Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৪ মার্চ, ২০২৪ ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য

ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য


সমাজবদ্ধ মানুষের বিভিন্ন প্রকার অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন বিষয় হিসেবে পরিচিত । প্রতিষ্ঠানভেদে ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা গেলেও প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নিম্নে ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো :


১. অবিরাম প্রক্রিয়া (Continuous process) : ব্যবস্থাপনা হলো কতকগুলো ধারাবাহিক কাজের সমষ্টি। ব্যবস্থাপনার এই কাজগুলো পর পর ধারাবাহিক ও অবিরামভাবে চলতে থাকে। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনাকে কতকগুলো কার্য যেমন- পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ধারাবাহিকভাবে সাম্পাদন করতে হয়। 


২. লক্ষ্য অর্জনের উপায় (Means of achieving goals): ব্যবস্থাপনা হলো একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের উপায় । এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যবস্থাপনাকে প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন কর্মপ্রচেষ্টা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হয়। লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকার্য পরিচালনা করা যায় না।


৩. সামাজিক প্রক্রিয়া (Social process) : ব্যবস্থাপনা হলো একটি সামাজিক প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি সমাজবন্ধ মানুষের কল্যাণসাধন ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য কাজ করে। 


৪. কাজ আদায়ের কৌশল (Technique of getting work) : ব্যবস্থাপনা হচ্ছে অন্যের মাধ্যমে কাজ আদায় করে নেওয়ার একটি কৌশলবিশেষ । কারণ একজন ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানে গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের জন্য কর্মীদেরকে কাজের যথাযথ দায়িত্ব প্রদান করেন। কার্যসম্পাদনের উপযুক্ত নির্দেশনা দান করেন, প্রেষণা দান করেন, নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সঠিকভাবে কাজ আদায় করে নেন। 


৫. জ্ঞানের পৃথক শাখা (Separate branch of knowledge) : বর্তমানে ব্যবস্থাপনাকে জ্ঞানের একটি পৃথক শাখা। হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। কেননা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছাড়া দক্ষতার সাথে ব্যবস্থাপকীয় কার্য পরিচালনা করা যায় না। 


৬. বিজ্ঞান ও কলা (Science and arts) : ব্যবস্থাপনা একদিকে যেমন একটি বিজ্ঞান, অপরদিকে তেমনি একটি কলা । বিজ্ঞান হচ্ছে কোনো বিষয়, ঘটনা বা অবধারিত সত্যকে জানার জন্য আহরিত ও গৃহীত জ্ঞানের সমষ্টি । অপরদিকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের জ্ঞানই হচ্ছে কলা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই। কারণ ব্যবস্থাপনাও একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য তার আহরিত জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করে।


৭. অর্থনৈতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ( Proper uses of Economic resources): উৎপাদনের কাজে লাগে এবং যার আর্থিক মূল্য হয়েছে তাকে অর্থনৈতিক সম্পদ বলে। যেমন- ভূমি, শ্রম ও মূলধন। ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ে নিয়োজিত এ সকল উপায়-উপকরণগুলোকে যথাযথভাবে সংঘটিত ও সমন্বিত করে সফলতার সাথে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করে ।


৮. সর্বজনীনতা (Universality): ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে সর্বত্রই এর গ্রহণযোগ্যতা বা প্রয়োগযোগ্যতাকে বোঝায়। অর্থাৎ যেকোনো প্রতিষ্ঠান তা ব্যবসায়িক বা অব্যবসায়িক, সরকারি বা বেসরকারি, ছোট-বড়, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল হওক সর্বত্রই ব্যবস্থাপনার উপস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তা সমান। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে Management is universal (ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন) এই কথাটি বলেছিলেন ।


পরিশেষে বলা যায়, ব্যবস্থাপনা হচ্ছে একটি সর্বজনীন, মানবীয় ও সামাজিক প্রক্রিয়া যা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে কিনা তা বিচার করে এর কার্যকারিতা পরিমাপ করা যায়।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট