Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৯ জুলাই, ২০২৩ ১২:৪১ অপরাহ্ণ

আমার পথ

আমার কর্ণাধার আমি । আমার পথ দেখাবে আমার সত্য ।আমার যাত্রা শুরু করা আগে আমি সালাম জানাচ্ছি -নমস্কার করছি আমার সত্যকে ।।
যে পথ আমার সত্যের বিরোধী , সে পথ আর কোন পথই আমার বিপথ নয় । রাজভয়-লোকভয় কোন ভয়ই আমাকে বিপথে নিয়ে যাবে না ।
আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকে ,আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে ,তাহলে কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না ।
যার ভিতরে ভয় , সেই বাইরে ভয় পায় । অতএব যে মিথ্যাকে চেনে , সে মিছামিছি তাকে ভয় ও করে না ।
যার মনে মিথ্যা সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে ।
নিজেকে চিনলে মানুষের মনে আপনা আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে , সে আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কুর্ণিশ করে না - অর্থাৎ তাকে কেউ ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না ।
এই যে নিজেকে চেনা , আপনার সত্যকে আপনার গুরু , পথপ্রদর্শক , কান্ডারি বলে জানা , এটা দম্ভ নয় , অহংকার নয় । এটা আত্নকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি । আর কেউ যদি এটাকে ভুল করে অহংকার বলে মনে করেন তবু এটা মন্দের ভাল - অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভাল ।
অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয় । ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে , মাথা নিচু করে আনে ।
ওরকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক অনেক ভাল ।।

অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহংকার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন ।
স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে ; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা । নিজেকে চিনলে , নিজের সত্যকেই কর্ণাধার মনে জানলে নিজের শক্তির উপর অটুট বিশ্বাস আসে ।।
এই স্বাবলম্বন , এই নিজের উপর অটুট বিশ্বাস করাতেই শেখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজি । কিন্তু আমরা তার কথা বুঝলাম না , ''আমি আছি '' এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম ''গান্ধীজি আছেন ' । এই পরালম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে । একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব ।

অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব , তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কি করে ?
আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে ।
এই আত্ম নির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে , সে দিনই আমরা স্বাধীন হব , তার আগে কিছুতেই নয় ।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট