সহকারী শিক্ষক
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
কথায় আছে শাকের মধ্যে পুঁই, মাছের মধ্যে রুই। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পুঁইশাকে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।
পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, জিঙ্ক ।
উপকারিতা –
১। শিশুদের –
শিশুদের নিয়মিত পুঁইশাক খাওয়ালে তাদের বৃদ্ধি ভালো হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ যেমন – ভিটামিন, প্রোটিন, নানান খনিজ এই পুঁইশাক থেকে পাওয়া যায়।
২। চোখের জন্য –
পুঁইশাক চোখ ভালো রাখতে খুব ভালো। এতে আছে বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন। এই উপাদানগুলি চোখের জন্য খুবই ভালো। কারণ রেটিনার একটি অংশ ম্যাকুলা এতে থাকে লুটেইন। এই লুইটেন অতিরিক্ত আলোর কুপ্রভাব থেকে চোখকে রক্ষা করে। ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের থেকেও চোখকে রক্ষা করে।
৩। শর্করার জন্য –
পুঁইশাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের নাম লিপোইক অ্যাসিড। এইঅ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। পাশাপাশি ইনসুলিনের ভারসাম্যও ধরে রাখে। তা ছাড়া এটি ডায়াবেটিস রোগিদের পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি এবং অটোনমিক নিউরোপ্যাথির সমস্যা কমায়।
৪। এনার্জি বাড়ায় –
পুঁইশাকে থাকে ম্যাগনেসিয়াম। এটি এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। পুঁইশাকে থাকে ফোলেট। এটি এনার্জির উৎস। এটি খাবারকে এনার্জিতে রূপান্তরিত করে। তাছাড়া পুঁইশাক হল ন্যাচারাল অ্যালকালাইন। এই উপাদান আমাদের তরতাজা, এনার্জেটিক রাখে।
৫। অ্যাজমা আটকায় -
পুঁইশাকে আছে বিটা ক্যারোটিন। এই বিটা ক্যারোটিন অ্যাজমা হওয়ার আশঙ্কা কমায়।
৬। রক্তচাপ –
পুঁইশাক পটাশিয়ামের উৎস। পটাশিয়াম ব্লাড প্রেসার কমায়। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
৭। ক্যানসারে –
সবুজ শাকসবজিতে তাহেক ক্লোরোফিল। এই ক্লোরোফিল কার্সিনোজেনিক প্রভাব আটকায়। এই কার্সিনোজেনিকের প্রভাবেই ক্যানসার হয়। তাই পুঁঈশাক খুবই উপকারী। তাছাড়া এর ফাইবার পাকস্থলী আর কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পুঁইশাক ক্যানসার দূরে রাখতে সক্ষম।
৮।হাড়ের জন্য –
আমাদের হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে ভিটামিন কে। তাই ভিটামিন কে শরীরে কম প্রবেশ করা মানে হাড়ের মজবুতি কমে যাওয়া। পুঁই শাক ভিটামিন কে’র একটি খুব ভালো উৎস । ভিটামিন কে হাড়ের মেট্রিক্স প্রোটিন উন্নত করে। ক্যালসিয়াম ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি, ইউরিনে ক্যালসিয়ামের মাত্রাও কম করে। হাড়ের শক্তি বাড়ানোর জন্য তাই পুঁই শাক খান।
৯। হজমে –
বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে এটি। এটি হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এর ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেয় না। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়।
১০। রোগ প্রতিরোধে –
এর পুষ্টিগুণ প্রচুর। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বারাতে এটি বেশ উপকারী।
১১। চুল ও ত্বকের জন্য –
ভিটামিন এ, ত্বকের ও স্ক্যাল্পের তেল নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই সব জায়গা আর্দ্রতা বা ময়েশ্চার ধরে রাখে।
১২। ব্রণের জন্য –
অতিরিক্ত তেল বা সিবাম হল ব্রণের কারণ। পুঁইশাক এই সিবাম নিঃসরণ কমায়, তাই ব্রণ হয় না। ভিটামিন সি ত্বকের কোষ কোলাজিনের জন্য যে ভালো। তাও আছে এই শাকে।
১৩। পাইলস –
নিয়মিত পুঁইশাক কোষ্ঠকাঠিন্য যেমন দূর হয় তেমনই পাইলস, ফিসচুলা ও হেমোরয়েড হওয়ার আশঙ্কা কমায়।
১৪। প্রদাহ –
পুঁইশাকের আছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। তাই শরীরের কোনো প্রদাহ হলে বা ফুলে গেলে পুঁইশাকের শিকড় বেটে প্রলেপ লাগালে তাড়াতাড়ি কমে যায়। ফলে শরীরে খোসপাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদির সংক্রমণ হতে পারে না।
১৫। মাথাব্যথায় –
প্রতিদিন মাথাব্যথার রোগ থাকলে নিয়মিত পুঁইশাক খাওয়া ভালো।