Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৫ জুন, ২০২৩ ১২:২৬ অপরাহ্ণ

ব্যবস্থাপনার কোন স্তরে কি ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন আলোচনা করা হল।

একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতাসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তার কাজে যত বেশি দক্ষ হবে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় তত কম হবে। ফলে প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের নিকট কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করতে সমর্থ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

১. কারিগরি দক্ষতা : একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য বিশেষভাবে যে দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে তাকে কারিগরি দক্ষতা বলে। এটি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতির ব্যবহার, কার্যপদ্ধতি, কলাকৌশল বা প্রক্রিয়া প্রভৃতি ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজের সাথেই কমবেশি কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। একজন ব্যবস্থাপক কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করলে তা কারিগরি দক্ষতার মধ্যে পড়ে। 

২. আন্তঃব্যক্তিক বা মানবীয় দক্ষতা : প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের সাথে মিশতে পারা এবং তাদেরকে কাজে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করে কাজ আদায় করার দক্ষতাকেই আন্তঃব্যক্তিক বা মানবীয় দক্ষতা বলে। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপাদান হলো মানব সম্পদ। এ মানব সম্পদকে যথাযথ সুবিধা প্রদান না করলে প্রতিষ্ঠানের সফলতা আশা করা যায় না। তাই একজন দক্ষত ব্যবস্থাপকের উচিত কর্মীদের কাছ থেকে কাজ আদায়ের জন্য নেতৃত্ব দান, প্রণোদিতকরণ এবং ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা। 

৩. ধারণাগত দক্ষতা : অতীত অভিজ্ঞতা দিয়ে ভবিষ্যৎ অবস্থা সম্পর্কে আগাম ধারণা করতে পারার দক্ষতাকেই ব্যবস্থাপকের ধারণাগত দক্ষতা বলে। ব্যবস্থাপকীয় কার্যসম্পাদনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হলো ধারণাগত দক্ষতা। এ দক্ষতাবলেই একজন ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে পরিকল্পনায় ভুল হলে প্রতিষ্ঠানের বাকি সব কাজই ব্যর্থ হয়। 

৪. সমস্যা অনুধাবনের দক্ষতা : প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো দ্রুত অনুধাবন করে তা চিহ্নিতকরণ এবং তার সঠিক সমাধান করার দক্ষতাকে সমস্যা অনুধাবনের দক্ষতা বলে। একজন ব্যবস্থাপকের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা বুঝতে পারার দক্ষতা অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রকৃত সমস্যা অনুধাবন করতে পারলে এরূপ অনুধাবনই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের অর্ধেক কাজ দেয়। নচেৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী সমস্যা অনুধাবন করতে না পারলে সঠিক সমাধান সম্ভব হয় না।   

৫. বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা : প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণের পর উক্ত সমস্যাগুলো সমাধানের বিভিন্ন পদ্ধতি বা কৌশল বিচার বিশ্লেষণ করার দক্ষতাকে বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা বলে। প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যক্রমগুলোকে যথাযথভাবে বিচারবিশ্লেষণ করা আবশ্যক। কেননা ব্যবস্থাপনার কোনো ত্রæটি-বিচ্যুতি থাকলে প্রতিষ্ঠান তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। 

৬. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক দক্ষতা : কম্পিউটারের সাহায্যে প্রতিষ্ঠানের ভিতরের ও বাইরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক দক্ষতা বলে। বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে একজন ব্যবস্থাপককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক দক্ষতা অর্জন করতে হয়। কেননা বর্তমানে প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট