সহকারী শিক্ষক
২৫ এপ্রিল, ২০২৪ ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ আকাইদ ও ফিকহ
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
মসজিদে দুনিয়াবী কথাবার্তা না বলা। সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে, মসজিদ গল্পের জায়গা নয়, নিছক ইবাদতের জায়গা। মসজিদে উচ্চ আওয়াজে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং উচ্চ আওয়াজে জিকির করাও জায়েজ নয়। তবে মসজিদে যদি কোনো ব্যক্তি নামাজ অথবা তাসবীহে লিপ্ত না থাকে তাহলে কতেক ইসলামি বিশেষজ্ঞরা সেটাকে জায়েজ বলেছেন। আবার কিছু ইসলামি বিশেষজ্ঞ সর্বাবস্থায় উচ্চ আওয়াজে জিকির ও তেলাওয়াত করা নাজায়েজ বলেছেন।
বর্তমানে মানুষ মসজিদের আদব পালনের ক্ষেত্রে অনেক অমনোযোগী, অধিকাংশ মানুষ মসজিদে প্রায়ই শোরগোল করে, এতে মসজিদের সম্মান ও মর্যাদার বরখেলাপ হয়। নবি করিম (স) বলেন, বাজারের হট্টগোল থেকে বেঁচে থাক এবং মসজিদকে দুনিয়াবী কথাবার্তা দ্বারা বাজারের সাদৃশ্য করো না। (১০) মুখে অথবা অন্য কোনোভাবে শরীরে দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ না করা। এতে করে অন্যান্য মুসল্লিদের কষ্ট হয়। রাসূলুল্লাহ (স) কাঁচা পেঁয়াজ বা কাঁচা রসুন খেয়ে অথবা দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন।
কেননা বনী আদম যে বিষয়ে কষ্ট অনুভব করে ফেরেশতাগণ তা থেকে কষ্ট অনুভব করেন। হাদিসে বলা হয়েছে, মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী কাঁচা পেঁয়াজ ও কাঁচা রসুন খেয়ে তোমরা মসজিদে প্রবেশ করা থেকে সাবধান থেকো, যদি খেতেই হয় তবে আগুনের সাহায্যে এগুলোর দুর্গন্ধ ধ্বংস করে নিবে। (ত্ববরানী)। (১১) যখন ইমাম খুতবা শুরু করবেন তখন মসজিদে উপস্থিত ব্যক্তির খুতবা শুনা ওয়াজিব। হোক সে ইমামের নিকটবর্তী বসে কিংবা দূরে, এমন কাজ যার দ্বারা খুতবা শুনার মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় সে কাজ করা গুনাহের শামিল। যেমন—খাওয়া, পান করা, কথাবার্তা বলা, চলাফেরা করা, তাসবীহ পড়া, সালাম দেওয়া, সালামের উত্তর দেওয়া বা শরীয়তের কোনো মাসায়েল বলা এ সমস্ত কাজ যেমন নামাজরত অবস্থায় নিষেধ, তেমনি খুতবার সময়ও নিষেধ। (১২) মসজিদে মোবাইল ফোনের ব্যবহার এখন অসহনীয় ও অমার্জনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষ করে নামাজের সময় মোবাইলের রিংটোনের কারণে ইবাদতের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। অনেক সময় তা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই মসজিদে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোন বন্ধ করা উচিত। ভুলবশত যদি মোবাইল খোলা থাকে আর নামাজরত অবস্থায় রিংটোন বেজে উঠে, তাহলে এক হাত ব্যবহার করে বা নিজ নামাজ ছেড়ে দিয়ে হলেও অপর মুসল্লিদের কথা ভেবে হলেও মোবাইল বন্ধ করে দিতে হবে। (১৩) নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করা একদমই উচিত নয়। এই সম্পর্কে মহানবি (স) এর একটি হাদিস আছে যার সারমর্ম এই—তিনি সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, যদি তোমরা নামাজ আদায়কারির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার গোনাহ সম্পর্কে জানতে তাহলে ৭০ হাজার বছর অপেক্ষা করতে তার পরও নামাজের সামনে দিয়ে যাতায়াত করতে না