Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৫ আগস্ট, ২০২৩ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আহ্ববান

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান লেখক। উপন্যাসের মতো বাংলা ছোটগল্পেও তিনি অনন্য, অসাধারণ। তাঁর ‘আহ্বান’ গল্পটি তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থবহ। গল্পটিতে নিঃসন্তান, অসহায় এক বৃদ্ধার মাতৃস্নেহের স্বরূপ এবং লেখকের মানবিক চেতনার সাবলীল প্রকাশ লক্ষ করা যায়। এ গল্পের নায়ক শহর থেকে নিজ গ্রামে বেড়াতে আসা লেখককে প্রথমত গ্রামে থাকার আহ্বান করা হয়। তবে কাহিনীর মূল তাৎপর্য এখানে নয়। গল্পের অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও জীবন্ত চরিত্র বুড়িকে সর্বদা গল্পের কথক তথা লেখকের প্রতি মমতা থাকতে দেখা গেছে। রক্তের সম্পর্কের এমনকি সম্প্রদয়ের  কেউ না হয়েও সে লেখককে খুব কাছের মানুষ, একেবারে আত্মার আত্মীয় মনে করেছে। আর এ কারণেই লেখক গ্রাম এলেই বুড়িকে তাঁর কাছে ছুটে যেতে দেখা যায়। আজ দুধ, কাল ফল এভাবে সামান্য সম্বলটুকুও সে লেখককে খেতে দিয়ে আনন্দ পায়। আসলে বুড়ির নিজের কেউ না থাকায় এবং একমাত্র নাতজামাইয়ের কাছ থেকে অবহেলিত হওয়ায় সে লেখককেই নিজের ছেলে ভাবতে শুরু করে। সে বলে “গোপাল, যদি মরি, আমার কাফনের কাপড় তুই কিনে দিস।” এটি ছিল লেখকের কাছে বুড়ির একটি আত্মিক আহ্বান। শেষবার লেখক গ্রামে এসেই শুনতে পেলেন বুড়ি বেঁচে নেই। সে আগের দিন মারা গেছে এবং মৃত্যুর পূর্বে বারবার গোপালের নাম উচ্চারণ করেছে। তখন লেখকের মনে হলো- “ওর স্নেহাতুর আত্মা বহু দূর থেকে আমার আহ্বান করে এনেছে।” তাছাড়া লেখকের এ ভাবনাটি মোটেই অনর্থক নয়। কারণ গোপালের দেওয়া কাফনের কাপড় যেমন ছিল বুড়ির আত্মিক আহ্বান, তেমনি তার কবরে গোপালের মাটি পাওয়াটাও ছিল এ গল্পের একটি অনিবার্য আহ্বান। গল্পটিতে অসা¤প্রদায়িক চেতনার স্বত:স্ফূর্ত প্রকাশ ঘটেছে। জাতি ধর্মের উর্ধ্বে মানুষ হিসেবে মানুষের সাথে আত্মিক সম্পর্ক কতটা চিরন্তন হতে পারে, সেই দিকটি আলোচ্য গল্পে বিকাশ ও পরিণতি লাভ করেছে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট