সেই বিষয়কে আরও গভীরভাবে বোঝা সম্ভব।

সৃজনশীল বই শিক্ষার্থীর কল্পনাশক্তি, ভাষাজ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত ভালো বই পড়লে শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়, লেখার দক্ষতা বাড়ে এবং নিজের বক্তব্য সুন্দরভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা তৈরি হয়। ফলে এর সুফল শুধু পরীক্ষার খাতায় নয়, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনের ক্ষেত্রেও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন ও নানা ধরনের ডিজিটাল বিনোদনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। অবসর পেলেই বই হাতে নেওয়ার পরিবর্তে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলের পর্দায় ব্যস্ত থাকে। এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। তবে এর জন্য মোবাইলকে একদিনে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে সময় ব্যবস্থাপনা শেখানো বেশি কার্যকর।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের জন্য একটি সহজ রুটিন তৈরি করতে পারে। যেমন—প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পাঠ্যবই পড়ার পাশাপাশি ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা সৃজনশীল বই পড়া। কেউ চাইলে সপ্তাহের ছুটির দিনে আরও কিছুটা সময় বই পড়ার জন্য নির্ধারণ করতে পারে। পরীক্ষার সময় পাঠ্যবই ও পরীক্ষার প্রস্তুতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অন্য সময়ে সৃজনশীল বই পড়ার সময় বাড়ানো যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা যদি সৃজনশীল বই পড়াকে সময়ের অপচয় না ভেবে শিক্ষারই একটি অংশ হিসেবে দেখেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা বই পড়ার প্রতি আরও আগ্রহী হবে।

মনে রাখতে হবে, পাঠ্যবই শিক্ষার ভিত্তি, আর সৃজনশীল বই সেই শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত করে। তাই একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি নয়; বরং দুটিকে সমন্বয় করেই গড়ে উঠতে পারে জ্ঞানী, চিন্তাশীল ও সৃজনশীল প্রজন্ম।

 

লেখক: পংকজ কান্তি গোপ, সিনিয়র শিক্ষক

পুটিজুরী শরৎ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, বাহুবল, হবিগঞ্জ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