জ্ঞানের ভাণ্ডার যে ধনের ভাণ্ডার নয়, এ সত্য তো প্রত্যক্ষ; কিন্তু সমান প্রত্যক্ষ না-হলেও এও সমান সত্য যে, এযুগে যে-জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য, সে-জাতির ধনের ভাণ্ডারও ভবানী। তার পর যে-জাতি মনে বড়ো নয়, সে-জাতি জ্ঞানেও বড়ো নয়; কেননা, ধনের সৃষ্টি যেমন জ্ঞান সাপেক্ষ তেমনি জ্ঞানের সৃষ্টিও মন সাপেক্ষ। এবং মানুষের মনকে সচল, সরাগ ও সমৃদ্ধ করবার ভার আজকের দিনে সাহিত্যের উপর ন্যস্ত হয়েছে। কেননা মানুষের দর্শন-বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশানৈরাশ্য, তার অন্তরের স্বপ্ন ও সত্য, এই সকলের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম। অপরাপর শাস্ত্রের ভিতর যা আছে, যেসব হচ্ছে মানুষের মনের ভগ্নাংশ; তার পুরো মনটার সাক্ষাত্ পাওয়া যায় শুধু সাহিত্যে। দর্শন, বিজ্ঞান ইত্যাদি সব হচ্ছে মনোগঙ্গার তোলা জল, তার পূর্ণ স্রোত আবহমান কাল সাহিত্যের ভিতরই সোল্লাসে সবলে বয়ে চলেছে; এবং সেই গঙ্গাতে অবগাহন করেই আমরা আমাদের সকল পাপ হতে মুক্ত হব।
অতএব দাঁড়াল এই যে, আমাদের বই পড়তেই হবে, কেননা, বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ন্তর নেই। ধর্মের চর্চা চাইকি মন্দিরের বাইরেও করা চলে, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে, এবং বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে; কিন্তু সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি। ও চর্চা মানুষে কারখানাতেও করতে পারে না, চিড়িয়াখানাতেও নয়।