Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

২৫ মে, ২০২৪ ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ

আল-কুরআন (القرآن) অবতরণ

পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে

  . লাওহে মাহফুজ  (لَوْحٍ مَحْفُوظ)-এর অর্থ;

  . বায়তুল ইযযাত কোথায় অবস্থিত;

  ৩. আল-কুরআন (القرآن) অবতরণের ঘটনা;

   ৪. আল-কুরআন (القرآن)- খণ্ড খণ্ডভাবে অবতীর্ণ হওয়ার কারণ;

  ৫.  ওহির পরিচয়প্রকারভেদ;

  ৬. আল-কুরআন (القرآن) অবতরণ পদ্ধতি;

সারমর্ম

আল-কুরআন (القرآن) অবতরণ

আয়াতের সঠিক বিশ্লেষণ ও নিগূঢ় মর্মার্থ উদ্‌ঘাটন করার ক্ষেত্রে কুরআন অবতরণের ঘটনা জানা অপরিহার্য বিষয়। তাই নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

আল-কুরআন সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুজ  (لَوْحٍ مَحْفُوظ) বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন  :  

- بَلْ هُوَ قُرْآنُ مَجِيدٌ، فِي لَوْحٍ مَحْفُوظ ٍ বরং এটা সম্মানিত কুরআন, যা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।" (সুরা বুরুজ : ২১-২২)

লাওহে মাহফুজ  (لَوْحٍ مَحْفُوظ)  অর্থ : সংরক্ষিত ফলক, লাওহুন’ (لَوْح) অর্থ : শিলা, ফলক বা লেখা যায় এরুপ বস্তু ইত্যাদি। 'মাহফুজ’ (مَحْفُوظ)  অর্থ : সংরক্ষিত। লাওহে মাহফুজ  (لَوْحٍ مَحْفُوظ) অর্থ : সংরক্ষিত ফলক।


# উক্ত লাওহে মাহফুজ থেকে মহানবি (সা.)-এর কাছে দুটি পর্যায়ে কুরআন অবতরণ হয়েছ; যেমন :

প্রথম পর্যায়ে : আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ কুরআন অখন্ডভাবে দুনিয়ার নিকটবর্তী প্রথম আসমানে বায়তুল ইযযাতে একসঙ্গে অবতরণ করেন। রমজামাসের কদর রাতে এই অবতরণ সংঘটিত হয় বলে স্বয়ং কুরআন থেকেই সুস্পষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায় :                              إِنَّا أَنزَلْتُهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِه   

 "নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) অবতরণ করেছি কদর রাতে।" (সূরা কদর : ১)

এখানে উল্লেখ্য,  বায়তুল ইযযাত-এর আভিধানিক অর্থ : সম্মানিত ঘর; আর ইসলামি পরিভাষায়,  ফেরেশতাদের ইবাদাতগৃহ।

Øপ্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আবু শামাহ (র)-এর মতে :

মহানবি (স)-এর নবুয়্যত লাভের পূর্বেই বায়তুল ইযযতে কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (স) ৪০ বছর বয়সে উপনীত হলে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিকট প্রথম কুরআন অবতরণ শুরু হয়।

vহি বুখারিতে বিবৃত হযরত আয়েশা (রা)-এর একটি হাদিস থেকে জানা যায় :

 সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি ওহি অবতরণ শুরু হয়। তারপর অন্তর্লোকে নির্জনতার প্রতি তাঁর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তিনি রাতের পর রাত হেরা পুহায় ধ্যান ও উপ্যসনামগ্ন অবস্থায় কালাতিপাত করতে থাকেন। অকস্মাৎ, এক পর্যায়ে তাঁর নিকট হযরত জিবরাঈল (আ) এসে বললেন,  পড়ুন’। রাসূলুল্লাহ (স) পড়তে অপারগতা প্রকাশ করলে পরপর তিনবার হযরত জিবরাঈল (আ) একই কথা বললেন, পড়ুন, একই সঙ্গে তিনি তাঁকে সজোরে তিনবার আলিঙ্গন করলেন। তৃতীয়বারের পরে রাসূলুল্লাহ (স) পড়তে সক্ষম হলেন এবং পড়লেন

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ-خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ-اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ-الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ-عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ-

বাংলা অনুবাদ :

১) প (হে নবি), তোমার রবের নামে ৷ যিনি সৃষ্টি করেছেন৷ (২) জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন৷

