প্রভাষক
০১ জুন, ২০২৩ ০২:৫০ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ তৃতীয় অধ্যায়
ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজ (যেমন- সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমš^য়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ) আবর্তিত হয়। তাই পরিকল্পনাকে ব্যবস্থাপনার অন্য সব কাজের ভিত্তি বলা হয়।
পরিকল্পনার সাথে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য অন্যান্য কাজের সম্পর্ক আলোচনা করা হলো :
১. পরিকল্পনা ও সংগঠন : ভবিষ্যতে কী করা হবে তার পূর্বনির্ধারিত নকশা বা চিত্রকে পরিকল্পনা বলে। অন্যদিকে, সংগঠন হচ্ছে পূর্বনির্ধারিত নকশা বা চিত্রকে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যকে প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে তা বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের ওপর কার্যভার অর্পণ করা। সংগঠনের যাবতীয় বিষয়সমূহ পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকে বিধায় পরিকল্পনা ছাড়া সংগঠন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তাই বলা যায়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই সংগঠনের প্রয়োজন।
২. পরিকল্পনা ও কর্মীসংস্থান : ভবিষ্যতে কী করা হবে তা পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। আর পরিকল্পনার মাধ্যমে গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ কর্মীবাহিনীর। কারণ কর্মী ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে না। এতে করে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্য ব্যাহত হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মীসংস্থান করার প্রয়োজন হয়। সুতরাং পরিকল্পনার সাথে কর্মীসংস্থানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
৩. পরিকল্পনা ও নির্দেশনা : প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় আদেশ, নির্দেশ, পরামর্শ ও উপদেশ প্রদান করতে হয়। উক্ত আদেশ, নির্দেশ, পরামর্শ ও উপদেশ ইত্যাদি নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত। তাই পরিকল্পনা ছাড়া যেমন নির্দেশনার কিছু থাকে না ঠিক তেমনি নির্দেশনা ছাড়া পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা যায় না। অতএব পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
৪. পরিকল্পনা ও প্রেষণা : পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই কর্মীদের প্রেষিত করতে হয়। প্রেষণা বর্তমানকালে ব্যবস্থাপনার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ প্রেষণা একটি মনস্তাত্তি¡ক বিষয়; যা কর্মীদের কাজে মনোবল, ইচ্ছা, আগ্রহ, কর্মশক্তি ও উদ্দীপনা ইত্যাদি বৃদ্ধি কলে। কিন্তু পরিকল্পনা না থাকলে প্রেষণার প্রয়োজন হয় না। সুতরাং পরিকল্পনা ও প্রেষণা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
৫. পরিকল্পনা ও সমš^য়সাধন : পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই প্রতিষ্ঠানের কাজগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। অতঃপর বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব বিশেষজ্ঞ কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব বণ্টন করলেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়ে যায় না। এজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমš^য়সাধন। সুতরাং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই সমš^য়সাধনের প্রয়োজন হয়।
৬. পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ : পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ মুদ্রার এপিঠওপিঠ। কারণ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার কাজ যেখানে নিয়ন্ত্রণ দিয়ে সমাপ্ত হয় সেখানে পরিকল্পনা দিয়ে আবার শুরু হয়। আর পরিকল্পনার আদর্শমানের ওপর ভিত্তি করেই প্রয়োজনীয় বিচ্যুতি দূর করার জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়। তাই পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
পরিশেষে বলা যায়, পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার অন্য সব কাজের (যেমন- সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাদন ও নিয়ন্ত্রণ) প্রাণ। কারণ পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই ব্যবস্থাপনার অন্য সকল কাজের প্রয়োজন হয়। তাই পরিকল্পনাকে ব্যবস্থাপনার সব কাজের ভিত্তি বলা হয়।