সহকারী শিক্ষক
২০ মে, ২০২৩ ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ চতুর্থ
বিষয়ঃ প্রাথমিক বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ একাদশ অধ্যায়
অঞ্চলভিত্তিক রাস্তার পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে পানির ব্যবস্থা (ফায়ার হাইড্রান্ট) নিশ্চিত করা দরকার
■ জরুরি বহির্গমন পথ বাইরের দিকে খোলা জায়গায় করা প্রয়োজন
■ বস্তিবাসীর জন্য ফায়ার সার্ভিসে বিশেষায়িত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
■ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষকে দিতে হবে
■ জরুরি বহির্গমন পথ পুরোটাই আগুন ও ধোঁয়া প্রতিরোধক হতে হবে
■ নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে
■ পাঠ্যসূচিতে অগ্নিনির্বাপণসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি
■ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন নিয়মিত বিরতিতে যাচাই করতে হবে
আমরা এত দিন সুউচ্চ ভবন নিরাপদ মনে করতাম। জানতাম, এগুলো বিধিমালা অনুযায়ী করা হয়েছে, যেন সব ধরনের দুর্ঘটনা রোধের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বনানীতে যখন আগুন লাগল, তখন আমরা দেখছি যে অনেক জায়গায় আমাদের ঘাটতি আছে। বিশ্বের সব দেশে উঁচু ভবন আছে। সেখানে আগুন লাগলে মানুষের বের হওয়ার সুব্যবস্থা থাকে। ক্ষয়ক্ষতি হয় কেবল সম্পদের, মানুষকে খুব কমই জীবন দিতে হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুন যেন না লাগে সেই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে অফিস-আদালত, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে খোলা আগুন ব্যবহার না করা; জ্বলন্ত সিগারেট, ম্যাচের কাঠি যেখানে-সেখানে না ফেলা। আবাসিক ভবন, অফিস-আদালত ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার ও সব ধরনের ইলেকট্রিক সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ত্রুটি পেলে সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের ব্যবস্থা করা জরুরি। বৈদ্যুতিক আগুন নেভানোর জন্য পানি ব্যবহার করা যাবে না। আগুনের ঘটনা টের পেলে সঙ্গে সঙ্গে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। এরপরও আগুন লাগলে দ্রুত নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রে খবর দিতে হবে।
বাণিজ্যিক ভবনে দাহ্য পদার্থ রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করার কথাও বলছে ফায়ার সার্ভিস। প্রতিটি বাণিজ্যিক ভবনে জরুরি সিঁড়ি বা ইমার্জেন্সি ফায়ার এক্সিট রাখতে হবে। ভবনের প্রতি তলায় নিয়মমাফিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা হাতের নাগালে রাখতে হবে। প্রত্যেক কর্মচারীকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে মৌলিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
২০০৬ সালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনের ভয়াবহ আগুনের ঘটনার উদাহরণ টেনে ফায়ার সার্ভিস বলছে, আগুন লাগার পর ওই ভবনের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন শতাধিক মানুষ। তাঁদের ছাদ থেকে নিরাপদে নামিয়ে এনেছিল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের সেজান জুস কারখানার শ্রমিকেরা যদি ভবনের ছাদে যাওয়ার সুযোগ পেতেন তাহলে এমন করুণ মৃত্যু হতো না।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) দেবাশীষ বর্ধন প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিনির্বাপণের চেয়ে আগুন যাতে না লাগে সেদিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আইন মেনে ভবন নির্মাণ করলে ও যথাযথ অগ্নিপ্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।