Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০১ জুন, ২০২৩ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া

ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠানের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হলে ব্যবস্থাপককে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়। কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভল করে। তাই ব্যবস্থাপনাকে অনেক চিন্তাভাবনা, বিচারবিশ্লেষণপূর্বক সর্বোত্তম কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণ করতে হয়। ব্যবস্থাপনাবিদগণ কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেছেন। 

১. সমস্যা চিহ্নিতকরণ : সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হলো সমস্যা চিহ্নিতকরণ। একটি প্রতিষ্ঠানের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নির্ভর করে সঠিক সমস্যা চিহ্নিতকরণের ওপর। যেমনÑ একজন ডাক্তার যদি রোগীর রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে তবে চিকিৎসার কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়ে যায়। তেমনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও যদি প্রকৃত সমস্যা খুঁজে বের করা যায়, তবে তার সমাধানের পথও সহজে বেরিয়ে আসে। 

২. অগ্রাধিকার নির্ধারণ : সঠিক সমস্যা চিহ্নিতকরণের পর সমস্যার প্রকৃতি, কারণ ও প্রভাব উদঘাটনপূর্বক গুরুত্ব বিবেচনায় কোন সমস্যাটি সমাধানের জন্য অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন তা নিরূণ করতে হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানে একাধিক সমস্যা থাকলে সবগুলো সমস্যার সমাধান তো একসাথে করা যায় না। তাই একাধিক সমস্যা থেকে কোন সমস্যাটার সমাধান আগে করা হবে তা এ পর্যায়ে নির্ণয় করা হয়। 

৩. তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ : সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তথ্য ও উপাত্ত মুখ্য অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। অধিকতর কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য একান্ত প্রয়োজন। তাই এ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনাকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংগৃহীত তথ্যের বিচারবিশ্লেষণ করতে হয়। কারণ ভুল তথ্যের সিদ্ধান্ত কখনোই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। 

৪. আদর্শমান নির্ধারণ : সমস্যার অগ্রাধিকার নিরূপণ করার পর ব্যবস্থাপককে প্রতিষ্ঠানের জন্য আদর্শমান নির্ধারণ করতে হয়। অর্থাৎ এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবস্থাপনা কী অর্জন করতে চায় বা কী ফলাফল প্রত্যাশা করে তা নির্ধারণ করতে হয়। আদর্শমান নির্ধারিত থাকলে তার সাথে বিকল্পগুলোর তুলনা করে অধিকতর কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

৫. বিকল্প কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন : ভবিষ্যৎ যেকোনো পরিস্থিতির মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পূর্ব থেকে একাধিক বিকল্প ঠিক করে রাখাকে বিকল্প কার্যপদ্ধতি বলে। এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের জন্য অনুসরণযোগ্য একাধিক কার্যপদ্ধতি পরিকল্পনাবিদকে উদ্ভাবন করতে হয়। তবে পরিকল্পনাবিদকে কার্যপদ্ধতিগুলো দাঁড় করানোর জন্য গভীর চিন্তাভাবনা করতে হবে। 

৬. বিকল্প কার্যপদ্ধতি মূল্যায়ন : ভবিষ্যত সুযোগ সুবিধা বিবেচনায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গৃহীত বিকল্পসমূহের যথাযথ মূল্যায়নকে বিকল্প কার্যপদ্ধতি মূল্যায়ন বলে। অর্থাৎ এ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনাকে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে পূর্বনির্ধারিত আদর্শমানের ভিত্তিতে প্রত্যেকটি বিকল্প কর্মপন্থার সুবিধা অসুবিধা, কার্যকারিতা, ফলপ্রদতা ইত্যাদি পুক্সখানুপুক্সখভাবে মূল্যায়ন করতে হয়। বিকল্পসমূহ মূল্যায়নে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ, ঝুঁকি, আয়, ব্যয়, শক্তি ও দুর্বলতা এবং সন্তুষ্টি কী পরিমাণ হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখতে হয়। 

৭. সর্বোত্তম বিকল্প গ্রহণ : মূল্যায়নকৃত বিকল্পসমূহের মধ্য থেকে কার্যকর বা সর্বোত্তম বিকল্পটি গ্রহণ করাকেই সর্বোত্তম বিকল্প গ্রহণ বলে। এক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে একাধিক বিকল্পকে গ্রহণযোগ্য মনে হলেও বাস্তবতা বা পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোত্তম বিকল্পটি গ্রহণ করা হয় এবং অন্য বিকল্পসমূহকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। 

পরিশেষে বলা যায়, প্রতিষ্ঠানের জন্য সঠিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করার প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে প্রতিষ্ঠানের জন্য তা কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে সমর্থ হবে। 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট