সহকারী শিক্ষক
০২ জুলাই, ২০২১ ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। সহায়তা প্রদানে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে ৮ কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৫ টাকা মঞ্জুর করেছে সরকার। নন-এমপিও ১৮ হাজার ২৪৭ জন শিক্ষক এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। শিক্ষকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে (নগদ/বিকাশ/রকেট) নির্ধারিত আর্থিক সহায়তার অর্থ পাঠিয়ে দেয়া হবে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার বরাবর পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নন-এমপিও এসব শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারণ এমপিওভুক্ত (যারা মাসিক সরকারি টাকা পেয়ে থাকেন) শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেলেও এসব নন-এমপিওরা কোনো ধরনের সহায়তা সরকারের কাছ থেকে পান না। তাদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে আবারো আর্থিক অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ দিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নন-এমপিও ১৪ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষকের নিজস্ব মোবাইল অ্যাকাউন্টে জনপ্রতি ৫ হাজার ৩০ টাকা হারে মোট ৭ কোটি ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪০ টাকা, নন-এমপিও ৩ হাজার ১২১ জন কর্মচারীর মোবাইল অ্যাকাউন্টে জনপ্রতি ২ হাজার ৫১৫ টাকা হারে মোট ৭৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা, নন-এমপিও ১৫৮ জন কারিগরি শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে জনপ্রতি ৫ হাজার ৩০ টাকা হারে মোট ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪০ টাকা এবং নন-এমপিও ১১০ জন কারিগরি কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে জনপ্রতি ২ হাজার ৫১৫ টাকা হারে মোট ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫০ টাকা প্রদান করা হবে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অর্থ বিভাগের আওতাধীন ‘মুজিব শতবর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান’ শীর্ষক কোডের আওতায় ‘বিশেষ অনুদান’ খাতে বরাদ্দকৃত ৭৫৮ কোটি টাকা থেকে দশম ধাপে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ হাজার ২৪৭ জন নন-এমপিও শিক্ষকের জন্য মোট ৮ কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৫ টাকা পাঠানোর জন্য সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক সূত্র জানায়, গত বছরও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। সেবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। এবার আর ত্রাণ তহবিল থেকে নয়, সরাসরি অর্থ বিভাগের বাজেট থেকে এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তবে উপকারভোগী প্রাপকদের সংখ্যা আরো কিছু বাড়তে পারে। তিনি বলেন, গতবারের তালিকা ধরেই এই সহায়তা দেয়া হবে। তবে এবার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি শিক্ষক ও কর্মচারীদের মোবাইল নাম্বারে দিয়ে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে তা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তিন ক্যাটাগরিতে দেয়া হচ্ছে অনুদান
এ দিকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব খাত থেকে ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুদানের ৬ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। অনুদান পাওয়ার মধ্যে রয়েছে ১২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০০ জন শিক্ষক-কর্মচারী, ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর ১৮৩৮ জন শিক্ষার্থী, ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণীর ১৩১২ জন শিক্ষার্থী, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ৯৩৩ জন এবং স্নাতক থেকে তার উপরের শ্রেণীর ৮৪০ জন শিক্ষার্থী। গত বুধবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই অনুদানের টাকা মঞ্জুর করা হয়। সেই সঙ্গে এসব টাকা বিতরণ করার আদেশও জারি করা হয়। বরাদ্দ করা টাকা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হবে। এ দিকে বেশ কিছু শর্তে এই টাকা পাবেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া তিন ক্যাটাগরিতে দেয়া হবে অনুদানের অর্থ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রী এ তিন ক্যাটাগরিতে অনুদান দেয়া হবে। সরকারি এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা, দৈবদুর্ঘটনা এবং চিকিৎসার খরচের জন্য বিশেষ মঞ্জুরির অনুদান প্রাপ্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হচ্ছে এই অনুদান। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, অসহায়, অসচ্ছল ও মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পেয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাব তৈরি, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, পাঠাগার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীবান্ধব করতে বিশেষ মঞ্জুরির অনুদানের আবেদন করে। তবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার অসচ্ছল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পেয়েছে।