Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৩ ০৩:১০ অপরাহ্ণ

বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় নাটকঃ সুখী মানুষ

সুখী মানুষ’ নাটকে এক মোড়লের জীবনের করুণ পরিণতি দেখানো হয়েছে। সুবর্ণপুর গ্রামের প্রধান হচ্ছেন মোড়ল। তিনি মানুষকে ঠকিয়ে ও মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে ধনী হয়েছেন। একজন অত্যাচারী লোক ছিলেন মোড়ল। অসৎ উপায়ে অনেক ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন। জীবনের শেষ দশায় এসে মোড়ল কঠিন অসুখে পড়লেন। তাঁর আত্মীয় হাসু মিয়া ও বিশ্বস্ত চাকর রহমত আলী তাঁর চিকিৎসার চেষ্টা করতে লাগল। মোড়লও এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে চান না। তিনি বাঁচতে চান।

মোড়লের চিকিৎসার জন্য কবিরাজ ডেকে আনা হলো। কবিরাজকে মোড়ল তাঁর অশান্ত মনে শান্তি এনে দিতে বললেন। কবিরাজ বললেন, কোনো সুখী মানুষের জামা গায়ে দিলে মোড়লের অসুস্থতা কেটে যাবে। কিন্তু পাঁচ গ্রামেও একজন সুখী মানুষের সন্ধান পাওয়া গেল না। অনেক খুঁজে বনের ধারে একজন সুখী মানুষ পাওয়া গেল। সে নিজের শ্রমের আয় দিয়ে খুব সুখে দিন কাটান। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তাঁর কোনো সম্পদ নেই। তাই চোরের ভয়ও নেই। রাতে সে শান্তিতে ঘুমোতে পারেন। এটাই বনে বসবাসকারী লোকটির অনাবিল সুখের উৎস। শেষ পর্যন্ত একজন সুখী মানুষ পাওয়া গেল। কিন্তু দেখা গেল তাঁর কোনো জামা নেই। তাই মোড়লের চিকিৎসা করা আর সম্ভব হলো না। মোড়লের বাঁচার আক্ষেপ রয়েই গেল।

এই নাটকের শিক্ষা হলো, পৃথিবীতে সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। কারও অনেক সম্পদ থেকেও জীবনে সুখ নেই। আবার কেউ কেউ কিছু না থাকলেও জীবনে অনেক সুখী।

মন্তব্য করুন