Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

এলপি গ্যাসের দাম নভেম্বর ২০২৬: ১২ কেজি সিলিন্ডার ২০৬০ টাকা | LPG Price Bangladesh November 2026

সর্বশেষ আপডেট (৩ নভেম্বর ২০২৬): বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২,০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ওই রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে। নিচে সব সাইজের সিলিন্ডারের পূর্ণ তালিকা, আগের মাসের তুলনা এবং দাম বাড়ার কারণ বিস্তারিত দেওয়া হলো।

নভেম্বর ২০২৬: সব সাইজের এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম

বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হারে বিভিন্ন সাইজের সিলিন্ডারের দাম নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:


সিলিন্ডারের সাইজ

অক্টোবরের দাম

নভেম্বরের নতুন দাম

বাড়লো

৫.৫ কেজি

৮৪২ টাকা

৯৪৪ টাকা

১০২ টাকা

১২ কেজি

১,৮৩৭ টাকা

২,০৬০ টাকা

২২৩ টাকা

১২.৫ কেজি

১,৯১৩ টাকা

২,০৪৬ টাকা

১৩৩ টাকা

১৫ কেজি

২,২৯৬ টাকা

২,৫৭৫ টাকা

২৭৯ টাকা

১৬ কেজি

২,৪৪৯ টাকা

২,৭৮৭ টাকা

৩৩৮ টাকা

১৮ কেজি

২,৭৫৫ টাকা

৩,০৯০ টাকা

৩৩৫ টাকা

২০ কেজি

৩,০৬১ টাকা

৩,৪৩৪ টাকা

৩৭৩ টাকা

২২ কেজি

৩,৩৬৭ টাকা

৩,৭৭৭ টাকা

৪১০ টাকা

২৫ কেজি

৩,৮২৭ টাকা

৪,২৯২ টাকা

৪৬৫ টাকা

৩০ কেজি

৪,৫৯২ টাকা

৫,১৫০ টাকা

৫৫৮ টাকা

৩৩ কেজি

৫,০৫১ টাকা

৫,৬৬৫ টাকা

৬১৪ টাকা

৩৫ কেজি

৫,৩৫৭ টাকা

৬,০০৯ টাকা

৬৫২ টাকা

৪৫ কেজি

৬,৮৮৮ টাকা

৭,৭২৬ টাকা

৮৩৮ টাকা


বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির সিলিন্ডার। এই সাইজের দাম এক মাসে ২২৩ টাকা বেড়ে এখন ২,০৬০ টাকা।

গত তিন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দামের ওঠানামা

এলপিজির দাম প্রতি মাসে সমন্বয় করা হয়। গত তিন মাসের চিত্র দেখলে বোঝা যায় দাম কত দ্রুত বাড়ছে:


মাস

প্রতি কেজি দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার

পরিবর্তন

সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩২.০৮ টাকা

১,৫৮৫ টাকা

১৩ টাকা কমেছিল

অক্টোবর ২০২৬

১৫৩.০৬ টাকা

১,৮৩৭ টাকা

২৫২ টাকা বেড়েছিল

নভেম্বর ২০২৬

১৭১.৬৮ টাকা

২,০৬০ টাকা

২২৩ টাকা বেড়েছে


মাত্র দুই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। সেপ্টেম্বরে যেখানে ১,৫৮৫ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যেত, নভেম্বরে সেটাই ২,০৬০ টাকা।

কেন বাড়লো এলপি গ্যাসের দাম

বিইআরসি দাম বাড়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ উল্লেখ করেছে:


১. আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি: বাংলাদেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ হয় সৌদি আরামকোর ঘোষিত চুক্তিমূল্যের (সৌদি সিপি) ভিত্তিতে। নভেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের দাম প্রতি মেট্রিক টন ৭২০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৭৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশ্রণের ভিত্তিতে গড় দাম দাঁড়িয়েছে আগের মাসের তুলনায় বেশি। অক্টোবরে এই গড় দাম ছিল প্রতি টন ৭১২.৫০ ডলার।


২. আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধি: ২৯ অক্টোবর বিইআরসি এলপিজির দাম নিয়ে গণশুনানি করে। সেখানে আমদানিকারক ও বিক্রেতারা বেশি কমিশনের দাবি জানায়। শুনানির পর কমিশন মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১.৭৬ টাকা, ডিলার চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করে।


উল্লেখ্য, গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৮৩৭ টাকা থেকে ১,৯৭৬ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ঘোষণায় দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,০৬০ টাকা।

অটোগ্যাসের নতুন দাম

যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি অর্থাৎ অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৩৩ পয়সা বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে অটোগ্যাসের দাম ছিল প্রতি লিটার ৭৩.০৯ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে অটোগ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ১৯ টাকা।


যারা গাড়িতে অটোগ্যাস ব্যবহার করেন, তাদের জ্বালানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পেট্রোল-অকটেনের তুলনায় অটোগ্যাস এখনো সাশ্রয়ী হলেও ব্যবধান কমে আসছে।

সরকারি এলপিজির দাম: এক লাফে দ্বিগুণের বেশি

এবারের ঘোষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় সরকারি এলপিজির দাম। রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস পিএলসি সরবরাহকৃত ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৮৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একবারে বেড়েছে ১,০৮৩ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি।


দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ২৯ অক্টোবরের গণশুনানিতে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দামের বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন বেসরকারি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮৩৭ টাকায় বিক্রি হলেও সরকারি ১২.৫ কেজির দাম ছিল মাত্র ৭৭৭ টাকা। এই ব্যবধান কমাতেই সরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, দেশের মোট এলপিজি বাজারের ১ শতাংশেরও কম সরকারি উৎস থেকে আসে।

পাইপলাইনে সরবরাহকৃত এলপিজির দাম

বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে পাইপলাইনের মাধ্যমে (রেটিকুলেটেড পদ্ধতি) যারা এলপিজি পান, তাদের দামও বেড়েছে:


  • তরল অবস্থায় প্রতি কেজির দাম: ১৪৯.৩১ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫.৮৫ টাকা

  • গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি লিটারের দাম: ০.৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ০.৩৭ টাকা

  • প্রতি ঘনমিটারের দাম: ৩৩১.৯০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬৮.৫০ টাকা

বাজারের বাস্তব চিত্র: সরকারি দামে গ্যাস মিলছে না

সরকারি ঘোষণা এক回事, বাজারের বাস্তবতা আরেক回事। গত দেড় মাস ধরে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অক্টোবরে সরকারি দাম ১,৮৩৭ টাকা থাকলেও রাজধানী ঢাকাতেই ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকায়। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের।


সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। সরবরাহ সংকটের সময় কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। জুলাই মাসে কক্সবাজারের কাছে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির পর পাইপলাইন গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, ফলে হাজার হাজার পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বোতলজাত এলপিজির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে চাহিদা বেড়ে সংকট আরও তীব্র হয়।


সরকার সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দাম নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ভোক্তাদের জন্য পরামর্শ

১. সরকারি দামের তালিকা জেনে রাখুন: সিলিন্ডার কেনার আগে বিইআরসির নির্ধারিত দাম জেনে নিন। বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম চাইলে দর কষাকষি করুন।


২. রসিদ নিন: সিলিন্ডার কেনার সময় অবশ্যই ক্যাশ মেমো বা রসিদ নিন। এতে দামের প্রমাণ থাকবে।


৩. অভিযোগ জানান: নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নিলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে ফোন করে জানান।


৪. সিলিন্ডারের ওজন যাচাই করুন: অনেক সময় সিলিন্ডারে গ্যাস কম দিয়ে বেশি দাম নেওয়া হয়। কেনার সময় ওজন মেপে নেওয়ার চেষ্টা করুন।


৫. নিরাপত্তা মেনে চলুন: সিলিন্ডার সবসময় খাড়া অবস্থায়, আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত সিলিন্ডার ব্যবহার করবেন না।

বিইআরসি কী এবং কীভাবে দাম নির্ধারণ করে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ শুরু করে। তারপর থেকে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারদর, সৌদি আরামকোর চুক্তিমূল্য, আমদানি খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং ডলারের বিনিময় হারের ভিত্তিতে দাম সমন্বয় করা হয়।


দাম নির্ধারণের আগে সাধারণত গণশুনানি হয়, যেখানে আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর, খুচরা বিক্রেতা এবং ভোক্তা প্রতিনিধিরা মতামত দেন। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সব পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সুপারিশ তৈরি করে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: নভেম্বর ২০২৬-এ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কত?

উত্তর: বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২,০৬০ টাকা। ২ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।


প্রশ্ন: এলপি গ্যাসের দাম কেন বাড়লো?

উত্তর: দুটি মূল কারণ — আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর প্রোপেন-বিউটেনের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানো।


প্রশ্ন: অটোগ্যাসের নতুন দাম কত?

উত্তর: প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা। আগে ছিল ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।


প্রশ্ন: সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কত?

উত্তর: এলপি গ্যাস পিএলসির ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম এখন ১,৮৬০ টাকা। আগে ছিল ৭৭৭ টাকা।


প্রশ্ন: বাজারে কি সরকারি দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে?

উত্তর: গত দেড় মাস ধরে বাজারে সরকারি দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


প্রশ্ন: এলপিজির দাম কে নির্ধারণ করে?

উত্তর: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে তারা প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করে আসছে।


প্রশ্ন: পরের মাসে দাম কবে ঘোষণা হবে?

উত্তর: বিইআরসি সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন দাম ঘোষণা করে। ডিসেম্বরের দাম ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জানা যাবে।


প্রশ্ন: সিলিন্ডারে গ্যাস কম দিলে বা বেশি দাম নিলে কোথায় অভিযোগ করবো?

উত্তর: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন। এছাড়া বিইআরসির কাছেও অভিযোগ জানানো যায়।


প্রশ্ন: ৫.৫ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম কত?

উত্তর: ৯৪৪ টাকা। আগে ছিল ৮৪২ টাকা।


প্রশ্ন: পাইপলাইনে এলপিজি পাই তাদের দাম কত বেড়েছে?

উত্তর: তরল অবস্থায় প্রতি কেজি ১৬৫.৮৫ টাকা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি ঘনমিটার ৩৬৮.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


মন্তব্য করুন

ব্লগ