(৩) প, এবং তোমার রব ব মেহেরবান। (৪) যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিখিয়েছেন৷ (৫) মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানতো না৷  (সুরা আলাক : ১-৫)

হযরত জিবরাঈল (আ) প্রথম আসমান থেকে সর্বপ্রথম উপরিউক্ত পাঁচটি আয়াত নিয়েই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসেন। জাগতিক ইতিহাসে এভাবেই রাসূল (স)-এর প্রতি কুরআন অবতরণ শুরু হয় এবং সুদীর্ঘ ২৩ বছরে তা সমাপ্ত হয়।

বিশুদ্ধ অভিমত হলো, কদরের রাতে লাওহে মাহফু থেকে দুনিয়ার আসমানে একত্রে কুরআন অবতীর্ণ হয়। অতঃপর রাসুল (সা.)-এর তেইশ বছরের নবুয়তি জীবনে যুগজিজ্ঞাসার সমাধানে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে নাযিল হয়।


আল-কুরআন একসঙ্গে অবতীর্ণ না হয়ে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে-খন্ড খন্ডভাবে অবতীর্ণ হুওয়ার কারণ

রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি আল-কুরআনের সম্পূর্ণ একবারে একসঙ্গে অবতরণ হয়নি; বরং অবতীর্ণ হয়েছে, ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে-খন্ড খন্ডভাবে। স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রতি খেয়াল রেখে আল্লাহ যা প্রয়োজন মনে করেছেন, তা তার নিকট অবতীর্ণ করেছেন। কুরআনকে কেন অখন্ডভাবে একসঙ্গে অবতীর্ণ করা হল না, তার কারণ ও প্রেক্ষিত উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন :

وَقُرْآنَا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَلْنَاهُ تَنْزِيلاً

আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি খন্ড খন্ডভাবে যাতে তুমি তা মানুষের নিকট আবৃত্তি করতে পার ক্রমে ক্রমে এবং আমি তা ক্রমশ অবতীর্ণ করেছি। (বনী ইসরাঈল : ১০৬)

আল-কুরআনকে খণ্ড খণ্ডভাবে দীর্ঘদিনব্যাপী নাযিল করার বহু কারণ নিহিত ছিল; যথা :

ক. এক কুরআন একসঙ্গে নাযিল হলে মানুষের জন্য তা সঙ্গে সঙ্গে আমল করা অপরিহার্য হয়ে পড়ত; আর জাহিলি সমাজে তা হত বেমানান।

. অল্প অল্প করে কুরআনের বাণী শুনিয়ে সে অনুযায়ী লোকদের প্রাথমিকভাবে অভ্যস্ত করে তোলা যুক্তিসঙ্গত। অভ্যস্ত হয়ে পড়লে ধীরে ধীরে তাদের কাছে অন্যান্য বিধান আসে।

. আল্লাহদ্রোহী কাফিরদের নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে রাসূল (স) মাঝে মাঝে ব্যাকুল ও হতাশ হয়ে পড়তেন। আল্লাহ তাঁকে নতুন নতুন আয়াত নাযিল করে সান্ত্বনা দিতেন। তাঁর মনমানসিকতা সুদৃঢ় করে তুলতেন।

ঘ. রাসূল (স) ও তাঁর সাহাবীরা কাফিরদের মোকাবিলায় যে সমস্যা ও বাধার মুখোমুখি হয়েছেন, তখন ক্রমশ কুরআন নাযিল করে আল্লাহ সঠিকভাবে যথাযথ তার সমাধান দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :

 وَ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡ لَا نُزِّلَ عَلَیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ جُمۡلَۃً وَّاحِدَۃً ۚۛ کَذٰلِکَ ۚۛ لِنُثَبِّتَ بِهٖ فُؤَادَکَ وَ رَتَّلۡنٰهُ تَرۡتِیۡلًا

"কাফিররা বলে, সমগ্র কুরআন তাঁর নিকটে একবারে অবর্তীণ করা হল না কেন? এভাবেই (অল্প অল্প করে) অবতীর্ণ করেছি যাতে আমি তোমার হৃদয়কে তা দ্বারা সুদৃঢ়-মজবুত করতে পারি এবং ক্রমে ক্রমে স্পষ্টভাবে তা আবৃত্তি করেছি। তারা তোমার নিকট এমন কোন সমস্যা উপস্থিত করেনি যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করিনি।" (সূরা ফুরকান : ৩২-৩৩)

