সহকারী শিক্ষক
০৫ জুলাই, ২০২১ ০১:২৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ রসায়ন
অধ্যায়ঃ নবম অধ্যায়
যেখানে উত্তাল স্রোতে দিশাহারা মত্ত এ নাবিক
সমুদ্রের ঘন বনে নাহি খুঁজে পায় তার দিক
শুধু দেখে বহু দূরে জোনাকির উজ্জ্বল প্রদীপ
জ্বলিয়া মাটির মেয়ে মরীচিকা তালে পরে টীপ,
যার লাগি প্রতি রগে জেগে উঠে টান
মৃত্তিকা সে নাবিকের প্রাণ।’
কবি ফররুখ আহমদ কথাগুলো তার গ্রন্থ ‘হে বন্য স্বপ্নেরা’ সমগ্র শিরোনামে লিখেছেন। বইটি প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৯৭৬ সালে। ফররুখ আহমদ কেন্দ্রীয় স্মৃতি সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত। প্রকাশক ছিলেন বিখ্যাত সচিব, সাহিত্যিক মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
কবি ফররুখ আহমদকে আমরা জানি একজন মুসলিম রেনেসার কবি হিসাবে। ১৯৭৪ সালে যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, তখন একবার কবিকে- দেখার জন্য তার সরকারি বাসভবন ইস্কাটনে গিয়েছিলাম। বাসায় গিয়ে কবিকে নিজ চোখে দেখে এসেছিলাম।
তখন তেমন বেশী কিছু কবি সম্পর্কে আমি জানতাম না। বন্ধুদের মুখে কবির সুবর্ণনা শোনে কবিকে দেখার ইচ্ছা হয়। তখন সবে মাত্র এইচএসসি পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েছি। অবশ্য স্কুল জীবনে আমার কবিতা লেখার বেশ ঝোক ছিল। কবিতা ও লিখে ছিলাম।
চট্টগ্রামের আজাদী পত্রিকায় আমার বেশ কয়েকটি কবিতা ছাপা হয়। তবে প্রবন্ধ লিখে আমি স্কুল জীবনে বেশ পুরস্কৃত হয়েছি। একবার যখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার পক্ষ থেকে “সন্দ্বীপ উন্নয়ন সমস্যা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগীতায় একমাত্র প্রথম পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলাম।
১৯৬৯ সালের কথা। নগদ পুরষ্কার পেয়েছিলাম। আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল খায়ের স্যার এই আনন্দে স্কুল ছুটি ঘোষণা করেন। সে কি আনন্দ। স্কুল জুড়ে আমার প্রশংসা। যাক সেই কথা। আজ আমাদের প্রিয় কবি ফররুখকে নিয়ে ভাবনা।
কবি ফররুখ আহমদ এর জীবনের কর্মময় সময়কে আমরা দুটো ভাগে ভাগ করতে পারি। কবির সৃষ্টি কাব্য সাত সাগরের মাঝ, সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতেম প্রভৃতি কয়েকটি কাব্য প্রকাশের পূর্বেকার কর্মময় জীবন। আর দ্বিতীয় অধ্যায় হচ্ছে উল্লিখিত কাব্যগ্রন্থ রচনা থেকে পরবর্তী তার সাহিত্য চর্চা জীবন।
কবি ফররুখ আহমদ ১০ই জুন ১৯১৮ সালে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার মৃত্যু হয়েছিল ১৯শে অক্টোবর ১৯৭৪ সাল। বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক কবি ফররুখ আহমদ। যদিও তাকে অনেকে মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসাবে বলে থাকেন।
কবি ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ভাষার উপর তার কবিতা আজও পাঠকে মোহিত করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি কবির অকুন্ঠ সমর্থন জাতিকে উদীপ্ত করে।
বাংলা ভাষার উপর কবিতায় কবি বলেন, কবি ফররুখ আহমদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে
বিশিষ্ট সাহিত্যিক লেখক গবেষক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী কবির লেখা “হে বন্য
স্বপ্নেরা” কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় বলেন, “যে সব কারণে কোন কবির প্রাথমিক
রচনা সঞ্চায়নযোগ্য বলে গণ্য হয় তার সবগুলিই এই কাব্যে বর্তমান।