Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৭ আগস্ট, ২০২৩ ০৫:১০ অপরাহ্ণ

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

মেঘনাবদ কাব্যের ষষ্ঠ সর্গে লক্ষণের হাতে অন্যায় যুদ্ধে মৃত্যু ঘটে অসমসাহসী বীর মেঘনাদের। রামচন্দ্র কর্তৃক দ্বীপরাজ্যে স্বর্ণালঙ্কা আক্রান্ত হলে রাজা রাবন শত্র“র উপুর্যপরি দৈব কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। ভ্রাতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর মেঘনাদকে পিতা রাবন পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি হিসাবে বরণ করে নেন।

যুদ্ধজয় নিশ্চিত করার জন্য মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার পূর্বেই নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইস্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে মনস্থির করে। মায়া দেবীর আনুকুল্যে এবং রাবণের অনুজ বিভীষণের সহায়তায় লক্ষণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশে সমর্থ হয়। কপট লক্ষণ নিরন্ত্র মেঘনাদের কাছে যুদ্ধ প্রার্থনা করলে মেঘনাদ বিস্ময় প্রকাশ করে। শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে লক্ষণের অনুপ্রবেশ যে মায়াবলে সম্পন্ন হয়েছে বুঝতে বিলম্ব ঘটেনা তার। ইতিমধ্যে লক্ষণ তলোয়ার কোষমুক্ত করলে মেঘনাদ যুদ্ধসাজ গ্রহণের জন্য সময় প্রার্থনা করে লক্ষণের কাছে। কিন্তু লক্ষণ তাকে সময় না দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময়ই অকসস্মাৎ যজ্ঞাগারের প্রবেশদ্বারের দিকে চোখ পড়ে মেঘনাদেব দেখতে পায় বীরযোদ্ধা পিতৃব্য বিভীষণকে। মুহুর্তে স্পষ্ট হয়ে যায় তার কাছে। খুল­ুতাত বিভীষণকে প্রত্যক্ষ করে দেশপ্রেমিক নিরস্ত্র মেঘনাদ যে পতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, সেই নাটকীয় ভাষাই বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ অংশে সংকলিত হয়েছে। এ অংশে মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে ঘৃণা। জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও জাতিসত্তার সংহতির গুরুত্বের কথা যেমন এখানে ব্যক্ত হয়েছে তেমনি এর বিরুদ্ধে পরিচালিত যড়যন্ত্রকে অভিহিত করা হয়েছে নীচতা ও বর্বরতা বলে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট