সহকারী শিক্ষক
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
ব্ল্যাক হোল (Black Hole) বা কৃষ্ণগহ্বর হলো মহাকাশের এমন একটি স্থান বা অঞ্চল
ব্ল্যাক হোল (Black Hole) বা কৃষ্ণগহ্বর হলো মহাকাশের এমন একটি স্থান বা অঞ্চল, যার মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল এতটাই তীব্র যে আলোসহ কোনো কিছুই এর ভেতর থেকে বাইরে পালিয়ে আসতে পারে না।
সহজ ও স্পষ্ট পয়েন্টে ব্ল্যাক হোলের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সৃষ্টির রহস্য: বিশাল ভরের কোনো নক্ষত্র যখন তার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যায়, তখন তার কেন্দ্রের পদার্থগুলো প্রচণ্ড চাপে অতি ক্ষুদ্র এক বিন্দুতে সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্টি হয় নাক্ষত্রিক ব্ল্যাক হোল।
সীমাহীন ঘনত্ব: ব্ল্যাক হোলের কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ ভর অত্যন্ত ক্ষুদ্র স্থানে পুঞ্জীভূত থাকে। এই কেন্দ্রবিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি (Singularity), যেখানে পদার্থের ঘনত্ব প্রায় অসীম।
ইভেন্ট হরাইজন (ঘটনা দিগন্ত): ব্ল্যাক হোলের চারপাশের অদৃশ্য সীমানাকে বলা হয় ইভেন্ট হরাইজন। এটি হলো এমন একটি সীমারেখা, যা অতিক্রম করলে কোনো বস্তু বা আলোর পক্ষে আর কখনো ফিরে আসা সম্ভব নয়।
অদৃশ্য রূপ: যেহেতু কোনো আলো ব্ল্যাক হোল থেকে বের হতে পারে না, তাই একে সরাসরি চোখে বা সাধারণ অপটিক্যাল টেলিস্কোপে দেখা যায় না। তবে এর তীব্র মহাকর্ষের কারণে চারপাশের গ্যাস, ধূলিকণা ও আলোর বিকৃতি (যেমন উজ্জ্বল অ্যাক্রিশন ডিস্ক) এবং নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা এর অবস্থান ও আকার নির্ণয় করেন।
আকার ও প্রকারভেদ: ব্ল্যাক হোল মূলত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে—যেমন নাক্ষত্রিক ব্ল্যাক হোল (Stellar Black Hole) এবং গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা অতিভারী ব্ল্যাক হোল (Supermassive Black Hole), যার ভর সূর্যের চেয়ে লক্ষ থেকে কোটি গুণ বেশি হতে পারে।
০
০ মন্তব্য