Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

১৮ আগস্ট, ২০২৩ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

আমার চোখে বঙ্গবন্ধু- Amar Chuka Bongabondhu

আমার চোখে বঙ্গবন্ধু


বাঙ্গালী জাতির আশির্বাদ, মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সনের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুংগী পাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। স্কুল জীবনেই তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নজরে পড়েন বঙ্গবন্ধু। পরবর্তীতে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়াকালীন সক্রিয়ভাবে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ইংরেজদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পাক-ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেছিলেন। যে আশা-আকাংখা নিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল, সহসাই পশ্চিম-পাকিস্তানীরা পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণের সেই আশায় চরম নিরাশা সৃষ্টি করল এবং বাধ্য হয়ে পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণ স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে সংযুক্ত হতে লাগল। বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি গঠিত হলো ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালের ২৩ই জুন জন্ম হলো মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী একমাত্র রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যূত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রত্যেক আন্দোলন ও সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নেতৃত্বের আসনে অসীন এক লৌহমানব, অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব, এক অপরাজেয় জাতীয় মহান নেতা, বাংলার মানুষের একক ও অতুলনীয় কন্ঠস্বর, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এবং বাংলাদেশ অভ্যূদয়ের মহানায়ক, যিনি জীবনের প্রায় ১৩ (তের) বছর জেলখানার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিনাতিপাত করেছিলেন।

ঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, মানুষের সেবা করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা, দুর্নীতিমুক্ত-সন্ত্রাসমুক্ত-ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্রমুক্ত-সুখী-সমৃদ্ধ-স্বনির্ভর-উন্নত অর্থনীতির সোনার বাংলা গঠন করা এবং সোনার বাংলা গঠনে বঙ্গবন্ধু যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনি দেশ-সরকার-জনগণ-স্বাধীনতা-মানবতার শত্রু কতিপয় বিপদগামী লোক এর হাতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য শাহাদাতবরণ করেন এবং ঐ হায়েনারূপী খুনীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শিশু রাসেলও। খুনীরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে শহীদ করেনি, তারা বাংলার প্রতিটি মানুষের হৃদয় ভেঙ্গেছে, মর্মাহত করেছে গোটা বাঙ্গালী জাতিকে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে তৈরি করেছে প্রতিবন্ধকতা। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুইজন কন্যা, একজন হলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যজন হলেন রত্নগর্ভা শেখ রেহেনা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে দিবা-রাত্রি নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর নেতৃত্বে দেশ বর্তমানে সর্বসূচকে উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে, মেট্রো রেল-বুলেট ট্রেন-উড়াল সেতু-উন্নত সড়ক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন প্রায় শেষের দিকে, ডিজিটাল কিংবা আইটি-তেও অনেক দূর এগিয়ে বাংলাদেশ। সর্বোপরি, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সনের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে উন্নীত হবে ইনশা-আল্লাহ। অর্থাৎ, খুব দ্রুতই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক ও সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রকৃত সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হবে


মন্তব্য করুন