সহকারী শিক্ষক
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ প্রথম
বিষয়ঃ English for Today
নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২২ বাস্তবায়নের আমার অভিজ্ঞতা
নতুন শিক্ষাক্রমকে শিক্ষার্থীর সার্বিক উন্নয়নের উপায় হিসেবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে যোগ্যতাভিত্তিক করা হয়েছে৷ তার সাথে সমন্বয় রেখে শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া, শিখন উপকরণ, মূল্যায়ন এবং বাস্ততবায়ন পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে৷
নতুন শিক্ষাক্রমে শিখন-শেখানো প্রক্রিয়াটি হলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন৷ এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী যেকোনো যোগ্যতা অর্জন করতে হলে তা চারপাশের বিভিন্ন ব্যাক্তি (সহপাঠী, অভিভাবক, শিক্ষক, এলাকার লোকজন) ও উৎস (পাঠ্যবই, অন্যান্য বই, ওয়েবসাইট, প্রকৃতি, সামাজিক পরিবেশ) থেকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং তা দলে আলোচনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণ করে তার পারিপার্শ্বিক জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখছে৷ এরপরে সে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে প্রয়োগ করার জন্য দলীয় ও এককভাবে দৈনন্দিন জীবনের কোনো চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করে সমাধানের পরিকল্পনা করছে এবং তা প্রয়োগ করছে৷ এর ফলে আগের মতো মুখস্থনির্ভর খণ্ডিত শিক্ষার বদলে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীর সার্বিক শিখন হচ্ছে৷
পাঠ্যপুস্তক বিশ্লেষণঃ
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন অর্জনের জন্য যে বই রচিত হয়েছে তাতেও আগের মতো মুখস্থনির্ভর কন্টেন্টের আধিক্য নেই৷ বইগুলো রচিত হয়েছে রিসোর্স বুক ও ওয়ার্কবুক আকারে, যা শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে এবং সেগুলো থেকে কিভাবে জ্ঞান অর্জন করে তা প্রয়োগ করতে হয় সেই ধারণাও দিচ্ছে৷ পাশাপাশি বইগুলো প্রক্রিয়ানির্ভর, যাতে করে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে সক্রিয় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিখন অর্জনের জন্য তার ভুমিকা ও দায়িত্ব কীরূপ৷ এই বইয়ের সঙ্গে থাকছে সমৃদ্ধ শিক্ষক গাইড৷ এই শিক্ষক গাইডের মাধ্যমে আমরা ধারণা পাচ্ছি কীভাবে জ্ঞান বিতরণকারীর বদলে সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অর্জনেরে দিকে নিয়ে যাওয়া যায়৷
মূল্যায়নঃ
নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেই কোনো প্রতিযোগিতামূলক নম্বর বা জিপিএভিত্তিক শিখন যাচাই প্রক্রিয়া৷ পরীক্ষাকেন্দ্রিক সনদের পরিবর্তে পারদর্শিতার সনদের ওপর গুরুত্ব দেবার ফলে শিখনকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গির কী পরিবর্তন হলো সেটি সামস্তিকভাবে পরিমাপের নির্দেশক নির্ধারণ করা হচ্ছে৷ নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক কর্তৃক মূল্যায়নের পাশাপাশি স্ব-মূল্যায়ন, সতীর্থ মূল্যায়ন, অভিভাবক ও সমাজের সম্পৃক্ততার সুযোগ বিদ্যমান৷ শিক্ষাক্রম রূপরেখায় মূল্যায়নকে শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন, শিখন পরিবেশের মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীর শিখনের মূল্যায়নের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে৷ পুরো মূল্যায়নে টেকনোলজির (অ্যাপস) ব্যবহার কর ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সামস্তিক মূল্যায়নও গতানুগতিক লিখিত পরীক্ষার বদলে অভিজ্ঞতাভিত্তিকই হচ্ছে৷
মোঃ লুৎফর রহমান (এম. এ., এম. এড)
সহকারী শিক্ষক,
কুন্দারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।
ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর এটুআই, দিনাজপুর
Tessol Ambassador Teacher
সেরা কনটেন্ট নির্মাতা, শিক্ষক বাতায়ন, এপ্রিল, ২০২২
MIE Expert (Fourth time) - 2019-20, 2020-21, 2021-2022, 2022-23, 2023-24
ইংরেজী মাস্টার ট্রেনার (TMTE Project of British Council Under DPE)
বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষক ইংরেজী, চারু ও কারুকলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়,
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ২০২২ (উপজেলা পর্যায়)
মেন্টর, ICT Olympiad বাংলাদেশ
Ambassador, Wakelet.