ঙ. কাফিরদের বস্তু প্রশ্ন ও সন্দেহ-সংশয়ের জবাব দেওয়া হয়েছে কুরআনে। কুরআন একবারে নাযিল হলে সেগুলো উষাশিত হওয়ার পূর্বেই জবাব দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত মনে হতো না।

চ. কুরআন মাজীদের বহু বিধান এমন ছিল, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর ছিল। নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা বাতিল করা হয়েছে, নতুন বিধান ঘোষণার মাধ্যমে। সম্পূর্ণ কুরআন একত্রে অবতীর্ণ হলে তা সম্ভব হত না। যুগোপযোগী বিধান নাযিলের মাধ্যমে মানুষকে কঠিন থেকে কঠিনতর বিধান পালনে উৎসাহিত করা হয়েছে।

ছ. এটি কুরআন মাজীদের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে।


ওহীপরিচয়প্রকারভেদ

ওহীর শাব্দিক অর্থ : ইঙ্গিত করা, লেখা, সংবাদ দেওয়া, ইলহাম হওয়া ইত্যাদি।

শরীআতের পরিভাষায় : আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীগণকে কথার মাধ্যমে বা ফেরেশতা পাঠিয়ে কিংবা স্বপ্নযোগে অথবা ইলহামের সাহায্যে কোনো বিষয় জানিয়ে দেওয়াকে ওহী বলা হয়।

vওহী প্রধানত দু'প্রকার-
1.ওহীয়ে মাতলু (পঠিতব্য ওহী) : যে-ওহীর ভাব, শব্দ ও ভাষা, অর্থ, বিন্যাস সবকিছুই মহান আল্লাহ প্রত্যক্ষ ওহীর মাধ্যমে নাযিল করেছেন এবং যা সংরক্ষণ ব্যবস্থাও করেছেন। এ প্রকারের ওহীকে ওহীয়ে মাতলু (পঠিতব্য ওহী) বা ওহীয়ে জলী (প্রত্যক্ষ ওহী) বলা হয়। এটাই আল-কুরআন।
2.ওহীয়ে গাইরে মাতলু (অপঠিতব্য ওহী) : যে ওহীর ভাব আল্লাহর পক্ষ থেকে, কিন্তু এর ভাষা ও শব্দ স্বয়ং রাসূল (স)- এর তাকে ওহীয়ে গাইরে মাতলু (অপঠিতব্য ওহী) ও ওহীয়ে খফী (প্রচ্ছন্ন ওহী) বলা হয়। এ প্রকারের ওহী হচ্ছে রাসূলুল্লাহ(স)-এর হাদীস। এ উভয় ওহী একই উৎস থেকে উৎসারিত।
qওহী অবতরণের পদ্ধতি

আল-কুরআন মহান আল্লাহ পক্ষ হতে রসুল (স)-এর প্রতি সরাসরি বা হযরত জিবরাইল (আ) এর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে । তা ছাড়া অন্যভাবেও তাঁর উপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁর উপর কুরআন ব্যতীত অন্য ওহীও অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁর নিজস্ব উক্তি হাদিসও ওহী। কুরআন ও হাদিস দুটি বিষয়ই আল্লাহর ওহী। এই ওহী অবতরণের পদ্ধতিগুলো ছিল নিম্নরূপ :

১.সত্য স্বপ্ন (الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ) :

নবি-রসূলগণের স্বপ্নও ওহী। বিশেষ করে হরত মুহাম্মদ (স) আল্লাহর অনেক ওহী লাভ করেছেন স্বপ্নের মাধ্যমে। এই স্বপ্নকে বলা হয় সত্য বা বাস্তব স্বপ্ন। হযরত আয়েশা (রা) ইরশাদ করেন :

রসূলুল্লাহ (স) এর উপর ওহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তাঁর জাগতিক পর্যায়ের স্বপ্ন দ্বারা তিনি অবহিত হতে পারেন যে, যথাশীঘ্র তার উপর আল্লাহর প্রত্যক্ষ ওহী কুরআন অবতীর্ণ হবে। রাসূলুল্লাহ (স) তার মাদানী জীবনে যে স্বপ্ন দেখেন তা আল-কুরআনে এভাবে এসেছে :                    لقد صدق الله رسوله الرؤيا بالحق لتدخلن المسجد الحرام 

আল্লাহ তার রাসূলের স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন যে, তোমরা অবশ্যই মসজিদ হারামে প্রবেশ করবে---

(সূরা আল ফাতহ : ২৭)

. ঘণ্টা ধ্বনি পদ্ধতি (مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرِس) 

ঘণ্টা ধ্বনির পদ্ধতিতে মহানবী (স)-এর উপর ওহী অবতীর্ণ হত। ওহী নাযিল হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত হতে তাঁর কানে এ ঘণ্টা ধ্বনি বাজতে থাকত। হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত হারিছ ইবন হিশাম রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করেন-                  كيف يأْتِيكَ الْوَحَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. 

হে আল্লাহর রাসূল। আপনার নিকট কিভাবে ওহী আসে?

এর উত্তরে তিনি বলেন : أحْيانًا يَأْتِيني مِثْلَ صَلْصَلَة الجَرَس، وهو أَشدُّه عليَّ، فيَفْصِمُ عنِّي وقد وَعَيْتُ عنه ما قال،

কখনও কখনও আমার নিকট ওহী আসে ঘণ্টা ধ্বনির মত। এ প্রকার ওহী আমার খুবই কষ্টকর হতো এবং এতে আমি ঘর্মাক্ত হয়ে যেতাম তবুও সে (জিবরাঈল আ) যা বলত আমি তা তাৎক্ষণিকভাবে আয়ত্ত করে নিতাম।

৩. অন্তর্লোকে ঢেলে দেওয়া পদ্ধতি (القاء في القلب) 

রাসুলুল্লাহ (স) এ বিষয়ে ইরশাদ করেন :    روح القدس نفت في روعي - إ ن 

রুহুল কুদুস জিবরাঈল (আ) আমার অন্তর্দোকে ঢেলে দিয়েছেন বা ফুঁকে দিয়েছেন।

৪. ফেরেশতাগণের নিজ নিজ আকৃতিতে আগমন  

হযরত জিবরাঈল  রাসূল (স) এর নিকট নিজ আকৃতিতে আগমন করতেন, আবার কখনও কখনও মানব আকৃতিতেও আগমন করতেন। সহীহ হাদীস দ্বারা জানা যায় হযরত জিবরাঈল (আ) কখনও কখনও মানুষরূপে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এসে আল্লাহর ওহী পৌঁছে দিতেন। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত দাহিয়াতুল কালবী (রা) এর আকৃতিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেরেশতা ওহী নিয়ে আসতেন। অন্য সাহাবী বা অপরিচিত লোকের আকৃতিতেও ফেরেশতা ওহী নিয়ে আসতেন।

৫. নিজ আকৃতিতে ফেরেশতার আগমন 

আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈল (আ)-কে যে-আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন সে-আকৃতিতেও তিনি রাসূল (স)-এ নিকট ওহী নিয়ে আসতেন। রাসল (স) কুরআনের প্রথম ওহী যখন হেরা গুহায় লাভ করেন, তখন হযরত জিবরাঈল (আ) নিজ আকৃতিতে আগমন করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তিনবার তাঁকে তাঁর নিজ আকৃতিতে দেখেছেন বলে জানা যায়; (১) একবার গারে হেয়ায় (২) একবার মিরাজকালে সিদরাতুল মুনতাহায় (৩) আরেক বার ওহী সাময়িক বন্ধের পরে পুনঃ ওহী চালুর সময়।

. পর্দার অন্তরাল হতে (من وراء الحجاب)

মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি তার জাগ্রতকালে পর্দার আড়াল হতে সরাসরি ওহী নাযিল করেছেন। পর্দার অন্তরালে, আর পর্দার বাইরে মুহাম্মদ (স)-এর সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন। মিরাজ রজনীতে আল্লাহ এরূপ রাসূল (স)-এর সঙ্গে এরূপ কথা বলেছেন এবং এ পদ্ধতিতেই তার প্রতি প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত এবং পরবর্তীতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বিধান অবতীর্ণ ও ফরয হয় এই মিরাজ রজনীতে।

৭. তন্দ্রাকালে ওহী লাভ

রাসূলুল্লাহ (স) যেমন জাগ্রত অবস্থায় ওহী পেয়েছেন, তেমন ওহী পেয়েছেন নিদ্রিত অবস্থায়। একটি রিওয়ায়াত হতে জানা যায় যে, রাসূল (স) এ পদ্ধতিতে সাতবার ওহী পেয়েছেন।

. হযরত ইসরাফিল (আ)-এর মাধ্যমে ওহী লা

আল্লাহ তাআলা কখনও কখনও হযরত ইসরাফীল (আ)-এর মাধ্যমে রাসূল (স)-এর নিকটে ওহী পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়। খুব কমই তিনি ওহী নিয়ে এসেছেন।

মন্তব্য করুন