প্রভাষক
০১ জুন, ২০২৩ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ তৃতীয় অধ্যায়
উদ্দেশ্য একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্দেশিকা। তাই ব্যবস্থাপনাকে একটি কার্যকর উদ্দেশ্য নির্ধারণে মনোযোগী হতে হয়। একজন ব্যবস্থাপক যতবেশি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করবে ঐ প্রতিষ্ঠান ততবেশি কার্যকর হবে। আর একটি কার্যকর উদ্দেশ্য নির্ধারণে ব্যবস্থাপনাকে কতিপয় ধারাবাহিক পদ্ধতি বা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।
১. কাক্সিক্ষত ফল নির্দিষ্টকরণ : একজন ব্যবস্থাপককে উদ্দেশ্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার প্রথমেই চিন্তা করতে হবে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি কী অর্জন করতে চায় তার লক্ষ্যমাত্রা। অতঃপর সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রার সাথে সংগতি রেখে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও ব্যক্তিপর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাই উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ।
২. কার্যফল পরিমাপের একক নির্ধারণ : এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কার্যফলকে নির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা। সাধারণত বস্তুগত একক সময়ের নির্দিষ্ট মেয়াদ বা আর্থিক অঙ্কের মাপকাঠিতে সুনির্দিষ্টকরণ করে কার্যফল পরিমাপ করা হয়। অনেক সময় ফলাফলের সংখ্যাবাচক প্রকাশ কঠিন হলে প্রতিষ্ঠান আচরণ বা কার্যাবলি পরিমাপ করে ফলাফল নির্ধারণ করে থাকে।
৩. আদর্শমান প্রতিষ্ঠা : এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ফলাফলের একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শমান প্রতিষ্ঠা করা। ধরা যাক, উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে বছরের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তার আলোকে কমপক্ষে মাসে টার্গেট নির্ধারণ করাই হলো নির্ধারিত আদর্শমান। এভাবে ফলাফলের ন্যুনতম আদর্শমান প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে।
৪. তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ : কার্যকর উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্যের প্রয়োজন। এ পর্যায়ে তথ্য ও উপাত্তের বিভিন্ন উৎস চিহ্নিত করে তা থেকে কার্যকর উদ্দেশ্য নির্ধারণের সহায়ক প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
৫. তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ : কার্যকর উদ্দেশ্য নির্ধারণের বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এসব তথ্য কতটা উপযোগী তা যাচাইয়ের জন্য যথাযথ বিচারবিশ্লেষণ করে বস্তুনিষ্ঠ উদ্দেশ্য গ্রহণ করা হয়। অতঃপর এসব তথ্যের বিচারবিশ্লেষণ করে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ও সমšি^তকরণ করা হয়।
৬. বিকল্প উদ্দেশ্যসমূহ বিন্যাসকরণ : প্রতিষ্ঠানে যখন একাধিক উদ্দেশ্যসমূহ বিদ্যমান থাকে তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তুলনামূলকভাবে যেটি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিকল্প উদ্দেশ্যসমূহকে সাজানো হয়। তাই এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের বিভিন্ন বিকল্প চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
৭. উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ : উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার সর্বশেষ পদক্ষেপ হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এ পর্যায়ে বিকল্প উদ্দেশ্যগুলো তুলনামূলক বিচারবিশ্লেষণ করে কাক্সিক্ষত ফলাফর অর্জনের জন্য সর্বোত্তম উদ্দেশ্যটি চ‚ড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়। ফলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাজানো সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যটিকে গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান সফলতার সাথে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যবস্থাপনা সহজে ও কার্যকরভাবে উদ্দেশ্য অর্জন করতে চাইলে উল্লিখিত ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা আবশ্যক। ফলে প্রতিষ্ঠানের একটি বাস্তবধর্মী উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।