Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৯ জুন, ২০২২ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

আমাদের বিদ্যুৎ সমস্যা ও এর সমাধানে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি

'স্মার্ট গ্রিড': বিদ্যুৎ সরবরাহের ভবিষ্যৎ


সামনের দিনগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আর বিতরণের কাজে স্মার্ট গ্রিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে প্রচলিত বৈদ্যুতিক গ্রিড শুধুমাত্র একমুখী উপায়ে কাজ করে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গ্রাহক পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কাজটাই করে এখনকার গ্রিড।


অন্যদিকে একটি স্মার্ট গ্রিডে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কন্ট্রোলার’-এর মতো বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহৃত হয়। আর এসব ডিভাইসের সাহায্যে উভয় দিকে বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। 


স্মার্ট গ্রিডের এই উভয়মুখী ব্যবস্থা থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ শক্তি খরচের মাত্রা, বিদ্যুতের উৎস এবং কীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আরো দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।


সোলার প্যানেল বা উইন্ড টার্বাইনের মতো প্রযুক্তির সাহায্যে এখন এমনভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা কেন্দ্রীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত থাকে না। এছাড়াও বাজারে নতুন করে অনেক বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি আসছে। বিকেন্দ্রীভূত আর পরিবর্তনশীল এসব নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন প্রজন্মের এসব বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং-এর মতো কাজগুলি প্রচলিত গ্রিডের সাহায্যে কার্যকর উপায়ে করা যায় না। ফলে নতুন উপায়ে এ ধরনের বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারের চাহিদা মেটাতে অনেক দেশেই স্মার্ট গ্রিড তৈরি হচ্ছে।


আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত জটিল সব বৈদ্যুতিক প্রবাহ পরিচালনা করতে পারে স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি। এতে ভোক্তারা বিদ্যুৎ বিতরণের মূল ব্যবস্থার সাথে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারে। এছাড়াও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সংরক্ষণের যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগতে পারে স্মার্ট গ্রিড। নতুন প্রোডাক্ট, সার্ভিস এবং বাজার তৈরি করা সম্ভব হয় স্মার্ট গ্রিডের সাহায্যে। 


ডিজিটাল অর্থনীতি নির্ভর আগামীর বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য উন্নত আর আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নির্মাণ করবে স্মার্ট গ্রিড। একইসাথে তা সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াবে। এছাড়াও এর সাহায্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কোনো প্রকার ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে আগে থেকেই পূর্বাভাস জানা সম্ভব হবে এবং কোনো প্রকার বিপর্যয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দক্ষতার সাথে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।


একটি স্মার্ট গ্রিড সিস্টেমের সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে:


• আরো দক্ষতার সাথে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের সুবিধা

• দুর্ঘটনার পর দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার ব্যবস্থা

• বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কমে আসার সুযোগ

• গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমানোর অবস্থা

• নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে আসা বিদ্যুৎ সমন্বয়ের সুবিধা

• উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

.


# স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়ন


বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান কিছু বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান শীঘ্রই বড় আকারের স্মার্ট-গ্রিড ব্যবস্থা চালু করবে। এজন্য সার্বিক ভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অন্তত এক বা দুই দশক ধরে বিনিয়োগ করে যেতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রকল্পগুলি ২০৪০ এবং ২০৫০-এর দশকের মধ্যেই সম্পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। আর সে সময় অন্যান্য বেশিরভাগ গ্রিড অপারেটর বা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানই স্মার্ট গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। 


যেসব উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জ্বালানী সাশ্রয়ী ভবন এবং স্থানীয়ভাবে বড় আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা আছে, তারা বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না। বরং মাইক্রোগ্রিডের সংখ্যা বাড়াবে। এতে বিদ্যুতের সরবরাহ আর উৎপাদনে গ্রাহকদের আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ আসবে। বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং বড় আকারের শিল্পকারখানার মতো প্রচুর শক্তি ব্যবহারকারী গ্রাহকদেরও সুবিধা হবে এতে।


অর্থাৎ বিশ্বজুড়েই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ উন্নত করার জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ছে। একইসাথে পরিবেশবান্ধব জ্বালানী উৎপাদনের জন্যও চেষ্টা চলছে। আর এসবের অর্থ হলো দক্ষতার সাথে শক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রীভূত করে তোলার বিশাল উপযোগিতা রয়েছে। এসব আসলে অনেকগুলি স্তরে কাজ করবে। স্মার্ট পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন আর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এভাবেই বড় একটা পরিবর্তন আসবে। সম্ভবত ২০৪০ সালের আগে পরিপূর্ণ অবস্থায় আমরা এই প্রযুক্তি দেখতে পাবো না। তবে তার আগেই এটি কিছু সীমিত অঞ্চলে পা বাড়াবে।


আগামী দুই দশকে দেখতে পাওয়া যাবে যে, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলিতে প্রভাবশালী এবং বড় বড় গ্রিড অপারেটররা বড় আকারে তাদের পরিকল্পনা কাজে লাগাচ্ছে। 


উন্নয়নশীল অর্থনীতির যেসব দেশ ও দ্বীপগুলিতে শক্তি ব্যবহারের হার বেশি, সেখানে মাইক্রোগ্রিড স্থাপনের হার বাড়বে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের প্রচলিত পদ্ধতি হুমকির মুখে পড়বে। একইসঙ্গে নতুন করে তৈরি হতে থাকবে ভবিষ্যতের স্মার্ট গ্রিড।


#ভবিষ্যৎ #প্রযুক্তি #বিদ্যুৎ

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট