Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৬ জুলাই, ২০২১ ১১:১৮ অপরাহ্ণ

আফ্রিকার মাগরেবে তুর্কি প্রভাব

র আফ্রিকার ‘মাগরেব’ বা পশ্চিম অঞ্চলকে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও মৌরিতানিয়া। অস্থিরতার নানা বাঁক পেরিয়ে এসব দেশে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স, ইতালি বা স্পেনের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসছে। আর প্রভাব বাড়ছে তুরস্ক, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশের। একসময় তুর্কি উসমানীয় খেলাফতের অধীনে থাকা এসব দেশের সাথে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান প্রশাসন গঠনমূলক অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে এগিয়ে নিচ্ছেন।

এ নিয়ে মাঝে মধ্যে উত্তাপ সৃষ্টির চেষ্টাও লক্ষ করা যায়। আলজেরিয়ার কিছু সংবাদমাধ্যম একটি আলজেরীয় ইসলামপন্থী দলকে তুরস্ক সমর্থন দিয়েছে বলে উল্লেখ করে এ নিয়ে আলজেরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে। দলটি ইসলামপন্থী ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্টের সাবেক সদস্যদের নিয়ে গঠিত। তুর্কি দূতাবাস একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলে, এসব একেবারে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিথ্যা গুজব। আলজেরীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। আলজিয়ার্স ও আঙ্কারা উভয়েরই অনানুষ্ঠানিক ক‚টনৈতিক সূত্র এ জাতীয় প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করে।

সত্য যাই হোক না কেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সঙ্ঘাতের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দেড় দশক ধরে তুরস্ক সাধারণভাবে উত্তর আফ্রিকা এবং বিশেষত আলজেরিয়াতে সম্পর্ক বিনির্মাণে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাব-সাহারান আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরের চৌমাথায় অবস্থিত মাগরেব দেশগুলো এখন তুরস্কের প্রভাবের অঞ্চল হয়ে উঠছে। তুরস্ক আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তর ভূমিকার জন্য তার অর্থনৈতিক শক্তি এবং সামরিক লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

অর্থনৈতিক কর্মসূচির কথা যখন আসে তখন তুরস্ক মাগরেবকে আফ্রিকার নতুন বাজারে প্রবেশের পয়েন্ট হিসাবে দেখে আর ‘সাহেল’ দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য শুরু করে। সার্বিকভাবেই আফ্রিকাতে তুরস্কের বিনিয়োগ ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে আফ্রিকার সাথে তুরস্কের বাণিজ্যের অঙ্ক অনুমান করা হয় ২৫.৩ বিলিয়ন ডলার। তুরস্ক-আফ্রিকা অর্থনৈতিক ও ব্যবসায় ফোরাম বাণিজ্যকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে গেছে। দেড় দশকেরও বেশি সময়ের উন্নত অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরে তুর্কি পণ্যগুলো মাগরেব দেশগুলোতে বাণিজ্য সফল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৫ সালে তুরস্ক তিউনিসিয়ার সাথে একটি অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং এক বছর পরে মরক্কোর সাথে বাণিজ্যচুক্তি আর আলজেরিয়ার সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

তিনটি দেশের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি হয়েছে আলজেরিয়ার সাথে। মিসরের পরে, তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম আফ্রো-বাণিজ্য অংশীদার এখন আলজেরিয়া। দু’দেশের মধ্যে ২০২০ সালে ৪.২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিনিময় হয়েছে। উভয় পক্ষই ২০২১ সালে মিসরকে ছাড়িয়ে বাণিজ্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চাইছে। আলজেরিয়ায় হাইড্রোকার্বন খাতের বাইরে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে তুরস্ক। তুরস্ক এখন দেশটিতে শীর্ষস্থানীয় বিদেশী বিনিয়োগকারী হয়ে উঠেছে, যা ফ্রান্সের চেয়েও বেশি। দেশটি নির্মাণ, টেক্সটাইল, ইস্পাত, খাদ্য এবং জ্বালানি খাতেও যুক্ত রয়েছে। আলজেরিয়ায় এক হাজার ২০০টিরও বেশি তুর্কি কোম্পানি কাজ করছে এবং ১০ হাজারের বেশি লোককে তারা নিয়োগ দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে তিনটি তুর্কি নির্মাণ গ্রæপ, অ্যাটলাস গ্রæপ, ওজগুর সান এবং ডরুক কনস্ট্রাকশন আলজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চার হাজার ৪০০টি সামাজিক আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য ১.২ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেয়েছে
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট