সহকারী শিক্ষক
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
মহাবিশ্ব বা Universe হলো
মহাবিশ্ব বা Universe হলো এমন এক বিশাল ও অনন্ত ক্যানভাস, যেখানে স্থান (Space), সময় (Time), পদার্থ এবং শক্তির সব রূপ একসাথে বিদ্যমান। মহাবিশ্বের কয়েকটি চমৎকার ও মৌলিক রহস্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মহাবিশ্বের জন্ম ও বয়স: আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন (১,৩৮০ কোটি) বছর আগে একটি মহাবিস্ফোরণ বা 'বিগ ব্যাং' (Big Bang)-এর মাধ্যমে স্থান ও সময়ের সূচনা হয়। বিগ ব্যাং-এর শুরুতে পুরো মহাবিশ্ব একটি অতি ক্ষুদ্র, অকল্পনীয় ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দুতে সীমাবদ্ধ ছিল।
২. অবিরাম সম্প্রসারণ: মহাবিশ্ব স্থির নয়; এটি চারদিকে ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, এটি কেবল প্রসারিতই হচ্ছে না, বরং সময়ের সাথে সাথে এর প্রসারণের গতিও বাড়ছে (Accelerating Expansion)। দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো ক্রমশ একে অপরের কাছ থেকে দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে।
৩. যা দেখি, তা মাত্র ৫%! আমরা রাতের আকাশে যা কিছু দেখি—গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যাস, ধূলিকণা এবং কোটি কোটি গ্যালাক্সি—তা পুরো মহাবিশ্বের মোট উপাদানের মাত্র প্রায় ৫%! বাকি ৯৫% আমাদের চোখের আড়ালে:
ডার্ক ম্যাটার (Dark Matter - প্রায় ২৭%): এটি এক অদৃশ্য পদার্থ যা কোনো আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলিত করে না। তবে এর মহাকর্ষীয় টানের কারণেই গ্যালাক্সিগুলো একসাথে টিকে আছে।
ডার্ক এনার্জি (Dark Energy - প্রায় ৬৮%): এটি এক রহস্যময় শক্তি, যা স্থানকে ঠেলে প্রসারিত করছে এবং মহাবিশ্ব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী।
৪. মহাজাগতিক কসমিক ওয়েব (Cosmic Web): কোটি কোটি গ্যালাক্সি মহাকাশে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে নেই। এগুলো মাকড়সার জালের মতো সুদীর্ঘ সুতা বা ফিলামেন্ট তৈরি করে সাজানো রয়েছে, যাকে বলা হয় কসমিক ওয়েব। যেখানে একাধিক ফিলামেন্ট মিলিত হয়েছে, সেখানে গ্যালাক্সির বিশাল ঝাঁক বা ক্লাস্টার গড়ে উঠেছে।
৫. সময়ের ভ্রমণ (Lookback Time): আলোর গতি নির্দিষ্ট (প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার)। তাই যখন আমরা দূরবর্তী কোনো তারা বা গ্যালাক্সির দিকে তাকাই, তখন আমরা আসলে অতীতকে দেখি। যেমন—সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় নেয় প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। অর্থাৎ আমরা এখন যে সূর্যকে দেখছি, তা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগের সূর্য! জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দিয়ে বিজ্ঞানীরা ১৩০০ কোটি বছর আগের গ্যালাক্সির ছবি দেখছেন।
০
০ মন্তব্য