Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৬ জুন, ২০২২ ০৪:২৮ অপরাহ্ণ

ভিশিং এক নতুন আতংকের নাম ,কেন?
ভিশিং—নতুন এক ধরনের স্ক্যাম-এর নাম
‘ভিশিং’ (Vishing) শব্দটি এসেছে মূলত “ভয়েস” এবং “ফিশিং” শব্দ দুটি থেকে। ভিশিং হচ্ছে এক ধরনের ফিশিং স্ক্যাম, যা ফোন কল অথবা ভয়েস মেইলের মাধ্যমে করা হয়। এটাও এক ধরনের সাইবার অপরাধ। কারণ প্রতারকেরা ভিশিং-এর মাধ্যমে ভিকটিমের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে।
.
# ভিশিং যেভাবে কাজ করে
স্ক্যামারদের মধ্যে ভিশিং অনেক জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো, এখানে তারা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে কাজ করে থাকে। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো মূলত এমন কৌশল, যেখানে বিশ্বাস, ভয়, লোভ অথবা অন্যকে সাহায্য করার ইচ্ছার মতো মানুষের সাধারণ সব প্রবৃত্তিকে কাজে লাগানো হয়।
সাইবার অপরাধীরা ভিকটিমের মধ্যে সেসব অনুভূতি জাগানোর চেষ্টা করে যা তার মধ্যে উদ্বেগ বা প্যানিক তৈরি করবে। অথবা তারা ভিকটিমকে এমনভাবে আবেগতাড়িত করবে যে, সে সময়ে তার ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা কমে আসবে। আর ঠিক এমন অবস্থাতেই স্ক্যামাররা ভিকটিমের কাছে টাকা বা ব্যক্তিগত কোনো তথ্য চাইবে।
স্ক্যামাররা হয়তো এভাবে আপনাকে ভয় দেখাতে পারে যে, আপনার টাকা-পয়সা ঝুঁকির মধ্যে আছে। তখন সে আপনাকে লোভনীয় কোনো বিনিয়োগের সুযোগ দেখাবে অথবা অসহায় কারো জন্যে আপনার কাছে অর্থ সাহায্যও চাইবে। ভিশিং ইঞ্জিনিয়ারিং এমনভাবে আপনাকে প্ররোচিত করে, যাতে আপনি ধীরে-সুস্থে যৌক্তিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার বদলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
.
# কোনটা ভিশিং স্ক্যাম যেভাবে বুঝবেন
ভিশিং স্ক্যাম বোঝার জন্যে প্রাথমিকভাবে কিছু বিষয়ে সতর্ক হতে হবে আপনার। যদি আপনার মনে হয় আপনাকে প্ররোচিত করা হচ্ছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বা আপনার মধ্যে প্যানিক তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাহলে ধরে নিতে পারেন, যিনি ফোনকল করেছেন, তার স্ক্যামার হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে।
ভিশিং স্ক্যাম থেকে বাঁচার জন্য প্রথমে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, কেউ আপনার সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে সাথে সাথে ফোন রেখে দিতে হবে। এমন তথ্যের মধ্যে থাকতে পারে আপনার বাসা বা অফিসের ঠিকানা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক কার্ডের নাম্বার, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি। যদি হঠাৎ করে আপনার কাছ থেকে এসব তথ্য চাওয়া হয়, সাথে সাথে ফোন রেখে দিন। প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান এভাবে আপনার কাছ থেকে তথ্য আদায় করে না।
.
# ভিশিং থেকে যেভাবে নিজেকে বাঁচাবেন
ভিশিং প্রতিরোধের উপায় আসলে খুব সহজ। এখানে কিছু সাধারণ পরামর্শ দেয়া হলো, যেগুলি মেনে চললে নিজেকে ভিশিং আক্রমণের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।
• অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা ফোনকল না ধরাই ভালো। যদি আপনার মনে হয় এমন কারো কল আসার কথা, তাহলে কল না ধরে অন্য কোনো নাম্বার থেকে সেই নাম্বারে কল ব্যাক করুন। যদি নাম্বারটি স্ক্যামারের হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো অন্য নম্বর থেকে ফোন ঢুকবেই না।
• বিশ্বস্ত এবং পরিচিত মানুষ ছাড়া এমন কোনো ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ বা সোশ্যাল মিডিয়া মেসেজের রিপ্লাই দেবেন না, যেখানে আপনার ফোন নাম্বার চাওয়া হচ্ছে। সাধারণত সাইবার ক্রিমিনালেরা প্রথমে এই কাজটি করে, যাতে পরে তারা আপনাকে টার্গেট করে ফোনকল করতে পারে।
• কখনো আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফোনকলের মাধ্যমে কনফার্ম করবেন না। এমনকি যদি ওই প্রান্তের ব্যক্তি আপনার পরিচিত বলে নিজেকে দাবি করে, তাহলেও না। কারণ কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি এমন কাজ করার কথা না। যদি কেউ এমন আচরণ করে থাকে, তবে সাথে সাথে সতর্ক হয়ে যান যে, আপনি হয়তো ভিশিং-এর শিকার হতে যাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট