Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৮ জুলাই, ২০২১ ০২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সুমেরীয় সভ্যতা।

পশ্চিম এশিয়ার মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে প্রথম যে সভ্যতা গড়ে ওঠে তাকে সুমেরীয় সভ্যতা বলে। বর্তমানে ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থানে সুমেরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গবেষণা করে বেশির ভাগ ঐতিহাসিক একমত হয়েছেন সুমেরীয়দের আদি বাসস্থান সুমের ছিল না। তাঁদের অনেকের মতে, সুমেরীয়দের একটি দল ৪০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের দিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষত এলামের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উর্বর ভূমির দিকে অগ্রসর হয়েছিল।

সন্ধানে অগ্রসর হয়ে মেসোপটেমিয়া এসেছিল। কৃষিকাজের সুযোগ-সুবিধা থাকায় তারা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। সুমেরীয়দের নাম অনুসারে এই অঞ্চল সুমের নামে পরিচিতি লাভ করে।

পরিবার পিতৃতান্ত্রিক হলেও সমাজে নারীরা উচ্চ মর্যাদা ভোগ করত। সমাজে বহুবিবাহ আইনত নিরুত্সাহিত করা হলেও উপপত্নী রাখার বিধান ছিল। বিয়েতে যৌতুক প্রথা প্রচলিত ছিল। বিয়ে বিচ্ছেদ ছিল আইনসম্মত। সুমেরীয়রা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্রে বসবাস করত। রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে তাদের ততটা ধারণা ছিল না। সে সময়ের উল্লেখযোগ্য নগররাষ্ট্রগুলো  হলো—ইরিদু, নিপপুর, লাগাস, কিস, উর, আল উবাইদ। রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা ছিল রাজা।

সুমেরীয় সভ্যতার অধিকাংশ লোক ছিল কৃষিজীবী। উর্বর অববাহিকায় প্রচুর শস্য উত্পন্ন হতো। এ ছাড়া তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করত। ব্যবসার লেনদেন চলত সোনা ও রুপার পিণ্ড দ্বারা। সুমেরীয়রা নানা দেব-দেবীর পূজা করত। তারা প্রাকৃতিক শক্তিকেও দেবতা মনে করত। তাদের ধর্ম মন্দিরকে জিগুরাত বলা হতো।

সুমেরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতির নাম কিউনিফরম। নলখাগড়ার তৈরি এক প্রকার কলম দ্বারা মাটিতে চাপ দিয়ে লিখে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।

সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য তারা একটি আইনি কাঠামো গড়ে তোলে। সুমেরীয় রাজা ডুঙ্গী এই আইন প্রণয়ন করেন। এ ছাড়া পানি দ্বারা জলঘড়ি, চন্দ্র পঞ্জিকার আবিষ্কার, গুণ ও ভাগ করার পদ্ধতি, ওজন ও পরিমাপ প্রবর্তন বিশ্বসভ্যতায় সুমেরীয়দের স্মরণীয় করে রেখেছে।                   




মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট